আমরা এক নম্বর সেক্টর এলাকায় ছিলাম, পাকী বাহিনী ক্রমেই চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করছে, লেজ তখনো কুমিরায়; সেখান থেকে আর্টিলারী দিয়ে নিজেদের পলায়নরত সৈনিকদের কাভার দিচ্ছিল; সাধারণ মানুষকে ঢাকা ট্রাংক রোডে উঠতে দেয়া হচ্ছিল না মুক্তিযোদ্ধা পক্ষ থেকে; মিত্র বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁজোয়া ও ট্রাক সুবিধা মতো পজিশন নিয়ে ক্রমেই সামনের দিকে এগুচ্ছে। দিনের ১১ টার দিকে সামনের দিকে থেকে সংবাদ দেয়া হলো যে, আর সামনে যেতে পারবে না কেহ।
দিনের ১২টার কিছু পরে, হঠাৎ গ্রামের দিকে থেকে হাজার হাজার মানুষ ট্রাংক রোডের দিকে দৌড়ায়ে আসতে দেখা গেলো; প্রায় মানুষই খালি গায়ে, লুন্গী-পরা, সবাই পাগলের মতো দৌড়ায়ে সাঁজোয়া বাহিনীর দিকে আসছে; দুর থেকে বুঝা যাচ্ছিল, এরা সবাই খালি হাতে আসছে; পেছনের সৈনিকেরা এদের বাধা দিতে চেস্টা করছিল; কিন্তু অসম্ভব ব্যাপার, মানুষ চীৎকার দিচ্ছে, কিছুই বুঝার উপায় নেই; ওরা নিজেদের মাঝে গলাগলি করছিল, তারপর দৌড়ায়ে সামানে আসছে; অনেক কস্টে কিছু শব্দ বুঝতে পারলাম, "সারেন্ডার, সারেন্ডার"; বুঝতে বাকী রলো না যে, পাকীরা বোধ হয় সারেন্ডারের কথা বলেছে।
এর ১০ মিনিট পর, এই মানুষের স্রোতের মাঝে আটকে পড়া একটি ইপিআর'এর ট্রাক থেকে ঘোষণা দিল যে, পাকীরা ঢাকাতে আত্মসমর্পন করেছে।
এবার শুর হলো মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সৈনিকদের চীৎকার; মুক্তিযোদ্ধা দৌড়াচ্ছে, উপরের দিলে গুলি করছে, গ্রামের মানুষের সাথে সবাই মিশে একাকার।
শহরের দিকে যাওয়া নিষিদ্ধ, আমরা চাচ্ছিলাম উত্তর দিকে সরে যেতে; কিন্তু মানুষ রাস্তাঘাট, ট্রাংকরোড ব্লক করে দিয়ে শ্লোগান দিয়ে, নাচছে, চীৎকার দিচ্ছে।
৯ মাসের যুদ্ধের অবসান, মুক্তির স্বাদ, আগামী দিনের আশা মানুষের সকাল দু:খ, আপনজন হারানোর কস্ট মুছিয়ে দিয়েছে; মানুষ জয়ী, মানুষ মুক্ত, মানুষ আশাবাদী ছিল সেদিন রাত অবধি; গভীর রাতেও মানুষ রাস্তায় ছিল, আগুন জ্বলায়ে শীত নিবারণ করে, ৯ মাসের গল্প করছিল, বিজয়ের গল্প করছিল।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৭:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





