
বাংলাদেশের ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কারণে কারো সাথে বিবাদ বেঁধে যুদ্ধ লাগার সম্ভাবনা আপাতত নেই; বাংলাদেশের কিছু নাগরিককে কোন দেশের সরকার আটকায়ে রাখলে, বাংলাদেশ সেই দেশের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষনা করবে না; হয়তো চেস্টা করবে কুটনৈতিকভাবে তাদের মুক্ত করতে। বাংলাদেশের সাথে ভারত ও বার্মার ভুমি বা বর্ডার সমস্যা নেই, যা দখলের চেস্টা চালাতে পারে ভারত বা বার্মা।
রোহিংগা সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে কয়েক লাখ মানুষ, ও ব্লগে কয়েকজন সাজেশান দিয়ে ছিলেন যে, আমাদের উচিত আরাকান দখল করে, সেটাকে রোহিংগাস্হান বানিয়ে দেয়ার জন্য; এরা যুদ্ধের প্ল্যান, সমরাস্ত্র, সৈনিক সংখ্যা দিয়ে যুক্তি খাড়া করেছিলেন যে, এ ধরণের যুদ্ধ সম্ভব। ফেসবুক মানে ফেসবুক, মোটামুটি ছবির মডেলদের আন্তর্জাতিক এলবাম; কিন্তু ব্লগারদের ভাবনার লেভেল ইতিমধ্যে আরো উপরের লেভেলে যাওয়ার কথা ছিলো; চাইলেই বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ করা যায় না; এমন কি কারণ থাকলেও অর্থনৈতিক কারণে ও বিশ্ব রাজনীতির কারনে যুদ্ধ এখন আর সমাধান নয়।
বিশ্বের সব দেশের সাথে, বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের একটা প্রোফাইল আছে: আধা-গণতান্ত্রিক, নিম্ন আয়ের দেশ, শিক্ষিতের হার ৫০%, শিক্ষিত বেকার আছে, প্রতি বর্গমাইলে ৩ হাজার মানুষ বাস করে, মৌসুমী অন্চলে অবস্হিত, ঝড়-তুফান প্লাবনের দেশ, সায়েন্স ও টেকনোলোজীতে পেছনে, সস্তা শ্রম সরবরাহের প্রাচার করে বিনিয়োগ চায়, শিক্ষার মান নীচু, ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই ধরণের প্রাফাইলে থাকার ফলে, আগামীকাল হঠাৎ করে কেহ ফিজিক্সে নোবেল পাবার সম্ভাবনা নেই, বা একদিনে কেহ হেনরী কিসিন্জারের মত কুটনীতিবিদে পরিণত হবে না; হয়তো সর্বাধিক জুলফিকার আলী ভুট্টোর জন্ম হতে পারে, যুদ্ধ বিগ্রহ লাগিয়ে দিয়ে শেষ নিজেই ম্যানিলা রশিতে ঝুলে যাবে।
অনেকই আক্ষেপ করছেন যে, রোহিংগাদের নিয়ে আমরা কুটনৈতিক সাফল্য দেখাতে পারিনি, আমাদের বন্ধুরা পাশে থাকেনি, শত্রুরা বেশী শক্তিশালী; চীন ও ভারতকে বন্ধু ভাবা ঠিক হয়নি, ব্লা ব্লা ব্লা! আসলে চীন ভারত আমাদের বন্ধু নয়, আমাদের সাথে তাদের কোন জোটও নেই! চীনের সাথে আমাদের বাণিজ্য আছে, সেই বাণিজ্যের জন্য তারা আমাদের হয়ে জাতি সংঘে কথা বলার কথা নয়; যেহেতু রোহিংগারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়, চীনারা বাংলাদেশের পক্ষে কিছু বলার কথাও নয়। আর ভারত, ভারতও আমাদের সাথে বাণিজ্য করে শুধু এখন, প্রতিদিন ১৯৭১ সাল নয়। ভারতের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও কিছু সমস্যা আছে, সেসব চুক্তির শর্ত ও রোহিংগা সমস্যা ভারতের জন্য এক নয়।
বিভিন্ন দেশের মাঝে জোট থাকে: অর্থনৈতিক, সামরিক, সাংস্কৃতিক; বাংলাদেশের অবস্হা এমন জায়গায় যে, কারো সাথে এসব জোট হবার নয়; কেহ বাংলাদেশের সাথে শিক্ষা বা সাংস্কৃতিক জোট করার মত ভাষা ও ঐতিহাসিক কানেকশন নেই; অর্থনীতি জোরালো নয় যে, কোন ধরণের পারস্পরিক সহযোগীতা ও বাজার চালু হবে; বাংলাদেশে মিলিটারীর দিক থেকে এমন অবস্হানে নয় যে, কেহ সামরিক চুক্তি করবে।
অকারণে কল্পিত বন্ধু-হারানোর দু:খ পাবার কিছু নেই, আমাদের শত্রুও নেই; আমরা নিজের থেকেই, অবস্হাগত কারণে জোট নিরপেক্ষ দেশ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



