somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মে দিবস: আপনার একটা জুট মিল ছিলো, বেগম জিয়া খেয়ে ফেলেছেন!

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নারায়নগন্জের আদমজী জুটমিল(১৯৫১-২০০২), ইহা ১৯৭২ সাল থেকে ২০০২ সাল অবধি আপনার ছিল; লভ্যাংশ থেকে চেক টেক পেয়েছিলেন কোনদিন? মনে হয়, আপনি পাননি! আপনি চেক পাননি বলেই হয়তো বেগম জিয়াকে জেলে যেতে হয়েছে। জুটমিলটি ছিলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিল, এবং আপনি উহার মালিক ছিলেন; ভাবতে কেমন লাগছে? আপনি হয়তো আজকে বেকার, কিন্তু ২০০২ সালেও আপনি একটা জুটমিলের মালিক ছিলেন!

উহা লোকসান দেয়া শুরু করেছিলো আশি সালের দিকে, ক্রমাগতভাবে লোকসান দেয়া বিজনেস তো আজীবন পোষা যায় না, সেটা আপনিও বুঝন; তাই বেগম জিয়া, উহাকে বন্ধ করে দিয়েছিলেন; দেখছেন, বেগম জিয়া কত বড় ফাইন্যান্স গুরু ছিলেন? উনি বন্ধ করার সময় উহাতে ৬৫ হাজার রেগুলার কর্মচারী ছিলেন, যার বেশীর ভাগই শ্রমিক; শ্রমিকেরা আজকে কোথায় আছেন, আপনিও জানেন না, বেগম জিয়াও জানেন না; কিন্তু আপনি জানেন, বেগম জিয়া কোথায় আছেন। জুটমিল বন্দ্ধ করলে লালঘরে যাওয়াই সঠিক!

আসলে, মানুষ যদি চাকুরী করে, এবং সেটা যদি জাতির সম্পদ হয়, উহাকে লোকসান দিয়েও রাখতে হয়; উহাতে ১ লাখ পরিবার চলছিল; কেহ না কেহ, উহার সমস্যার সমাধান করতে পারতো, সব বাংগালী তো ইডিয়ট নন।

আদমজীরা পাকী ছিলো না, ওরা ভারত থেকে এসেছিলো, কিন্তু উর্দুভাষী; ভারত থেকে আসার সময় কিছু ক্যাপিটেল এনেছিলো, সেটা দিয়ে তারা ব্যবসা করতে আদমজী করেছিলো; তখন বাংগালীদের হাতে ক্যাপিটেল ছিলো না। আইয়ুব খানের আমলে, আদমজী সরকারের ঋণ পেয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুটমিলে পরিণত হয়; এরা পাকিস্তানের বিখ্যাত ২২ শিল্প পরিবারের এক পরিবার। এই পরিবারগুলোকে আইয়ুব খান খুবই ভালোবাসতো; এরা আইয়ুবের সব সাহায্য পেতো। আইয়ুব খান ডিক্টেটর ছিলো, নিজেই এক গণতন্ত্র আবিস্কার করেছিলো; বাংগালীদের পছন্দ করতো না; কিন্তু চোর ছিলো না, হাজার হলেও বৃটিশের জেনারেল; গলাকাটা ক্যাপিটেলিজমের বড় পৃষ্টপোষক ছিলো।

আদমজী ততকালীন সময়ের জন্য মোটামুটি বেশ মানবিক ছিলো: শ্রমিকদের কলোনী ছিলো, ভেতরে স্কুল কলেজ ছিলো। কিন্তু বাংলাদেশের আসল সম্পদ পাটের ব্যবসা করে তারা "বিলিওনিয়ার" হচ্ছিল, আর বাংগালীরা তাদের শ্রমিক, এটা ক্রমেই সমস্যা হয়ে উঠছিলো। যাক, স্বাধীনতার সময় আদমজী পরিবার তাদের কারখানা ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলো পাকিস্তানে; না পালালে ভালো হতো; যদি ভারতে পালাতো, ফিরে আসতে পারতো!

১৯৭২ সালে, শেখ সাহেব উহাকে 'জাতীয় করণ' করেন, অর্থাৎ আপনাকে সাড়ে ৭ কোটি ভাগের ১ ভাগ মালিকানা দিয়েছিলেন। ২০০২ সালে, আপনার মালিকানা ছিলো ১৪ কোটী ভাগের একভাগ; আজকে আপনার মালিকানা নেই, বেগম জিয়া উহাকে বিলুপ্ত করে দিয়েছে ২০০২ সালে; বেগম জিয়ার জেল ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার দরকার আছে, কি বলেন?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৮ রাত ৩:৪২
৪০টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×