পিলখানায় বিডিআর সৈনিকদের বিদ্রোহ শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মাঝে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কমান্ডিং অফিসারেরা পিলখানায় আক্রান্ত অফিসারদের থেকে সংবাদ পান। যেহেতু, বিডিআর সৈনিকদের অফিসারেরা বেংগল রেজিমেন্টের সদস্য, পাখী-মারা জেনারেল মইনই বিডিআর'দের চীফ কমান্ডিং অফিসার।
আক্রান্ত অফিসারেরা নিজেদের বন্ধু বান্ধব, ব্যাচমেট সবাইকে অনুরোধ করতে থাকে তাদের প্রাণ রক্ষা করার জন্য। এসব অফিসারেরা, সাথে সাথে কমান্ডিং অফিসকে এই ভয়ংকর পরিস্হিতির কথা জানায়।
একজন জেনারেলের প্রথম দায়িত্ব, যেকোন অবস্হায় বিদ্রোহকে আয়ত্বে আনা; হতাহতের সম্ভাবনা থাকলে, সবচেয়ে কম প্রাণের বিনিময়ে পরস্হিতিকে কন্ট্রোলে আনা।
পিলখানা থেকে সংবাদ পাওয়ার ৫ মিনিটের ভেতরেই, জে: মইনকে পরিস্হিতি আয়ত্বে আনার জন্য ব্যবস্হা নেয়ার দরকার ছিল; ১০ মিনিটের মাঝে কমান্ডোরা পিলখানায় পৌঁচার দরকার ছিল; ২০ মিনিটের ভেতর, কমপক্ষে অফিসারদের রক্ষার চেস্টা করার দরকার ছিল।
তিনি কোন ব্যবস্হা না নিয়ে, সরকারের অসামরিক লোকদের সমস্যার কথা জানান, যারা ঘটনার মাথামুন্ড বুঝার মত অবস্হায় ছিল না। এ ধরণের ঘটনা, তাদেরকে ব্যখ্যা করতে লাগে ঘন্টা বা তার বেশী সময়; তারপর, তারা বুঝতে পারে, বা নাও বুঝতে পারে; বুঝলে বা কি; তারা সিভিলিয়ান মাথায় ভাবতে শুরু করবে; তারা মিলিটারী ইমারজন্সীর জন্য নিশ্চয় ট্রেনিং পায়নি; মইন দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০/২৫ বছর কমান্ডে থেকে তা শিখেছে।
মইন কি জানতো, বা কি জানতো না, সেটা পরের ব্যাপার; তার কোন বাহিনী এ ধরণের সমস্যার জন্য তৈরি ছিল না; তার কমান্ডো বাহিনীর 'ক'ও ছিল না আশে পাশে; তার হেলিকপ্টার কোথায় ছিল কে জানে। সে নিজে কি করবে বুঝতে না পেরে, সবকিছু সরকারের বেসামরিক ব্যক্তিদের হাতে ছেড়ে দেয়। পুরো ব্যাপার চলে যায় পল্টনের বক্তা ও মিচিলের নেতাদের হাতে; ফলাফল, মইনের ৫৭ জন অফিসার ও ১১ জন সৈনিক নিহত।
১৯৭১ সালে, পাকিস্তানের সাথে পুরো যুদ্ধে বাংলাদেশ বাহিনী এত অফিসার হারায়নি; পাখী-মারা জেনারেলের কমান্ডে থাকলে কার প্রাণ কিভাবে যাবে কেহ অনুমানও করতে পারার কথা নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৮:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



