somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকে, তুর্কিদের থেকে ভেড়ার তৈরির কারখানা বসানোর কথা

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকে তুরস্কে জাতীয় রেফেরেন্ডাম হচ্ছে, 'প্রাইম মিনিস্টার' পদ্ধতি থেকে 'প্রেসিডেনসিয়াল' সিস্টেমে যাবার জন্য; দেশের সর্বময় ক্ষমতা থাকবে প্রেসিডেন্টের হাতে; আমাদের শেখ সাহেবও করেছিলেন; এতে শেখ সাহেব থেকে জেনারেল জিয়ার সুবিধা হয়েছিল বেশী। তুরস্কের এরদেগান সব ক্ষমতা নিজের হাতে আনতে চায়; ১৪ বছর দেশ চালানোর পর, আরো ক্ষমতা দরকার, মৃত্যু অবধি ক্ষমতায় থাকার দরকার।

সবচেয়ে বড় কথা, এই রেফেরেন্ডামে জিতলে, সে "আগামী ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা", ২০২৯ সাল অবধি; এটা বর্তমান ইউরোপেের জন্য নতুন ঘটনা; এটা ৫০ ভাগ নিশ্চিত যে, আগামী ১২ বছরের কোন একদিন সে বিরোধীদের হাতে প্রাণ হারাবে।

পার্লামেন্টের সীট বাড়ানো হবে, ৫৫০ সীট থেকে ৬০০ সীট; এখানেও একটা জালিয়াতী হবে; জনসংখ্যা বাড়ার সাথে তাল মিলিয়ে সীট বাড়ানো হচ্ছে না; নিজ দেশের নতুন কিছু এলাকা দখলের প্রচেষ্টা; কিছু কুর্দিশ এলাকা থেকে অনেক মানুষ পালিয়ে চলে গেছে ইরাক ও সিরিয়ার কুর্দিশ এলাকায়, এখানে এরদেগান নিজের লোকদের প্রবেশ করায়ে দিয়েছে, যাতে কুর্দরা আর ফেরত আসতে না পারে, ও এগুলোকে তার পুরো দখলে আনতে তার কিছু সীটের দরকার।

অনেক বাংগালীও এরদেগানকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে; এরা অবশ্য আফগানিস্তানের তালেবান থেকে, মিশরের ব্রাদারহুডের সমর্থক, আসলে এরা গুহার জীবনের সমর্থক; এরা জানে না, কিভাবে পরাজিত "অটোম্যান" সাম্রজ্য থেকে তুরস্কের জন্ম হয়েছিল; আসলে, বর্তমনা অনেক তুর্কীও কামাল পাশার বিশাল বীরত্বের কথা বুঝার মতো অবস্হানে নেই।

অটোম্যান সাম্রাজ্য ছিল সময়ের সথে তাল মিলিয়ে আধুনিক রাজতন্ত্র; শেষ দিকে, ওরা বৃটিশ কলোনিয়েল সিস্টেম থেকেও উন্নত ছিল, এবং প্রায় ৭০০ বছর রাজত্ব করে গেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তারা মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরাজিত হয়েছে; তাদের সাম্রাজ্য দখল করেছে বৃটিশ। শেষ সুলতান চুক্তি করে নিজ পরিবার নিয়ে লন্ডনে বনবাসের জন্য তৈরি হচ্ছিল। রাজ্য তো গেছে, তুর্কিরা নিজের মুলভুমিও হারিয়ে ফেলছে, তারা যাবে কোথায়? লন্ডন তো সব তুর্কিদের নেবে না।

এই পরাজিত সাম্রাজ্য থেকে নিজেদের বাসস্হানকে রক্ষা করার জন্য কামাল পাশা বাকী জেনারেলদের নিয়ে তুরস্কের বিরাট এলাকা দখল করে রাখার জন্য যুদ্ধ শুরু করে, সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য নয়। সে বৃটিশকে জানায়, সে "অটোম্যান সাম্রজ্য নয়", তুর্কীদের বাসস্হানের জন্য যুদ্ধ করছে; সে রাজতণ্ত্রে ফেরত যাবে না, বৃটিশের মতোই একটি "ডেমোক্রেটিক" দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যাক, অনেক ঘটনার মধ্য দিয়ে সেটাই ঘটেছে।

অটোম্যান রাজ পরিবারের সুলতান তৈরি হতো "ডারুইন পদ্ধতিতে", সবচেয় শক্তিশালী, ধীরস্হির, শিক্ষিত সন্তানের জন্ম দেয়া হতো "হেরেম" পদ্ধতিতে: সুলতান অনেক স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ে অনেক সন্তানের জন্ম দিতেন; তাদের পড়ালেখা ছিল ইউরোপীয় পদ্ধতিতে; যে সন্তান সব দিক থেকে উন্নত, সে সুলতান হতো; বুঝা যাচ্ছে, ওগুলো মোল্লা শফি ছিলেন না।

কিন্তু বাকীদের পড়ালেখা "মাদ্রাসায়"; মাদ্রাসার লোকদের দিয়ে সৈন্য-বাহিনী ও মসজিদ কেন্দ্রিক দেশ চলেছে ৭০০ বছর; আর কতো? যখন কামাল পাশা "ডেমোক্রেটিক তুরস্ক" গঠন করলেন, শিক্ষিদের বড় অংশ ছিল ধর্মীয় বিদ্যায় শিক্ষিত, ওদের ভাষায় মোল্লা; এ্ই ধর্মীয়রা "ডেমোক্রেসী" বুঝতো না, তারা জানতো "অটোম্যান" পদ্ধতি; কামাল এদের নিয়ে বিপদে পড়েছিল; কারণ, সে বৃটিশ থেকে রক্ষা পেয়েছেন "ডেমোক্রেসীর" দোহাই দিয়ে, আর মোল্লারা ফিরে যেতে চায় রাজতণ্ত্রে। যাক, উনি মোল্লাদের থামায়েছিলেন সেই সময়ে।

কিন্তু মোল্লাদের স্বপ্ন থেমে যায়নি; ৮০ বছর পর, মোল্লাদের স্বপ্ন নিয়ে এসেছে এরদেগান; ৮০ বছর আগের মোল্লারা নেই, এরা এখন এরদেগানী মোল্লা; সবকিছু মিলিয়ে এরা বেদুইন হতে চায় আবারো; একটা তাঁবু, হুক্কা, ছোট্ট একটা হেরেম, ২টা ঘোড়া, বিকেলে একটু খরগোশ শিকার!











সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৩
২২টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×