somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়, পাক-ভারত যুদ্ধে ভারতের বিজয়

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মাঝে মাঝে কিছু ব্লগার পোস্ট দিয়ে হইচই শুরু করে দেয়, ভারতীয়রা কেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে পাক-ভারত যুদ্ধ বলে, এবং কেন আমাদের বিজয়কে তাদের বিজয় দাবী করে? অমুক ভারতীয় জেনারেল এই লিখেছে, ইন্দিরা গান্ধী ঐ বলেছে; হাজার রেফারেন্স!

আসলে, ঐ সময়ে ২টি যুদ্ধ হয়েছিল, একটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, অন্যটি পাক-ভারত যুদ্ধ; আমাদেরটা শুরু হয়েছিল পাক-ভারত যুদ্ধের ৯ মাস আগে।

অনেক ব্লগারেরা মুক্তিযুদ্ধকে বুঝার মতো অবস্হানে নেই, তবুও উহাকে একটা বিষয় করতে চায়, কিছু একটা বলতে চায়, উহার অংশ হতে চায়; আবার কিছু নিজামী ব্লগার এগুলো লিখে কৌশলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করতে চায়।

মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেকের ধারণা পরিস্কার নয়; নিরক্ষরতা, দারিদ্রতা, রাজনৈতিক অস্হিরতা, স্বাধীনতা-বিরোধীদের ক্ষমতায় আসা, নতুন জেনারেশনের পাঠ্য-সুচীতে সঠিক ইতিহাসের অভাব, দৃশ্যপট থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্হান, যুদ্ধে শিক্ষিত শ্রেণীর অনুপস্হিতি, ইত্যাদি ইত্যাদি কারণে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ অনেকের মাথায় ঠিক মতো প্রবেশ করেনি!

পাকিস্তানী আক্রমণের জবাবেই মুক্তিযুদ্ধের সুচনা হয়; যুদ্ধের শুরুতে ইপিআর ও বেংগল রেজিমেন্ট পাকিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে; এরপর ক্রমেই সাধারণ মানুষ যোগ দেন। পুরো যুদ্ধে ড: এমাজুদ্দিন, ড: মুনতাসির মামুন, ড: আনু আহমেদ, ড: হুমায়ুন আহমেদ, ড: মমতাজ উদ্দিনদের মতো লোকজন রণাংগণে বা কোন সেনা-অবস্হানে যাননি; ফলে, কোন কিছু লেখার মতো লোকজন ছিলো না।

যুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত অস্ত্র ও ট্রেনিং দিয়ে যাচ্ছিল; ফলে, এটা পরিস্কার ছিল যে, মুক্তি বাহিনীকে সরারি অস্ত্র, আশ্রয় ও ট্রেনিং দেয়ার কারণে, একদিন পাকিস্তান ভারতকে আক্রমণ করবে, এক সময় পাক ভারত যুদ্ধ হবে।

মুক্তিযুদ্ধ সাড়ে ৮ মাস চলার পর, পাকিস্তান বাহিনী বুঝতে পেরেছিল যে, তারা পুর্বান্চলে হেরে যাবে। তখন তারা ভারত আক্রমণ করে পশ্চিম সীমান্তে। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে, ভারত দুর্বল পুর্ব পাকিস্তানী বাহিনীকে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়; বাংলাদেশ সরকার এই সুযোগ নেয়, চুক্তি করে 'মিত্র বাহিনী' গঠন করা হয়। আমরা মিত্র বাহিনীতে গিয়েছি আমাদের যুদ্ধকে শেষ করে বিজয় আনতে। ভারতের মুল যুদ্ধ ছিল পশ্চিম সীমান্তে।

আমাদের বাহিনী যুদ্ধ শুরু করেছে ২৭ শে মার্চ, এবং বাহিনী জানতো আমরাই জয়ী হবো, সেটাই ঘটেছে, আমরা জয়ী হয়েছি। ভারত জানতো মুক্তিবাহিনীকে সরাসরি সাহয্য করার কারণে একদিন যুদ্ধ হবে, সেটা হয়েছে ডিসেম্বরে; সেটাতে তারা পাকিস্তানকে পরাজিত করেছে।

আশাকরি ব্লগারেরা এখন বুঝতে পারবেন; সামনের দিনগুলোতে অকারণে এধরণের পোস্ট দিয়ে হয়রান হবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৫০
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×