
শেখ হাসিনা ৬ বছরের বেশী নির্বাসনে থেকে, ১৯৮১ সালের মে মাসের ১৭ তারিখে দেশে ফিরেন; সেদিন থেকে ঠিক ২ সপ্তাহ পরে, ৩০ মে জেনারেল জিয়া প্রাণ হারান মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হাতে; জাতি সম্ভাব্য হাজারদিনের কাহিনী থেকে বন্চিত হলো, অনেক কিছু ঘটার সম্ভাবনা ছিলো, জেনারেল জিয়া কিছুই দেখার, কিছুই খেলার সুযোগ পেলেন না। ১৯৭৫ সালে যে গৃহবধু ইউরোপে গিয়ে আটকা পড়ছিল, সেই গৃহবধু জীবন বাজী রেখে, ১৯৮১ সালে জিয়ার ক্যানটনমেন্টে পা রেখেছিলো রাজনৈতকদলের সভাপতি হিসেবে।
শেখ হাসিনা জেনারেল জিয়ার ভয়ে দেশে ফেরেনি, বিনা অপরাধে ৬ বছর বিদেশে লুকায়ে থাকতে হয়েছে; ততকালীন বাংলাদেশের কিছুতেই যুক্ত ছিলো না শেখ হাসিনা; সৌভাগ্য, বিদেশে থাকাতে প্রাণে বেঁচে গেছে! জেনারেল জিয়া রাজনীতিতে শুন্যতা সৃষ্টি করাতে এই গৃহবধুর হাতে চলে গেলো বাংগালীদের রাজনৈতিক দল।
জেনারেল জিয়া যতদিন পাকা হয়ে বসতে পারেনি, শেখ হাসিনাকে ফেরার অনুমতি দেয়নি; যখন উনি ভেবেছিলেন, সময় হয়েছে, আসুক শেখের মেয়ে, দেখা যাক, উহা কোন জেনারেল, শুধু তখনি আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুরোধে অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন যে, তিনি আইয়ুবের মত শক্ত হয়ে বসেছেন; কিন্তু উনার হিসেবে ভুল ছিলো।
আজ কি অদ্ভুত মিল, সেই জেনারেল জিয়ার ছেলে, সেই শেখ হাসিনার ভয়ে দেশে আসছে না। শেখ হাসিনা জেনারেল জিয়ার ভয়ে ৬ বছর আসেনি, জেনারেলের ছেলে ৬০ বছর পর ফিরবে কিনা কে জানে!
শেখ হাসিনার জীবন সুখের ছিলো না; তবে, তিনি কি করবেন সেটা তিনি জানতেন, বাকীরা সেটা কোনদিন অনুমানও করতে পারেনি; ফলে, তিনি নিজের মিশন নিয়ে একাকী ছিলেন সব সময়। এটা সঠিক যে, শুরুতে তিনি বাংলাদেশের তথাকথিত ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বুঝার মত অবস্হানে ছিলেন না; উনাকে প্রতিনিয়ত শিখতে হয়েছে; এবং যতটুকু শিখেছেন, আজকে উনাকে শেখ মুজিবর রহমানের গুরু বললেও ভুল হবে না।
যারা শেখ সাহেবের মৃত্যুর বিচার বন্ধ করার জন্য সংসদে ভোট দিয়েছিলেন, আজ তারা উনার কাছে "সুষ্ঠু ভোট" চাচ্ছেন; যারা ১৫ই আগষ্টে কেক খেয়েছিলেন, আজকে তাদেরকে গুলশান অফিসের আশেপাশে দেখা যাচ্ছে না। যারা ভেবেছিল, শেখ সাহেবের ঘরে বাতি নিবে গেছে, আজকে তারা নিজের ঘরে আলো নিবিয়ে বসে আছে।
উনি হিংসার বদলে ভালোবাসা দিয়ে হয়তো বাংলাকে সাজাতে পারতেন; কিন্তু সেটা ঘটেনি, উনি বদরুদ্দোজ্জা, ড: এমাজুদ্দিদের বা ক্যাপটেন অলিদের মতই মানুষ, শুধু উনাদের তুলনায় একটু সামান্য, একটু বেশী কৌশলী; উনি ক্ষমা করতে পারেননি হত্যাকারীদের, পারলে ভালো হতো; অবশ্য সাপকে ক্ষমা যারা করেছে, তারা বেঁচে থাকেনি দীর্ঘদিন।
যাক, ১৯৮১ সালের থেকে ২০১৮ সাল, অনেক লম্বা সময়; উনার জন্য কঠিন সময় ছিলো, বাংগালীদের জন্য কঠিন সময়, উনার বাবার হত্যাকারী ও বেনেফিসিয়ারীদের জন্য একটু সামান্য বেশী কঠিন সময় পার হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৮ রাত ১০:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


