
১৯৭২ সাল থেকে সংবিধানে ছিল ও আছে, 'বাংলাদেশ ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ'; জেনারেল এরশাদ যোগ করেছে, 'আমাদের রাস্ট্রধর্ম ইসলাম'; এই দু'টো ক্লজ পরস্পর বিরোধী হয়েও আমাদের সংবিধানে সহ-অবস্হান করছে; এটা হয়তো হবুর দেশে সম্ভব, না হয় বৃটেনের মতো গণতন্ত্রে সম্ভব; আমাদের সংস্কৃতি, মন-মানসিকতা বৃটিশের মতো নয়, নিশ্চয়ই!
রাস্ট্রে যদি কোন বিষয়ের উপর আইন থাকে, আইনের প্রয়োগ হয়; আইন না থাকলে সংবিধান অনুসারে রাস্ট্র পদক্ষেপ নিতে পারে; সংবিধান না থাকলে, পুর্বের ঘটনাবলীকে অনুসরণ করা হয়।
বাংলাদেশের রাস্ট্রধর্ম 'ইসলাম' হওয়াতে আমাদের দেশ লাভবান হওয়ার কথা; কারণ, ধর্ম এখন রাস্ট্রের দ্বারা সংরক্ষিত ও পরিচালিত হবে; ফলে, কোন ধর্মীয় গোস্টী, ধর্মীয় দল, মোল্লা সমাজ, রাজনৈতিক দল, বা ব্যক্তি ধর্মীয় কোন কার্যক্রম, ধর্মীয় প্রতিস্ঠান, ধর্মীয় মতবাদ চালু করতে পারবে না; শুধু রাস্ট্রই তা করার ক্ষমতা রাখে।
এখন থেকে ইসলাম ধর্মের সকল কার্যক্রম রাস্ট্র দ্বারা পরিচালিত হবে; ইসলাম শিক্ষা, ইসলামের লালন পালন, মাদ্রাসা, মসজিদ সবই পরিচালিত হবে সরকারের মাধ্যমে; মোল্লা শ্রেণীর সকল ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
ব্যক্তি যাতে ইসলাম মেনে চলে, ইসলাম পালন করে, ইসলামিক জীবন যাপন করে, সবই রাস্ট্র কর্তৃক পরিচালিত হবে; এমন কি আমাদের মাঝে সুন্নী, শিয়া, আহমেদিয়া, কাদিয়ানী থাকতে পারবে কিনা, রাস্ট্রই সেটা নির্ধারণ করবে।
সব ধর্মীয় প্রতিস্ঠান, মসজিদের মালিক রাস্ট্র; নতুন করে কেহ মসজিদ নির্মাণ করতে পারবে না, শুধু রাস্ট্রই করবে; কেহ বিনা অনুমতিতে ইমামতি করতে পারবে না; নামাজ পড়াতে হলে রাস্ট্র থেকে অনুমতি, লাইসেন্স নিতে হবে। কেহ ইসলাম পালন না করলে, রাস্ট্র তার বিচার করতে পারবে।
ইসলামরাস্ট্র ধর্ম হওয়ায় বাকী ধর্ম পালনে অসুবিধা হবে কিনা? না, অসুবিধা হবে না; কারণ, ইসলাম নিজেই অন্য ধর্ম পালনে বাধা দেয় না; তবে, অন্য ধর্মের লোকদের উপর রাস্টের ধর্মীয় কর্তৃত্ব থাকবে না; কারণ, শুধু ইসলামই রাস্ট্র ধর্ম, অন্য ধর্মগুলো রাস্ট্রের এখতিয়ারের বাহিরে। কিন্তু, যেহেতু রাস্ট্রের আইন ও সংবিধান সব নাগরিককেই মানতে হয়, রাস্ট্র চাইলে বাকী ধর্মের লোকদেরও ইসলামিক জীবন যাপন করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

