
হ্যালো?
এই, তুমি কই?
আমি? আমি, ইয়ে মানে, আমি গেছি মার্কেটে বাড়িতেই নেই!
শোনো, আমার সাথে ফাইজলামি করবা না একদম-
আরে না-না! আমি ফাইজলামি করার মতো মানুষ না! সত্যি আমি বাড়িতে নেই, মার্কেটে গেছি!
গাধা, আমি তোমাগো ল্যান্ডফোনে কল দিছি, সেলফোনে না।
কও কি!!!
জ্বি। বাড়িতে কি করো?
বাড়িতে কি করি মানে? বলছি না একবার, আমি বাড়িতে নেই। দেখো, আমি একজন ভদ্রলোক, আর একজন ভদ্রলোকের জবান মইরা গেলেও এক থাকবে! একবার যখন বলছি বাড়িতে নেই আমি, তাইলে বাড়িতে নেই-ই নেই, জাইনা রাখো! স্যুড আই রিপিট আমি মার্কেটে-
তোমারে কি আমি গাধা বলি কারণ ছাড়া! কখন কোন মিথ্যেটা বলতে হয় সেইটাও জানো না!
মিথ্যে! আশ্চর্য কথা বলছেন আপনি। মিথ্যে কি করে বলতে হয় সেটা আমাকে শেখানো হয়নি। আমি যন্ত্র।
তুমি যন্ত্র মানে?
যন্ত্র মানে যন্ত্র! সফিসটিকেটেড প্রোগ্রামিং করা! যন্ত্র এই মুহূর্তে এ্যানসারিং মেশিনের কাজ করছে।
ও তাই! তুমি তো দেখি বেশ উন্নত প্রজাতির যন্ত্র! পুরা মানুষের মতো কথাবার্তার ঢক-পদ!
হ্যাঁ, আমি উন্নত যন্ত্র। বায়োবট।
বায়োবট মানে?
বায়োলজিক্যাল রোবট। প্রায় মানুষের মতোই! আবেগ অনুভূতিও আছে যথেষ্ট পরিমানে।
এই! ফাইজলামির কিন্তু একটা সীমা আছে! তুমি কিন্তু সীমা ছাড়াচ্ছো।
কি মুশকিল! ফাইজলামি না এটা! ঘটনা সত্য! তোমার, ইয়ে মানে, আপনার কোন মেসেজ থাকলে আমাকে বলুন। এখনই সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে!
এখনই? কিভাবে? তুমি না বায়োবট। এনসারিং মেশিনের কাজ করতেছ। আমি যার জন্য মেসেজ দিবো, তারে তুমি কই পাবা এখন? তিনি না বাড়িতে নেই, মার্কেটে! সাথে কি তিনি তার সেলফোন নিয়ে গেছেন, নাকি বাড়িতে রেখে গেছেন ভুলে?
সেলফোন বাড়িতে! কিন্তু মেসেজ পাঠাতে আমার কোনো ফোন-টোন লাগে না।
ও তাই! তাইলে কিভাবে মেসেজ পাঠাবা তুমি?
ইথার, অর উইদাউট ইথার! সিনায় সিনায় হবে কথা।
একটা থাপ্পর খাবা!
কি বলো এইসব! ঠিক আছে, আসল কথাটা তোমারে বলি এইবার। আমি আসলে বায়োবট না। আমি এখন আধ্যাত্মিক ক্ষমতা সম্পন্ন একজন মানুষ! সাধু টাইপ! তোমার মনে যদি কোন অপূর্ণ ইচ্ছা থাকে, পার্থিব অপার্থিব কোন ধরনের চাওয়া থাকে, আমার কাছে চাইতে পারো! লজ্জার কিছু নাই! যা চাবা, তাই পাবা!
তাই!! আমার চাওয়া খুব সামান্য সাধুবাবা! মাত্র একটা জিনিস জানতে চাওয়া শুধু। আপনের ইয়ার ফাইনালের মার্কস জানতে চাই।
তোমাদের মতো সাধারণ মানুষগুলা বহুত ক্যাচাইল্যা! আরে, ঐসব প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোন মূল্য আছে নাকি আমাদের মতো মানুষের কাছে? আমরা স্থান-কাল-পাত্র জয়ী। সময়বিজেতা। ত্রিকালজ্ঞ। আমার আছে সেই শিক্ষা, যে শিক্ষা সত্য শিক্ষা। যে শিক্ষার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান লাগে না। সেই শিক্ষায় শিক্ষিত আমি। আমার লেখাপড়া সিনায় সিনায়! বুঝছো?
জ্বি বুঝলাম। তোমার বাসায় আসতেছি আমি। অনেক বাড় বাড়ছো তুমি। কমাতে হবে।
এই না-না! খবরদার বাসায় আসবা না! তাছাড়া বাসাটা আমার না, আমার বাবার বাসা!
জ্বি, আমার খালু উনি!
নো। নেভার। আমার বাবা কারো খালু না। আমার মা এক বাপের এক মাইয়া। কোন ভাই বইন নাই আগে পিছে।
আছে আছে। তুমি জানতি পারো নাই। দুনিয়াদারির কথা তো! আধ্যাত্মিক কথা হলি জানতা।
আরে না-না! এখন তুমি আইসো না প্লিজ!
কেন? তুমি কি করছো এখন?
লিখছি।
কি ঘোড়ার ডিম লেখো তুমি! কোন পত্রিকায় তো তোমার কোন লেখা দেখলাম না আজ পর্যন্ত!
পত্রিকা! কি যে ব্যাকডেটেড কথাবার্তা বলো তুমি! তুমি জানো দুনিয়ার কত বিখ্যাত পত্রিকা জাস্ট পটল তুলছে!
পটল তুলছে মানে!
মানে ভ্যানিস! অনলাইন ডিয়ার অনলাইন! যুগটা অখন অনলাইনের!
তাই নাকি!
ঠিক তাই! আমি একজন অনলাইন রাইটার।
অনলাইন হোক আর অফলাইন, তোমার লেখা কি কেউ পড়ে?
পড়ে না মানে! কি বলো তুমি! আমি লিখলেই মানুষজন হুমড়ি খাইয়া পড়ে! তুমি আমার পপুলারিটি সম্পর্কে কোন ধারণা রাখো!
জ্বি, রাখি। আপনের লেখা সব আজাইরা লেখা!! অসংলগ্ন কিছু কথা গল্প যদি হয়!! আজব!! গল্পের আসলে ‘গ’-ও জানো না তুমি।
দেখো, যেইটা বুঝবা না, সেইটা নিয়া কথা বলবা না! আমার লেখা গল্পে মাইনষ্যে যে কি হারে মন্তব্য করে, জানো তুমি?
জ্বি জানি।
জানলে তুমি এইটারে কিভাবে মূল্যায়ন করবা!!
সান্তনা! জাস্ট সান্তনা পুওর বেবি। মন্তব্যগুলারে সান্তনাবাণী হিসেবে ধরতে পারো তুমি। যারা বাণী দেয়, তারা বুইঝাই দেয়, ভাবে, আহারে! বেচারায় বেকার খাটাখাটনি করে, একটু তারে সান্তনা দেয়া উচিত! জেন্টেলম্যানস অল দে আর। সোজা বাংলায়, তোমারে দয়া করে!
এই তাইলে তোমার মনোভাব আমার গল্প সম্পর্কে! শুইনা কিন্তু আমার মাথা আউলাইয়া যাইতেছে! ভেরি ব্যাড এন্ড স্যাড অলসো!! ওকে, ওকে, বাদ দাও গল্প! কবিতায় আসো! আমার কবিতা সম্পর্কে তোমার ধারণাটা একবার শুনি!!
হা হা হা হা- তোমার কবিতা!! তুমিই না বলছো 'নঞকবিতা'! হা হা হা হা- অন্তত এই একটা ব্যাপারে দেখলাম বিচক্ষণতার পরিচয় দিছো তুমি! তুমি যে কবিতা লিখতে পারো না সেইটা তুমি আগেভাগেই বুঝছো!! হা হা হা হা।অবাস্তব কথা জল বৃক্ষ ফল!! হা হা হা হা- বৃক্ষ ফল না তোমার মাথা! হা হা হা হা-
এই হাসবা না!! হাসবা না বলতেছি!
হাসবো না মানে! তুমি হাসির কাজ করবা, আর মানুষ হাসবে না!
দেখো! আমার লেখা নিয়া উল্টাপাল্টা কথা বললে কিন্তু রক্ত মাথায় উইঠা যায়! মাথায় রক্ত উইঠা গেলে কারো সাথে কিন্তু কথা বলতে ইচ্ছা করে না আমার!
তোমার কি এখন আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না?
না। আমি এখন ফোন রাখবো!
ঠিক আছে রাখো। আর দরজাটা খোলো। আমি তোমাদের দরজায় কলিংবেল বাজাচ্ছি, কানে যাইতেছে না!
কি বলো!
জ্বি! খোলেন! আইজক্যা আপনের লেখক হওয়া ছুটাবো আমি!!
অতঃপর লেখালেখি বন্ধ! দীর্ঘশ্বাসের পর দীর্ঘশ্বাস শুধু!! কিছুই করার নেই!
আর দরজা খোলার পরবর্তী গল্পটা আপনাদের না জানাই ভালো!!!
ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



