
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে; ইহার রাজধানী ছিল তেল-আবিব শহর। ১৫ই মে ভোরে, ১২টি আরব দেশ সন্মিলিতভাবে উহাকে আক্রমণ করে দখল করে নেয়ার জন্য; শেষমেষ, আরবেরা পরাজিত হয় আমেরকার সরাসির সাহায্যের কারণে; উল্টো, প্যালেষ্টাইনের শতশত গ্রাম দখল করে নেয় ইহুদীরা। ১৯৬৭ সালে আবার ইসরায়েলের সাথে মিশর, সিরিয়া ও জর্ডানের যুদ্ধ হয় প্যালেষ্টাইন নিয়ে; এই যুদ্ধেও মিশর, সিরিয়া ও জর্ডান পরাজিত হয়, এবং নিজেদের এলকা হারায় ইসরেয়েলের কাছে; ইসরায়েলী বাহিনী প্যালেষ্টাইনের বিরাট এলাকা দখল করে নেয়, একই সাথে জেরুসালেম শহরের পুর্ব এলাকা। পুর্ব জেরুসালেম শহরকে ইহুদীরা নিজেদের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়। ইউরোপ ও আমেরিকা সেই সময়ে ইহা মানিয়া নেয়নি।
প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন, বুশ, ওবামা ও ট্রাম্প নির্বাচনের সময় ইহুৈিদের সমর্থন পাবার জন্য পুর্ব জেরুসালেম শহরকে ইসরেয়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকার করে নেয়; কিন্তু প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন, বুশ ও ওবামা আমেরিকান এম্বেসী তেল-আবিবেই রেখে দেয়; শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এম্বেসী পুর্ব জেরুসালেমে স্হানান্তিত করার অর্ডার দেয়। গতকাল, ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসে এম্বেসী চালু করা হয়েছে; চালু করার অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের মেয়ে ইভাংকা ও তার স্বামী জেরেড কুশনার উপস্হিত ছিলো।
গতকাল, গাজাতে এই নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়, আজকেও চলছে, প্রায় মিলিয়ন মানুষ জড়ো হয়েছে গাজা-ইসরেয়েলী সীমান্তে; ইতিমধ্যে ৩৭ জন প্যালেষ্টাইনী ইসরেয়েলী সৈন্যদের হাতে প্রাণ হারায়েছে, ১৫ শতের বেশী আহত; তারা ইসরেয়েলের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে, ইহা ভয়ংকর বেকুরী ও আত্মঘাতী; প্রতিবাদ করার জন্য নিজ এলাকায় সভা করাই উত্তম পন্হা। গাজার প্রশাসন মুলত: হামাসের হাতে; ফলে, এখানে পশ্চিম তীর থেকে বেশী প্রতিবাদ হচ্ছে, ও অকারণে মানুষ মরছে। মনে হচ্ছে, শুক্রবার জুমার পরে জেরুসালেমে পিএলও'র লোকেরা ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করবে, ও কয়েকজনের প্রাণ যাবে।
১৯৯৩ সালের ওসলো শান্তি চুক্তি অনুসারে, জেরুসালেম "স্বাধীন শহর" হওয়ার কথা ছিলো; অথবা, চুক্তি কার্যকরী হলে, ২ পক্ষ মিলে এই শহরের ভবিষ্যত নির্ধারণের কথা ছিলো; তখন ইহাকে ২ দেশের রাজধানী করাও সম্ভব ছিলো।
আজকে জেরুসালেম কিন্তু আসলে প্যালেষ্টাইনেরও রাজধানী, কমপক্ষে ফ্রান্স স্বীকৃতি দিয়েছে; কিন্তু সমস্যা হলো, প্যালেষ্টাইন নামে কোন স্বাধীন দেশ নেই, আছে উহার রাজধানী।
ওসলো শান্তি চুক্তিতে ইহুদীরা ও প্যালেষ্টাইনীরা মিলে ২ দেশে শান্তিতে বসবাস করার কথা: ১ দেশ আছে, অন্যদেশ প্যালেষটাইন প্রতিষ্টা করার কথা ছিলো; চুক্তির ১ম শর্ত ছিলো বর্তমান প্যালেষ্টাইন এলাকা থেকে ইহুদী বিরোধী সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে; সেটাকে কার্যকরী করার জন্য প্যালেষ্টানীদের অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে। ইয়াসীর আরাফাত কোনভাবেই সন্ত্রাস বন্ধ করতে পারেনি। চুক্তি অনুসারে, ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে যেসব এলাকা দখল করেছে সেসব এলাকা ও বর্তমান এলাকা নিয়ে হবে নতুন দেশপ্যালেষ্টাইন; দখলকৃত এলাকায় ইতিমধ্যে লাখ লাখ ইদুদীর জন্য "ফ্রি স্যাটেলমেন্ট" গড়েছিল ইসরায়েল; এদের সরায়ে মুল ইসরায়েলের ভেতরে নিয়ে যাবার কথা ছিলো।
যেসব কারণে শান্তি চুক্তি কার্যকরী হয়নি, তার মাঝে বড় ২টি কারণ হচ্ছে, প্যালেষ্টাইনী পুলিশের বাহিরে, পিলএলও ও হামাসের সাধরণ সদস্যদের কাছে অস্ত্র আছে, ইহুদীরা এটাকে সন্ত্রাসে মুল কারণ মনে করে; অন্য কারণ হলো, প্যালেষ্টাইনীরা দাবী করছে ইসরায়েলের ভেতরে যেসব গ্রাম থেকে আরবদের উৎখাত করা হয়েছে, তাদেরকে নিজের গ্রামে ফেরত যেতে দিতে হবে; এদের সংখ্যা পৃথিবীতে ৬ মিলিয়নের কাছাকাছি; এরা যদি ইসরায়েলের ভেতর ফেরত যায়, তা'হলে ইসরায়েলের ভেতরে আরবদের সংখ্যা হবে ৭ মিলিয়ন, আর ইহুদী হবে ৬ মিলিয়ন; এটা ইহুদীরা হতে দিবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

