
ইরানের সাথে ওবামা সরকার চুক্তি করেছে, ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে; আমেরিকায় ইরানের আটকে-পড়া সম্পদের থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলার ফেরত পেয়েছে, আরো পাবে; ১০ বছর পর ২টি বোমা বানাতে পারবে। আমেরিকান নির্বাচনে, ট্রাম্প ইরান-বিরোধী অবস্হান নিয়েছিল, জয়ের অনেক কারণের মাঝে ইরান-বিরোধীতাও একটি। ক্ষমতায় আসার পর, প্রথম ২ সপ্তাহ ট্রাম্প আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অর্ডারের পর অর্ডার দিয়ে গেছে; এখন আন্তর্জাতিক বিষয়ের দিকে এগুচ্ছে; এতে ৩ টি বড় বিষয়: আরবে যুদ্ধ, কোরিয়া ও ইরানের এটম বোমা।
ইরান জানে, ট্রাম্পের বিজয় সারা বিশ্বের জন্য একটি ব্যতিক্রম ঘটনা, এবং ইরান ও আমেরিকার শত্রুতা জনগণ পর্যায়ে পৌঁচে গেছে; তার ঐতিহাসিক কারণও আছে;ঐরানের শাহ ছিল আমেরিকান পন্হি, সব পয়সাওয়ালারা আমেরিকান পন্হি; আমাদের শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, জয়, ফালু, মুহিত, কোকো, ড: আতিয়ার, সবাই; হয়তো আপনিও। সেই শাহকে বের করে দেয়া আমেরিকা পছন্দ করেনি।
তবে, শাহ'কে পরাজিত করা ছিল রুশ, চীন বিপ্লবের সমান; সেই বিপ্লবকে ধরে রাখতে পারলে, ইরান আমেরিকার আগে মংগলে বসতি স্হাপন করতে পারতো; কিন্তু তারা হোমেনীকে নিয়ে এলো বানরের কলা ভাগ করতে, উহার সাথে মিলে সবাই বানর হলো। আমেরিকা সেটাও পছন্দ করেনি; এরপর আমেরিকান ডিপ্লোমেটদের বন্দী করে রাখলো।
ইরান মংগল গ্রহ বাদ দিয়ে, শিয়াইজম এক্সপোর্টে মন দিয়ে, আরবের সব শিয়াকে অস্ত্র ও তেলের ডলার দিচ্ছে; এতে মিডল ইস্টের শিয়া আরবেরা যুদ্ধকেই পেশা হিসেবে নিয়েছে। শুধু সেটা হলে চলতো, কিন্তু তাদের প্রেসিডেন্ট সারা দেশে পার্টি ঘোষণা করে এটম বোমা উৎপাদনের উদ্বোধন করলেন ও সাথে সাথে ঘোষণা দিলেন যে, ইসরায়েলকে উনি ম্যাপ আর দেখছেন না; এই ধরণের ঘোষণা আমেরিকা মেনে নিতে পারে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট হয়তো জানতেন না যে, উনি যা বানানোর কথা বলছেন, সেই বোমা ইসরায়েলের কাছে আছে, যদিও অফিসিয়েলী তারা বিশ্বকে জানায়নি।
ট্রাম্পকে সারা বিশ্ব পর্যবেক্ষণে রেখেছে, কেহ কিছু বলছে না, সময় নিচ্ছে, বুঝার চেষ্টা করছে; আমেরিকানরা বাজার করা কমিয়ে দিয়েছে, বড় ধরণের বিনিয়োগ স্হগিত করে রেখেছে; দিনের বেলা স্পেনিশরা চলাফেরা কমিয়ে দিয়েছে, মুসলমানেরা রবিবারে মসজিদে খানাপিনা কমায়ে দিয়েছে; সেই সময় ইরান বেলাস্টিক মিসাইল পরীক্ষা চালানোর দরকার অনুভব করছে? পিপীলিকা একবারই উড়ে।
যাক, গত ১ সপ্তাহে মুসলমানেরা সবাই বলাবলি করছে, ইরান ভয় পাবার কথা নয়; ইরানকে ধরলে রাশিয়া চুপ মেরে থাকবে না, ব্লা ব্লা, ব্লা। আসলে, ইরানকে ভয় পায় না, এমন কোন জাতি নেই; ফলে, রাশিয়া ইরানের হয়ে কিছু করতে যাবে না; রাশিয়া দেখেছিল আফগানিস্তান ও ইরাকের কি অবস্হা হয়েছিল; তখন আমেরিকাকে রাশিয়া হুশিয়ার করে বলেছিল, এগুলো বিশ্বের শান্তি নস্ট করবে , এটুকুই; আমেরিকার ব্যাপারে সব সময় সেটুকুই বলবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ৭:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



