
সমস্যা হতো, ভয়ানক সমস্যা হতো; পাঠান, বেলুচ, পান্জাবীরা মোটেই বাংলা শিখতে পারতো না, সরকারী কাজ পেতো না; তখন ২১ শে ফেব্রুয়ারী পালন হতো করাচী, লাহোর, ইসলামাবাদে!
পাকিস্তানের রাস্ট্রভাষা ছিল ইংরেজী, আজও আছে ইংরেজী; তা'হলে উর্দু'র কি হলো? উর্দু লিখিতভাবে পাকিস্তানের রাস্ট্র ভাষা, কাজকর্ম চলে ইংরেজীতে, ইংরেজী না জানলে পাকিস্তানে কেহ এলিট হয় না; ইংরেজী না জানলে সামরিক অফিসার হতে পারে না, ব্যুরোক্রেট হতে পারে না; পাকিস্তান চালায় সামরিক অফিসার ও ব্যুরোক্রেটরা মিলে।
ভাষা ভোটের বিষয় নয়, পুর্ব পাকিস্তানে সাড়ে ৪ কোটী হলে, আর পশ্চিম পাকিস্তানে ৪ কোটী হলে, বাংলা ভাষাকে রাস্ট্র ভাষা বানাতে হবে, কিংবা উর্দুকে রাস্ট্র ভাষাকে বানাতে হবে; পাকিস্তান হওয়ার পর, স্বাভাবিকভাবেই কাজকর্ম ইংরেজীতে চলছিল; ভারতেও তাই ঘটেছে; ভারতে রাস্ট্র ভাষা আন্দোলন হয়নি, কেহ গুলি খেয়ে প্রাণ হারায়নি।
তা'হলে ১৯৫২ সালে, ঢাকায় বাংগালীদের প্রাণ দিতে হলো কেন? প্রাণ দেয়ার ঘটনায় ২টি ব্যাপার কাজ করেছে,ততকালীন প্রশাসনের সমস্যা সমাধানের বদলে, সমস্যা সৃস্টির ক্ষমতা, ও পুর্ব বাংলার অতি বিপ্লবী ছাত্র সমাজ।
জিন্নাহ ও উনার প্রশাসন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অনেক ব্যাপারেই, তার মাঝে রাস্ট্র ভাষাও ছিল; জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে, ঢাকা ইউনিভার্সিটিটে এসে ঘোষণা দিয়েছিল যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাস্ট্র ভাষা, ছাত্ররা সেটার প্রতিবাদ করেছে; জিন্নাহ ছাত্রদের প্রতিবাদের মুখে প্রশাসনের সাথে বুঝে নিজের সিদ্ধান্তকে বদল করেনি।
এদিকে পুর্ব বাংলার ছাত্ররা এক কদম এগিয়ে গিয়ে, উল্টো দাবী করে বসে যে, বাংলা হবে রাস্ট্র ভাষা; জিন্নাহ তখন নেই, কিন্তু জিন্নাহ'র অনুসারীরা তখন উল্টা চাপে পড়ে। সহজ সমাধান ছিলো, উর্দুকে রাস্ট্র ভাষা করা হবে না ঘোষণা দেয়া, যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলুক। কিন্তু পুর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক সরকার ছাত্র আন্দোলনকে গুড়িয়ে দেয়ার ভুল সিদ্ধান্ত নেয়; সরকার চুপ হয়ে গেলে ছাত্ররা থেমে যেতো নিজের থেকেই।
ছাত্রদের উপর গুলি করা ছিলো জঘন্য বুদ্ধিহীনতার কাজ; বাংগালীরা আজকে যে বুদ্ধিহীন তা নয়, আগেও বুদ্ধিহীন ছিল, ভাষা আন্দোলেন গুলি চালানো তাহাই প্রমাণ করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



