somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে নেত্রী বড়, সেটা হলো আওয়ামী লীগ

২২ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৭:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আওয়ামী লীগ গঠিত হয়েছিল বৃটিশ কলোনী থেকে বের হওয়া দরিদ্র বাংগালী জাতিকে শক্তিশালী জাতি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য; ২০০ বছর কলোনীতে থাকার পর, সব বাংগালীর জন্য সমান সুযোগের সৃস্টি করার জন্য ততকালীন রাজনীতিবিদদের নিয়ে দলটি গঠিত হয়েছিল; দলে আদর্শের মুলে ছিল মওলানা ভাসানীর স্বপ্ন, সাধারণ মানুষ, কৃষক শ্রমিকের স্বপ্ন। কিন্তু দলটিকে দখল করে নেয় কলিকাতার বিতর্কিত রাজনীতিবিদ শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রুপ; সোহরাওয়ার্দী মুলত আমেরিকান ক্যাপিটেলিজমে উৎসাহী ছিল। যাক, পাকিস্তান মিলিটারীতে আরো বড় আমেরিকান সন্তান ছিল, উহা আইয়ুব খান।

সোহরাওয়ার্দী'র অকাল মৃত্যুতে দলটির ভার চলে যায় ছাত্রলীগ নেতা শেখ মুজিবের হাতে; শেখ মুজিবের এক অসাধারণ গুণ ছিল, তিনি দলের সব নেতাকে সন্মান করতেন, ভালোবাসতেন ও তিনি পার্টির সব নেতাদের হয়ে কথা বলতেন, কাউকে কিছু বলার সুযোগ দিতেন না; নেতারা মোটামুটি বেকারে পরিণত হন। ঠিক এইভাবেই তিনি ৬ দফা পেশ করেন, যা দলের সবাই সাপোর্ট করতেন, কিন্তু কারো তাতে অবদান ছিলো না।

আইয়ুবের আমেরিকান ক্যাপিটেলিজমে বাংগালীদের স্হান ছিলো না; পাকিস্তানের সামান্য অর্তনীতি পুরোটাই পাকিস্তানী ২২ পরিবার দখল করে নিয়েছিল। বিহারী রিফিউজীরা পুর্ব পাকিস্তানে বাংগালীদের চেয়ে বেশী অধিকার পাচ্ছিল। মানুষ একটি দল খুঁজছিলো, দলটি হতে পারতো মাওলানা ভাসানীর দল; কিন্তু অশিক্ষিত বাংগালীদের মোল্লারা ভয় লাগিয়ে দিয়েছিল, মাওলানা কম্যুনিস্ট, মওলানা নাস্তিক; মানুষের জন্য একটা দল বাকী ছিলো আওয়ামী লীগ।

আইয়ুবের আশেপাশে ছিল সর্ব প্রকার গার্বেজ, ওরা মনে করেছিল যে, ৬ দফা পাকিস্তান ভেংগে দিবে; এই ভুল ধারণা আইয়ুবকে ভুল পথে নিয়ে যায়, সে শেখ সাহেব ও উনার দলের লোকদের বিপক্ষে দেশদ্রোহীতার মামলা এনে, শেখ সাহেবকে ফাঁসীতে ঝুলাতে যায়; সব আওয়ামীরা বাতাসে মিশে যায়, থাকে শুধু ১ জন আওয়ামী লীগার, জোহরা তাজুদ্দিন; এদিকে আইয়ুব খান মাওলানাকে খুবই পছন্দ করতো, মাওলানা চুপ করে সব দেখছিলো; উনার সামনে শেখকে ঝুলানোর ব্যবস্হা করছিলো আইয়ুব; মাওলানা রেগে নামলেন মাঠে; শেখ বেঁছে গেলো, আইয়ুব আউট।

দেশ স্বাধীন হলো, এক শক্তিশালী আওয়ামী লীগ, দেশে আর কোন দল ছিলো না; দেশে ২য় দলের উদয় হলো শেখ সাহেবের ছাত্রলীগ থেকে; এক ঘরে ২ নেতা, ২ দল; ঘরই ভেংগে পড়লো।

আওয়ামী লীগ ৪ ভাগে বিভক্ত ছিল ১৯৮১ সালে; এবার আনা হলো শেখ হাসিনাকে, যিনি পার্টির সদস্য ছিলেন না, এক লাফে হলেন 'সভাপতি'; আজ ৩৫ বছর আছেন সভাপতি; বিশ্বে কোন নজীর নেই মনে হয়।

এই আওয়ামী লীগ মাওলানার আওয়ামী লীগ নয়, শেখ সাহেবের আওয়ামী লীগ নয়, ইহা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ; শেখ হাসিনা ৩ বার প্রধানমন্ত্রী, জাতির সর্বোচ্চ পদে আছেন, কিন্তু সভাপতির পদ ছাড়েনি; অর্থাৎ জাতি থেকে আওয়ামী লীগের গুরুত্ব বড়; আর আওয়ামী লীগে কাউকে প্রশ্ন করলে, সহজেই বুঝতে পারবেন যে, আওয়ামী লীগে কেহ কেহ নন, সবকিছুই শেখ হাসিনা; জাতির চেয়ে পার্টি বড়, পার্টির চেয়ে নেত্রী বড়, এটাই আওয়ামী লীগ।


সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৭:৪৯
৯টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩২

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

বাকস্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়; অন্যের সম্মান, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে উপেক্ষা করারও নাম নয়।

কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×