
ট্রাম্পের কারণে, এবারের আমেরিকান নির্বাচন সারা বিশ্বের মানুষের দৃস্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছিল; বাংলাদেশের মানুষও ট্রাম্পের নির্বাচন বেশ উৎসাহের সাথে অনুসরণ করেছেন; যদিও বেশীর ভাগ বাংগালী উনার পক্ষে ছিলেন না। এবারের আমেরিকান নির্বাচনের সময় বাংগালীরা গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া বুঝার সুযোগ পেয়েছিলেন। যদিও নির্বাচনের কিছু কিছু পদক্ষেপ কিছুটা অপরিচিত ছিলো, তাতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি। ১৯৭০ সালের পর, বাংগালীরা নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখেননি।
মানুষ প্রাইমারী পদ্ধতি বুঝার চেস্টা করেছেন, যা বাংলাদেশে নেই। প্রাইমারী নির্বাচনের সময়, এবার রিপাবলিকান পক্ষ থেকে ১৯ জন প্রার্থী ছিলেন; এদের মাঝে গভর্ণর, সিনেটর, কংগ্রেসম্যান ছিলেন। প্রাইমারী ভোটের পুর্বের 'ডিবেইটগুলো' ও প্রচারনাগুলো ছিল খুবই প্রানবন্ত; আমেরিকান ইতিহাসে এ ধরণের কাদা ছোঁড়াছুড়ি হয়নি সাম্প্রতিক কালে; প্রথম দিকে আমেরিকানরা বেশ অস্বস্তিতে থাকলেও, পরে তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। ডিবেইটে ও মিডিয়ায় কাদা নিয়ে এসেছিলেন ট্রাম্প, তিনি খুবই দক্ষতার সাথে ছুঁড়েছেন সবাকে লক্ষ্য করে, সবার মিলিত লক্ষ্য ছিল ট্রাম্প, কারণ তিনি ওদের দলের লোক হলেও, প্রফেশানেলী প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে ছিলেন না। রাজনৈতিক কৌশল ও কাদা দিয়ে ট্রাম্প শক্তিশালী রাজনীতিবিদদের তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
প্রাইমারীতে জয়ী হওয়ার পরও, উনি ক্যানডিডেট হতে পারবেন কিনা, সেটা নিয়ে আমেরিকানরা ও বিশ্বের অনেকেই সান্দিহান ছিলেন; কারণ, পার্টি উনাকে ত্যাগ করেছিলেন। যাক, সকল সন্দেহের অবসান ঘটায়ে আমেরিকান গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বিজয়ীকেই ক্যানডিডেট করে।
ওদিকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারীও বিশেষ করে হিলারী ক্লিনটন ও বার্ণি সেন্ডার্সের কারণে বেশ সোচ্ছার ছিল; বার্ণি ধর্মের দিক থেকে ইহুদি হওয়ায় ও অর্থনীতির দিক থেকে সমাজতান্ত্রিক অবস্হান নেয়ায় মানুষের দৃস্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন; তিনি নিজকে সোস্যালিস্ট বলে দাবী করেন, যা আমেরিকান নির্বাচনে আগে কেহ করেননি; তিনি ফ্রি-শিক্ষা ব্যবস্হার কথা বলে ছাত্রদের সমর্থন পেয়ে যান পুরোপুরিভাবে। বাংগালীরা এর আগে কোন ভোটে এই ধরণের চিন্তাশীল ও সন্মানী 'বাম'কে দেখার সুযোগ পাননি; বাংগালীরা জন্মগতভাবে ডানপন্হি।
প্রাইমারীর ১ম দিকে পুরো ডেমোক্রেটিক পার্টি, আমেরিকার ১ম নারী ক্যানডিডেটকে মুল নির্বাচনে নেয়ার জন্য হিলারী ক্লিনটনের পক্ষ নেয়; বার্ণি একাই এগিয়ে যেতে থাকে ছাত্রদের সমর্থন নিয়ে; এক সময়, হিলারীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে; ডেমোক্রেটরা বার্ণিকে পার্টির তরফ থেকে কোণঠাসা করে তোলেন। বার্ণি নিজের ডেমোক্রেটিক পার্টিকে বুঝাতে চেস্টা করেছেন, ট্রাম্পের সাথে হিলারী পেরে উঠবে না; পার্টি তাতে কান দেয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৭:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



