
কোটা নিয়ে আন্দোলন ও প্রাপ্তি পুরোপুরি সাধারণ ছাত্রদের কৃতিত্ব, এটা ছিলো মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন; এই আন্দোলন শেখ হাসিনার সরকারকে বেশ চাপে ফেলেছে, এবং এটার খুবই দরাকার ছিলো; কারণ, বিএনপি'কে পরাজিত করার পর, আওয়ামী লীগ নিজকে মোটামুটি দেশের মালিক হিসেবে ধরে নিয়েছে; সেলিব্রেশন মুডে আছে, পায়ে মাটি লাগেনি দীর্ঘ সময়। প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনের গুরুত্ব বুঝেছেন, এবং একটি কমিটিকে কোটা নিয়ে কাজ করতে বলেছেন; শীঘ্রই ফলাফল আসবে; কোটায় বিরাট সংস্কার হবে।
সংবাদে দেখলাম, বিএনপি'র কোন এক 'গোল টেবিলে', বিএনপি নেতা খোন্দকার মোশারফ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় সন্দেহ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে সরকারি প্রজ্ঞাপন দাবি করেছেন; এটা আসলে ভয়ানক অনাধিকার চর্চা; কারণ, উনার ব্যক্তিত্ব ও বিএনপি'র বর্তমান অবস্হা, এই আন্দোলনে বিএনপির আলু পোড়ানোর মত কয়লা ফেলেনি; প্রধানমন্ত্রী উনাকে বা বিএনপি'কে এই ব্যাপারে কোন দাম দেবে না; এবং ক্ষেপে যেতে পারেন।
বিএনপি'র সময় এই কোটা ছিলো; অবশ্যই ভয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো এই কোটার সুযোগ নেয়নি; বিএনপি'র মুল নেতারা মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী ছিল; তারা বিশ্বাস করতো যে, পাকিস্তান ভেংগে গেলে ভারত লাভবান হবে, মুসলিম দেশ পাকিস্তান দুর্বল হয়ে যাবে; কোন অবস্হায় ভারতকে লাভবান হতে দেয়া যাবে না, এতে বাংগালীরা জাহান্নামে গেলে যাক। আসলে, উনাদের মতো পরিবারের বাংগালীরা যেকোন অবস্হায় ভালো থাকবে, এরা সাধরণ বাংগালী নন।
মানুষ যেভাবেই নিবে নিক, কিছু ঐতিহাসিক কারণে, প্রাইম মিনিষ্টার বিএনপি'কে যেকোনভাবেই ঠেকানোর চেষ্টা করবেন; এবং কোটার ব্যাপারে বিএনপি'র কোন কথা শুনতে চাইবে না; বিএনপি ভালো বললেও উনি সহজভাবে না নেয়ার সম্ভাবনা।
বিএনপি ১৯৭৬-১৯৮২ সাল পিরিয়ডে, ১৯৯১-১৯৯৬ সাল পিরিয়ডে, ২০০১- ২০০৬ সাল পিরিয়ডে ক্ষমতায় ছিলো; তারা কোটা সংস্কার করেনি; "চাকুরী সৃষ্টি" নামক শব্দ উনাদের ডিকশনারীতে নেই; সুতরাং, এখন অফ থাকার সময়। মনে হয় না, এই অবস্হায় খোন্দকার সাহেব উনার আলু পোড়াতে পারবেন; এখন ক্রিটিক্যাল সময় চলছে, ছাত্র ও অনেক বেকারের ভাগ্য নির্ধারণের সময়; সাথে সাথে আওয়ামীদের মুড অফের সময়।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৮:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




