কয়েকটা পোস্ট দেখলাম, যেখানে দাবি করছেন যে, সরকার কোন এক জাপানী সেতুর নকসা চুরি করে পদ্মাসেতু বানাচ্ছে! এগুলো বেকুবী ছাড়া আর কিছু নয়; কারণ, AutoCAD জানা যেকোন ইন্জিনিয়ার কয়েক ঘন্টায় এরকম একটা সেতুর বাহিজ্যিক নকসা ( স্ট্রাকচারেল কালকুলেশান ব্যতিত) বানাতে পারে আজকাল, এটা সমস্যা নয়; আসলে আপনি সিভিল ইনজিনিয়ার না হয়ে, কয়েকদিনের ট্রেনিং নিলে, এ ধরণের একটা ছবি নকসা তৈরি করতে পারবেন; কিন্তু সেতুর ইনজিনিয়ারিং হিসেব চুরি করা যাবে না; জাপানীরা সেটাকে "পাবলিক ডাউনলোডের" জন্য গুগলের সার্ভারে রাখেনি।
চীন হলো নকলের রাজা, চীন যখন সেতু করছে, নকসা বাংলাদেশ সরকারের জন্য সমস্যা নয়; ওরা সব ডিজাইন ও হিসেব করেই কাজে নেমেছে; চীন বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ব্রীজ তৈরি করেছে কয়েকদিন আগেই।
এ ধরণের পোস্ট প্রমান করছে যে, বাংগালী তরুণ ব্লগারেরা টেকনোলোজীর দিক থেকে এখনো পাথরের যুগে বসবাস করছেন; এগুলো দু:খজনক।
পদ্মাসেতু নিয়ে সরকার যেসব তেলেসমাতি করেছে, সেগুলো ফাইন্যানসিয়াল সমস্যা; পদ্মাসেতুর যে মুল্য দেখানো হচ্ছে, প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, এখানে ভয়ংকর সমস্যা আছে; আসলে সেতুর দাম এতো হবে না; চীনারা এর থেকে অনেক কম দামে দামে সেতু করবে, সন্দেহ নেই; এবং সরকারের লোকেরা সেটা জানে; বাকীটুকু বুঝে নেন।
আরেকটা ব্যাপার হলো, এখন সেতুর যে দাম ধরা হয়েছে, ২/৩ বছরে সেই দামের থেকে দাম বাড়ানো হবে, 'চেন্জ ও মোডিফিকেশানের' নামে; চীনারা এতে সাহায্য করবে; এগুলো হলো জাতিকে সেতু দিয়ে খুশী করা ও পকেট কাটা; এগুলো সমস্যা, নকসা কোন সমস্যা নয়।
বিশ্বে ৬ কিলো মিটারের বেশী লম্বা সেতু প্রতিদিন ৫/১০ টা তৈরি হচ্ছে না; ফলে, পদ্মাসেতুতে কার নকসা ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রটিটি দেশের সেতু কোম্পানীর লোকেরা জানে! যাক, পোস্টগুলো আসাতে ভালো হলো, সেতুর কথা জানলাম, সাথে সাথে সেতু বুঝে না কি পরিমাণ টেকনোলোজিস্ট, সেটাও জানা হলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





