
ইংরেজেরা দ্রুত শিখেছে সবকিছু, পিগমীরা আস্তে আস্তে শিখে চলছে; ইংরেজরা দ্রুত শিখে ফেলার কারণে, জাহাজ বানাতে পেরেছে, চলে এসেছে ভারতে, ব্যবসা করেছে; সেই ফাঁকে বুঝে নিয়েছে যে, সিরাজ উদ-দৌলা খরগোসের বাচ্ছার মত শক্তিহীন, উহার ঘাঁড় মটকায়ে রাজ্য দখল শুরু করলে, একদিন পুরো ভারতের মালিক হওয়া যাবে; শেষে তাই করেছে; সেই কারণে আজকের রাণী ৩৪ বিলিয়ন ডলারের মালিক, ৭টি প্রাসাদের মালিক; আর পিগমীরা এখন কুঁড়ে ঘরে থাকে, বানর মারা নিষেধ, সেজন্য ভুট্টার চাষ করে, আর জাতি সংঘের রিলিফে দেয়া নাইকো জুতা পরে। তবে, পিগমীদের ভাগ্য ভালো, আকারে ছোট হওয়ায়, ক্রীতদাস ব্যবসায়ীরা ওদের ধরে নেয়নি আমেরিকা ও ইউরোপে।
বাংগালীরা ইংরেজদের মতো দ্রুত কিছু শিখতে পারেনি, তবে ভারতে ইংরেজ আসার পর, কখনো বানর শিকার করে খায়নি; বানর দিয়ে ভবিষ্যত গণনা করায়েছে, বউ সুন্দরী হবে, একদিন মাটির নীচে গুপ্তধন পাবে, ১ ডজন ছেলেমেয়ের বাবা হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।
তবে, ১৭ কোটীর থেকে ৬ লাখ বাংগালী ইংরেজ রাজ্যে পৌঁচেছে, দুই'একজন বিলিওনিয়ার হয়েছে, রাণীর প্রাসাদে নববর্ষের নিমন্ত্রণ পেয়েছেন, অনেকে ইংরেজদের সমানে সমান কাজ করছেন, হরদম ইংরেজী কথা বলছেন; ৪/৫ জন ইংরেজদের পার্লামেন্টে স্হান করে নিয়েছেন; হয়তো, এই ৪/৫ জন আমাদের হয়ে, ইংরেজ খরগোসের বাচ্ছা খুঁজে বের করবেন।
আরো ৫ লাখ ইংরেজদের নাতিপুতীদের দেশ আমেরিকায় গেছেন, টিকে থাকার চেস্টা করছেন, দেশে ডলার পাঠাচ্ছেন, ইংরেজীতে কথা বলেন, নাসা মাসায় চাকুরী করে রকেট বানানো শিখছেন, মিলিটারীতে যাচ্ছেন, টমাহক মিসাইল মারতে শিখছেন; একদিন দেশে আসবেন এরা সবাই, সবাইকে শিখাবেন, দেশ বদলাবে।
অবস্হা একেবারে খারাপ নয়, দেশ চলছে, যারা পড়তে চাহে না, তারা দেশ চালায়; সবাই প্রশ্নপত্র দেখে পরীক্ষা দিচ্ছেন, মেয়েরা কাপড় সেলাই করছেন, আদম ব্যাপারীরা মানুষ বিক্রয় করছেন, বসুন্ধরা সবার জমীতে বাড়ি তুলছেন; যারা কাজ করে না, তারাই দামী গাড়ী চালায়; পরিবর্তন হচ্ছে।
আজকের বড় সমস্যা হচ্ছে, বাংগালীরা কয়টা নববর্ষ পালন করা উচিত ও কিভাবে? মনে হয়, ৩টা নববর্ষ হওয়া উচিত: যেহেতু বিশ্বের সাথে চলছি, ১ লা জানুয়ারী; যেহেতু বাংগালী, ১ লা বৈশাখ; যেহেতু মুসলিম, ১ লা মুহরম। কোনটা কিভাবে পালন করবেন? ইনরেজীটা বিশ্বের সবার সাথে তাল মিলিয়ে, বাংগালী পারিবারিক পরিবেশে; ১ লা বৈশাখ বাংগালী পরিবেশে, ভালো খাবেন, হাডুডু খেলবেন, শ্বশুর বাড়ীতে বেড়াতে যাবেন, বলিখেলা হবে, আনন্দ ফুর্তি হবে; মুসলিমটা হতে হবে ধর্মীয় পরিবেশে, হয়তো দোয়া খায়ের হবে, মিলাদ হবে, ইসলামী গজল হবে, আরবী উলু হবে, তলোয়ার খেলা হবে।
সব জাতির মতো আমরাও বদলাচ্ছি, হয়তো ইংরেজদের মতো দ্রুত নই, বা পিগমীদের মতো অত ধীর গতিতে নই; আমাদের মানুষজন আমেরিকা, কানাডায় ক্রীতদাস হয়নি; ইংরেজদের দেশে ভালো করছে; আমাদের পরিবর্তন ঘুরেফিরে ভালোর দিকে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



