আপনি যদি জেনারেল জিয়ার ভক্ত হন, তা'হলে আপনার সম্পর্কে ২ টি ধারণা সত্যি, (১) আপনি উনাকে দেখেননি, বা উনার সম্পর্কে কিছুই জানেন না, (২) উনার ১৯ দফার একটা এজেন্ডা ছিল, যার ১টা দফাও আপনি জানেন না, বা পড়লেও মনে রাখতে পারেন না। যাক, আপনার নিরাশ হওয়ার কারণ নেই, ডা: বদরুদ্দোজা, প্রেসিডেন্ট সাত্তার, ড: আলী আহসান, ড: এমাজুদ্দিনরা উনার সাথে কাজ করেও উনাকে জানতে চাননি, এবং ১৯ দফা মনে রাখতে পারেননি; উনারা জিয়া সম্পর্কে শুধু একটা কথা জানতে চেয়েছিলেন সবাই, কখন জিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। আর ১৯ দফা? জিয়া ডিজিএফ আই'কে অর্ডার দিয়েছিলেন, সিভিলিয়ানদের জন্য মুলা ঝুলাতে; ডিজিএফআই'এর শিল্প কর্ম হলো ১৯ দফা; জিয়া ১৯ থেকে ৯ কে ফেলে দিয়ে নিজের মিলিটারী নিয়মের ১ দফা চালিয়ে গেছেন, উহার নাম হলো ডিক্টেটরশীপ।
উনার শাসনকাল ভালো গিয়েছে, অন্তত কয়েক কোটী বাংগালী তাই বলে; সেই ভালোর ইতিহাসটা কি? ভালোর একটা ইতিহাস হলো শেখ সাহেবকে অপসারণ; বাংগালী চরিত্র হলো, এক্সট্রেমিস্ট'এর চরিত্র; যাকে তাদের পছন্দ হবে না, তাকে না মারা অবধি, তাদের শান্তি নেই। জিয়ার ভালো আরেকটা ইতিহাস হলো, ক্যাপিটেলিস্ট অর্থনীতির পত্তন, বাংগালী জাতির নিজস্ব প্রবাদ আছে, সেটা অন্য কোন জাতির ভাষায় হয়তো নেই, "চাচা আপন পরাণ বাঁচা"।
যাক, ১৯ দফা থেকে ৯ জিয়ার সময়েই খসে পড়েছিল, এবং খালেদা জিয়া এতগুলো দফা মনে রাখার মত মানসিক অনস্হায় কখনো ছিলেন না, এখন শারীরিক অবস্হায়ও নেই; জিয়ার স্ত্রী হিসেবে উনি দরকারী ১ দফাকেই মনে রেখেছেন, সেটা হলো ক্ষমতা দখল, বা অন্যদের সরকারের পতন, যেটা উনি গত বছর প্রয়োগ করেছিলেন, কিন্তু ফলাফল জিয়ার মতো হয়নি।
জেনারেল জিয়া নেই, মানুষ আজীবন থাকে না; তবে, উনার ১৯ দফা আজও কাগজে লেখা আছে, পড়ে দেখতে পারেন; আধুনিক বিশ্বের জন্য অনেকটা ছেলেমানুষী।
সংক্ষেপে জিয়ার ১৯ দফা:
১। যে কোন মুল্যে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা সংরক্ষণ।
২। জাতীয় জীবনের সর্ব স্তরে, সংবিধানের ৪ মুল প্রিনচিপলকে কার্যকরী করা, (১) আল্লাহের উপর পুরো আস্হা (২) গণতণ্ত্র (৩) জাতীয়তাবাদ (৪) সোস্যালিজম **** সেকুলারিজম বাদ পড়েছে।
৩। স্ব-নির্ভর জাতি গড়ে তোলা
৪। প্রশাসনে জনগণের অংশগ্রন; আইন শ্বংখলায় মানুষের অংশ গ্রহন
৫। কৃষির মাধ্যমে স্হানীয় তথা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা
৬। খাদ্যে স্বয়ং সম্পুর্ণতা
৭। কাপড়ের উৎপাদন বাড়ানো হবে, যাতে কেহকে লেংটা থাকতে না হয়।
৮। কেহ যেন গৃহহীন না হয়।
৯। নিরক্ষতা দুরীকরন
১০। মিনিমাম চিকিৎসা
১১। নারীর অধিকার সংরক্ষণ ও তরুণদের জাতি গঠনে অংশ গ্রহন
১২। প্রাইভেট সেক্টরকে ইনসেনটিভ দেয়া
১৩। শ্রমিকদের কাজের পরিবেশের উন্নয়ন, মালিক শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়ন
১৪। জাতি গঠনে সরকারী চাকুরীজিবীদের সার্ভিস ভুমিকা
১৫। জন্ম বিস্ফোরণ ঠেকানো
১৬। মুসলিম জাতিদের সাথে বন্ধুত্ব বৃদ্ধি
১৭। লোক্যাল সরকার গঠন ও বিকেন্দ্রীকরণ
১৮। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্হা গঠন করা।
১৯। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষ জাতির প্রতিটি নাগরিকের সামন অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান।
******* এইভাবে ভাবলে ১৯০ দফা তৈরি করা সম্ভব।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



