রাজনীতিবিদ মারা গেলে পার্লামেন্ট ভবনে, কবি ও লেখক মরলে বাংলা একাডেমীতে, শিক্ষক মরলে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে, ডাক্তার মরলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে, চাষী মরলে ময়মংসিংহ কৃষি বিদ্যালয়ে কবর দিতে চায় জাতি? এগুলো লজিক্যাল ভাবনা নয়।
জিয়া হয়তো জানতেন যে, উনার মৃত্যু সন্নিকটে; কারণ, বেংগল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা যখন উনার বিপক্ষে গেছে, তখন উনার বেঁচে থাকার দিনগুলো নাম্বারিং করা হয়ে গিয়েছিল; সৈনিক হিসেবে তিনি মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে, কবরের যায়গা ইত্যাদি ঠিক করে যাননি; তিনি জানতেন যে, মৃত্যুর পর, আর কোন কিছুই মুখ্য নয়।
জেনারেল জিয়াকে যারা কবর দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দামী ও বড় পার্লামেন্ট এলাকায়, তারা সবাই ছিল ক্রিমিন্যাল ও ষড়যন্ত্রকারী; এরা জিয়ার কবর দেখায়ে ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখেছিল, এবং সফলও হয়েছে। কোন অজুহাতে কবরে গিয়ে শতশত লোক এমপি হয়েছে; লাখ লাখ লোক ব্যবসা বাণিজ্য বাগিয়ে নিয়েছে।
জিয়ার কবরে না গিয়ে প্রেসিডেন্টের পদও হারিয়েছে।
যাক, জাতি এখন শিক্ষিত হয়ে উঠছে, ক্রমেই সবকিছু শৃংখলার মাঝে ফিরে আসবে; কবর হবে করবের যায়গায়, পার্লামেন্ট থাকবে পার্লামেন্টের যায়গায়। জাতির প্রতি যাদের অবদান আছে, মানুষ তার কবর দেখতে চাইবেন, সেখানে যাবেন। অবদান না থাকলে, তাইলে তাজমহল গড়তে হবে, তখন আবার মানুষ দেখতে যাবে।
জিয়ার কবর সন্মানের সাথে সরায়ে ফেলা দরকার; এবং তাই করা হবে বলে সরকার জানায়েছে।
প্রশ্ন হতে পারে, শেখ সাহেবের কবর ওখানে থাকলে, আওয়ামী লীগ কি উহা সরাতে দিতো? মোটেই না ; তখন তাদের মতের বাইরে গিয়ে সরাতে হতো। কিন্তু আপনারা দেখেছেন যে, শেখ সাহেবকে কবর দেয়ার সময় আওয়ামী লীগের মতামত নেয়া হয়নি। জেনারেল জিয়ার কবর সরাতে কি বিএনপি'র মতামত নিতে হবে? মোটেই না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


