
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সুন্দর সংসদ ভবনটি হচ্ছে বাংলাদেশের; সেই সংসদে আছেন ১৯৯০ সালে বিতাড়িত ডিকটেটর জেনারেল এরশাদ, সাথে আছেন উনার স্ত্রী, রওশন এরশাদ, যিনি আবার বিরোধীদলের প্রধান; এই ধরণের সংসদের হাতে আপনার চাকুরীর অপসারণ, বা সম্প্রসারণ আপনি চাইবেন? আমার মনে হয়, সরকারী অফিসের একজন পিয়নও চাইবে না যে, তাদের চাকুরী সংসদের হাতে থাকুক! বিচারপতিরা আইনের মানুষ, তারা তাদের চাকুরীর জন্য এসব লোকদের বিশ্বাস করবেন? বিচারকদের বউ, ছেলেমেয়ে আছে, উনারা তো বাতাস খেয়ে বেঁচে থাকেন না; তাঁরা এই সংসদের হাতে তাদের চাকুরীটা কিভাবে সমর্পণ করবেন? পিয়নদের হাতে, কিংবা আপনার হাতে ক্ষমতা না থাকলেও হাইকোর্টের বিচারকদের হাতে কিছু ক্ষমতা আছে; তারা সেটাকে কাজে লাগিয়ে, রায় দিয়েছিল যে, সংসদের হাতে তাদের চাকুরী থাকবে না; রায়টি ভালো, প্রত্যকে নাগরিকের নিজের চাকুরী রক্ষার অধিকার আছে।
বিচারপতি সিনহা ভালো রায় দিয়েছেন; যদিও মাত্র ছোট একটা গোষ্ঠির পক্ষে রায়টি গেছে, রায়টি নাগরিক অধিকার রক্ষার উদাহরণ হয়েছে; কিন্তু দেশবাসী আওয়ামী লীগকে জানে, উহারা কিছু নিয়ে লেগে গেলে, তারা আইন মাইনের কথা মনে রাখে না; এটা আওয়ামী লীগের জেনেটিক্যাল স্বভাব; এবারও আওয়ামী লীগ লেগে গেছে; ফলাফল, তাদের নিযুক্ত বিচারপতি আজকে তাদের হাতেই কাপুত, ফিনিতো! নিজেদের নিযুক্ত বিচারপতিকে হয়তো দেশ ছাড়া করেছে আওয়ামী লীগ।
সাধারণভাবে দেখলে মনে হবে যে, বিচারপতি সিনহা নিজের ও উনার ভ্রাতাদের চাকুরী রক্ষার রায়ে কিছু শিব-গীতিও গেয়েছেন; তবে, শিবের ভালো গীতি; তিনি রায়ের পর্যবেক্ষণের এক স্থানে বলেছেন, মানবাধিকার ঝুঁকিতে, দুর্নীতি অনিয়ন্ত্রিত, সংসদ অকার্যকর, কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। রায়ে সরকার, সংসদ, রাজনীতি, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, সামরিক শাসন এবং রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে এমন অনেক পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। এগুলো সরকার ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা।
একজন বিচারপতি থেকে শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনাগুলো পেয়েছেন, এটা শেখ হাসিনার জন্য বিরাট পাওনা; কারণ, সরকারের অংশ হয়ে, সরকারের সঠিক সমালোচনা কোন বাংগালী কোনদিন করেনি, তাঁর সরকারে এই ধরণের লোক নেই; শেখ হাসিনা এই সমালোচনাগুলোকে ধরে নিয়ে, এই অবস্হাগুলোর সমাধান করার চেস্টা করতে পার্তেন। এগুলো বিএনপি'র রিজভী সাহেব থেকে আসেনি, টং দোকানের আড্ডা থেকে আসেনি, এসেছে উনার নিযুক্ত, দেশের প্রধান বিচারপতি থেকে।
দেশবাসী একজন প্রধান বিচসারপতি থেকে যা যা শুনেছেন, সেগুলো সহসা ভুলবেন না; সরকার থাকলে সমালোচনা থাকবে, সমালোচনাকে কাজে লাগিয়ে সেসব সমস্যা সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। শেখ হাসিনা বাহবা নিতে পারতেন যে, উনার প্রধান বিচারপতি সরকারের গঠনমুলক সমালোচনা করেছেন; সরকার প্রধান হিসেবে তিনি এই সমস্যাগুলো সমাধান করার দায়িত্ব নেবেন; এটা হতে পারতো উনার জন্য ও মানুষের জন্য বিরাট সুখবর, উনার সুনাম বাড়তো; আওয়ামী লীগের সরকার সেটা বুঝতে সক্ষম হয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



