
যীশুর জন্মের ২৫০০ বছর আগে মিশরের ফারাওনরা বিশ্বাস করতেন যে, তারা সৃস্টিকর্তা ও মানুষের মাঝখানে এক অবস্হানে (নিজেরাও এক ধরণের গড) আছেন; তাদের মতে, সেই সময়ে সুর্যের দেবতা ছিল "রা"; "রা" নিজকে নিজে সৃস্টি করেছিলেন, উনার সন্তানেরা হলো, "শু", "টাাফনেট", "মাআত", "হাথর", বাসতেত"।
এতে আপনার আপত্তি নেই তো? এখন থেকে ৪৫০০ বছর আগের ব্যাপার; এগুলো নিয়ে নবী মুসা (PBH)'এর আপত্তি ছিল; ভালো যে, আপনি তখন জন্ম নেননি, সব ধকল গেছে মুসা (PBH)'এর উপর দিয়ে; এখন আপনার জানলেই চলবে।
সময়ের বিবর্তনে আরেক বড় গড দেখা দিলেন, উনার নাম "আমুন"; "রা"এর অনুসারীরা ও আমুনের অনুসারীরা ২ জনকেই মনে স্হান করে দিলেন, নাম দিলেন, "আমুন-রা"।
আরো কিছু সময় পরে এলেন বড় এক ফারাওন, আখেনাটেন, উনি "রা" ও "আমুন-রা"কে বাদ দিলেন, উনার মতে সুর্যের দেবতা, "আটেন"।
সবই ঠিক আছে, সময়ের সাথে সুর্য সম্পর্কে ও উহার দেবতার সম্পর্কে ধারণা বেড়েছে, বদলায়েছে; আজকের বিশ্বে সুর্যকে দেবতা হিসেবে ও শক্তির উৎস হিসেব অনেক ধর্মের লোকেরা পুজা করছেন।
আবার এদিকে সুর্য একটি তারকা, তার নিজস্ব গ্রহ আছে অনেকগুলো, গ্রহদের উপগ্রহ আছে; সুর্যে বয়স সাড়ে ৪ বিলিয়ন বছর, আরো ৫ বিলিয়ন বছর এভাবে থাকবে; সুতরাং, আগামীকাল কিছু ঘটছে না, গাছেরা ক্লোরোফিল কারখানা চালু রাখতে পারবে, গংগা স্নানের সময় নমস্কার করতে পারবেন। আমাদের গ্রহ পৃথিবী থেকে সে ৯ কোটী ৩০ লাখ মাইল দুরে অবস্হিত।
তা'হলে সুর্য সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে গেছে ৪৫০০ বছরে; এবং আজকের সব তথ্য সঠিক, আগের তথ্য বদলাতে বেশ সময় লেগেছে; এখন কারো কাছে "তারকা", এবং আজকেও দেবতা।
দু:খের বিষয় যে, যাারা আজকে আমাদের তারকাকে দেবতা হিসেবে আমাদের থেকে বড় চোখে দেখছেন, আমরা তাদেরকে বড় চোখে দেখে, বড় সন্মান দেখানোর অবস্হানে নেই। বিশ্বের সব আদি ধারণা, সব আদি কথা, সব আদি কাহিনীর বিপরিতে একটা আধুনিক ধারণা, একটা আধুনিক কাহিনী বের হয়ে এসেছে; আপনি কোনটি ধারণ করতে চান, কোনটা আপনার জন্য সহজ, সেটা আপনাকে ঠিক করতে হবে।
*** নবী মুসা (PBH) ও ১ জন ফারাওনের সাথে ধর্ম নিয়ে সমস্যা হয়েছিল (বা হয়নি), সেটা নিয়ে ফারাওনদের খারাপ মানুষ হিসেবে নেয়া হয়েছে; আসলে, তারা সেই সময়ের জন্য খুবই শিক্ষিত এবং সারা বিশ্বে সবচেয়ে উন্নত সভ্যতার সৃস্টি করতে পেরেছিল।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৩:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



