
"শেখ হাসিনা দেশকে সুইজারল্যান্ড বানায়ে ফেলতেন, দেশ এতোদিনে চীনকে অতিক্রম করে যেতো, রাশিয়ানরা আমাদের পেছনে পড়ে থাকতো; শুধু সম্ভব হচ্ছে না চাটুকারদের জ্বালায়, ওরা শেখ হাসিনাকে ঘেরাও করে রাখে, দেশের প্রকৃত অবস্হা জানতে দেয় না"; এইগুলো হচ্ছে শেখ হাসিনার অন্ধ ভক্তদের কথা; এসব অন্ধ ভক্তরা কিন্তু ঠিক মতো জানেও না যে, সুইজারল্যান্ড কোথায় এবং ইহা সুইডেনের বড় বোন কিনা! এতে করে শেখ হাসিনা আপাতত এক রূপকথার চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের নেত্রী হিসেবে অবশ্য তিনি ভালোই করেছেন; দলটিকে এখনও ধরে রেখেছেন; তিনি না থাকলে দল ভেংগে যেতো; তখন দলটি মিলিটারীর সাথে পেরে উঠতো না; বাংলাদেশ মিলিটারী পাকিস্তান বা মিশরের মিলিটারীর মতো আজীবনের জন্য মাথায় উঠে বসে থাকতো। অবশ্য, সব অস্বাভাবিক কর্মের জন্য কাউকে না কাউকে দাম দিতে হয়; এক্ষেত্রে সাধারণ বাংগালীরা মুল্য দিয়ে চলেছে। মিলিটারী ও তাদের রাণী বেগম জিয়াকে থামাতে গিয়ে, উনাকে ১৯৮১ সাল থেকে আজ অবধি আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে থাকতে হয়েছে; ফলে, তিনি রাজনীতি ফাজনীতি ভুলে গেছেন, উনি জানেন যে, দলই শক্তি, উহা না থাকিলে তিনি কেহ নন।
ভালো যে, সব দোষ চাটুকারদের উপর দিয়ে শেখ হাসিনাকে বুদ্ধিমান ও দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে মনের মাঝে ধরে রেখেছেন ভক্তেরা; এসব ভক্তেরা অবশ্যই অন্ধ, এদের কাছে জাতি মাতি হলো গৌণ, নেত্রীই হলো জীবনী শক্তি।
এরা কিন্তু পুরোপুরি যে ভুল করছেন তা নয়; এটা ঠিক যে, আওয়ামী লীগের মাঝে উনিই সবচেয়ে দক্ষ ব্যক্তি; যখনই তিনি দলের মাঝে কাউকে উনার চেয়ে দক্ষ মনে করেছেন, তাকে ২য় সারিতে স্হান করে দিয়েছেন কৌশলে; উনি এক্ষেত্রে সব সময় ব্যবহার করেছেন এসব লোকদের কোন না কোন দুর্বলতা, যা তিনি সঠিকভাবে খেয়াল রাখেন।
আওয়ামী লীগের সবাই কিন্তু উনার নীতি অনুসরণ করেন, আওয়ামী লীগের সকল নেতাই চেস্টা করেন যে, তার এলাকায় যেন নতুন কেহ শক্তিশালী নেতা হতে না পারে; এই কারণে দলটিতে শেখ সাহেবের পর কোন নেতার উদ্ভব ঘটেনি, এবং শেখ হাসিনার পরও কোন নেতা থাকবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


