ফ্রান্স শেষ অবধি নিজ দেশের বাইরে তেমন কিছু করবে না, সামান্য কিছুদিন হয়তো বোমা ফেলবে; কারণ, ফ্রান্সের মানুষ সিরিয়া ও ইরাকে এসে প্রাণ দেয়া সঠিক মনে করবে না; এবং আসলেই তাই হওয়ার দরকার। কয়েকদিনের মাঝে ফ্রান্স এই ধাক্কাটির সাথে তাল মিলিয়ে উঠবে; তরপর ভাবার শুরু করবে, ইরাক ও সিরিয়ায় করার কি আছে? ওখানে ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানী, হল্যান্ড বা নরওয়ের করার কিছু নেই; যতটুকু করতে হয়, আমেরিকা ও রাশিয়াই করবে।
সুন্নিরা চায় পুরো ইরাক থাকুক, কিন্তু তাদের সেই ক্ষমতা নেই; তারা চায় সিরিয়াও থাকুক; কিন্তু তারা যে পথে এগুচ্ছে, সেইভাবে সম্ভব নয়; কুর্দীরা একটা নতুন রাস্ট্র করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে; পারলে সব কুর্দীই যুদ্ধ করতে চায়; আসলে যুদ্ধই এখন তাদের একমাত্র কাজ হয়ে গেছে; শিয়ারা ধরে নিয়েছে যে, ইরান যতদিন আছে, সুন্নী ও কুর্দীদের কোন অধিকার নেই ইরাকে ও সিরিয়ায়। উপরে উপরে আমেরিকাকে যে যাই বলুক, ভেতরে ভেতরে তারা পরস্পরকে উৎখা্ত করার চেস্টা করে যাচ্ছে।
এ ধরণের যুদ্ধে ফ্রান্স এখন আর তেমন সুবিধা করতে পারবে না; এখন ফ্রান্সের মানুষ শিক্ষিত জীবন যাপন করতে চায়; তারা এসে আরবদের, আমেরিকান ও রাশিয়ানদের সাথে মিলে হত্যায় অংশ নিতে চাইবে না।
সামনে ফ্রান্সের ইলেকশান আসছে, তাই প্রেসিডেন্ট হয়তো জাতির সেন্টিমেন্ট বুঝে অনেক কিছু বলছে; কিন্তু সে নিজেও তো ফরাসী; ফ্রান্সে আজকাল সৈন্য বাহিনীর জন্য লোক পাওয়াই সমস্যা; দেশের বর্ডারে ও ভেতরে দেয়ার জন্য অনেক সৈন্যের দরকার।
মুসলামানেরা অনেকেই ক্রুসেডের ভলনটিয়ারের মতো যুদ্ধ করার জন্য ইরাক ও সিরিয়ায় সমবেত হচ্ছে , মুসলিম দেশগুলোতে শান্তি নেই; ইউরোপে সেইদিন নেই আর; ফলে, ফ্রান্স হয়তো দেশের ভেতরে অনেক পদক্ষেপ নেবে, নতুন করে মুসলমানদের আসা সহজ করবে না; কিন্তু ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের নতুন বড় কোন ভুমিকা থাকবে না; পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্টকে বাহিরে সৈন্য পাঠতে দেবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



