মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সন্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়েছে ২৭ শে মার্চ, চট্টগ্রামের কুমিরায়; পাকী বাহিনীর ৮৫ ট্রাক সৈন্য চট্টগ্রাম দখলের জন্য কুমিল্লা থেকে রওয়ান হয়ে, মিরসরাই শুভপুর ব্রীজে প্রথম বাধা অতিক্রম করে, কুমিরা পৌঁছলে, তারা বেংগল রেজিমেন্টের এ্যামবুশে পড়ে।
১৭ই এপ্রিল মুজিব নগরে বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়, তাজুদ্দিন সাহেব প্রধানমন্ত্রী; মন্ত্রী ও সেনা বাহিনীর লোকজন মিলে, প্রাথমিকভাবে যথাসম্ভব ১৫/১৬ জনকে নিয়ে সরকার গঠিত হয়; সেনা বাহিনীর প্রধান ওসমানী সাহেব; উনার অধীনে ২ জন জন চীফ অব স্টাফ ও ৪ জন সেক্টর কমান্ডার; পরে, সরকার কলকাতায় স্হানান্তরিত হয়, সরকারের পরিসর সামান্য বাড়ে; কিন্তু সেক্টরের সংখ্যা বেড়ে যায় দ্রুত এবং সেক্ররগুলোতে মুক্তিযো্দ্ধা বাড়তে থাকে ক্রমাগতভাব।
সর্বশেষ, সেক্টরের সংখ্যা ছিল ১১ টি; ১১ সেক্ররে, আনুমানিক মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার।
কলকাতায় মন্ত্রীসভা, তার প্রশাসন, ১১টি সেক্টর, ও মুক্তিযোদ্ধারা মিলে সরকার।
যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন ২২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা; এই ২২ হাজারের মাঝে যারা ছিলেন বেংগল রেজিমেন্টের বা ইপিআর'এর সদস্য তাঁরা যুদ্ধের পরে, সরকারী সেনা বাহিনীর সদস্য হিসেবে গণ্য হয়েছেন; কিন্তু যাঁরা নতুন হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের কর্মচারী হিসেবে নেয়া হয়েছিল কিনা, আমি আজও জানি না; আপনারা কেহ জানলে জানাবেন।
বেংগল রেজিমেন্টে ও ইপিআর'এর বাহিরে যাঁরা (গ্রামের কৃষক, কৃষকের ছেলে, দিন মুজুর, ছাত্র) নতুন করে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা ওসমানীর সেনা বাহিনীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে সরকারের অংশ ছিলেন; যুদ্ধের পর, তাঁদের অস্ত্র জমা নিয়ে বাড়ীতে পাঠানো হয়; এরপর আর কোনদিন ডাকেনি।
বেংগল রেজিমেন্ট ও ইপিআর'কে ক্যানটনমেন্ট ও ইপিআর হেড কোয়াটারে যোগ দিতে বলা হয়; কিন্তু অবশিস্ট মুক্তিযোদ্ধাদের আর ডাকা হয়নি; মোটামুটি ৮০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা, যাঁরা সরকারের অংশ ছিলেন, নীরবে 'চাকুরীচ্যুত' হলেন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




