somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অরাজনৈতিক গৃহবধুর নির্বাসন, ৬ বছর পর লাঠি হাতে প্রত্যাবর্তন

১৮ ই মে, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শেখ হাসিনা ৬ বছরের বেশী নির্বাসনে থেকে, ১৯৮১ সালের মে মাসের ১৭ তারিখে দেশে ফিরেন; সেদিন থেকে ঠিক ২ সপ্তাহ পরে, ৩০ মে জেনারেল জিয়া প্রাণ হারান মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হাতে; জাতি সম্ভাব্য হাজারদিনের কাহিনী থেকে বন্চিত হলো, অনেক কিছু ঘটার সম্ভাবনা ছিলো, জেনারেল জিয়া কিছুই দেখার, কিছুই খেলার সুযোগ পেলেন না। ১৯৭৫ সালে যে গৃহবধু ইউরোপে গিয়ে আটকা পড়ছিল, সেই গৃহবধু জীবন বাজী রেখে, ১৯৮১ সালে জিয়ার ক্যানটনমেন্টে পা রেখেছিলো রাজনৈতকদলের সভাপতি হিসেবে।

শেখ হাসিনা জেনারেল জিয়ার ভয়ে দেশে ফেরেনি, বিনা অপরাধে ৬ বছর বিদেশে লুকায়ে থাকতে হয়েছে; ততকালীন বাংলাদেশের কিছুতেই যুক্ত ছিলো না শেখ হাসিনা; সৌভাগ্য, বিদেশে থাকাতে প্রাণে বেঁচে গেছে! জেনারেল জিয়া রাজনীতিতে শুন্যতা সৃষ্টি করাতে এই গৃহবধুর হাতে চলে গেলো বাংগালীদের রাজনৈতিক দল।

জেনারেল জিয়া যতদিন পাকা হয়ে বসতে পারেনি, শেখ হাসিনাকে ফেরার অনুমতি দেয়নি; যখন উনি ভেবেছিলেন, সময় হয়েছে, আসুক শেখের মেয়ে, দেখা যাক, উহা কোন জেনারেল, শুধু তখনি আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুরোধে অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন যে, তিনি আইয়ুবের মত শক্ত হয়ে বসেছেন; কিন্তু উনার হিসেবে ভুল ছিলো।

আজ কি অদ্ভুত মিল, সেই জেনারেল জিয়ার ছেলে, সেই শেখ হাসিনার ভয়ে দেশে আসছে না। শেখ হাসিনা জেনারেল জিয়ার ভয়ে ৬ বছর আসেনি, জেনারেলের ছেলে ৬০ বছর পর ফিরবে কিনা কে জানে!

শেখ হাসিনার জীবন সুখের ছিলো না; তবে, তিনি কি করবেন সেটা তিনি জানতেন, বাকীরা সেটা কোনদিন অনুমানও করতে পারেনি; ফলে, তিনি নিজের মিশন নিয়ে একাকী ছিলেন সব সময়। এটা সঠিক যে, শুরুতে তিনি বাংলাদেশের তথাকথিত ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বুঝার মত অবস্হানে ছিলেন না; উনাকে প্রতিনিয়ত শিখতে হয়েছে; এবং যতটুকু শিখেছেন, আজকে উনাকে শেখ মুজিবর রহমানের গুরু বললেও ভুল হবে না।

যারা শেখ সাহেবের মৃত্যুর বিচার বন্ধ করার জন্য সংসদে ভোট দিয়েছিলেন, আজ তারা উনার কাছে "সুষ্ঠু ভোট" চাচ্ছেন; যারা ১৫ই আগষ্টে কেক খেয়েছিলেন, আজকে তাদেরকে গুলশান অফিসের আশেপাশে দেখা যাচ্ছে না। যারা ভেবেছিল, শেখ সাহেবের ঘরে বাতি নিবে গেছে, আজকে তারা নিজের ঘরে আলো নিবিয়ে বসে আছে।

উনি হিংসার বদলে ভালোবাসা দিয়ে হয়তো বাংলাকে সাজাতে পারতেন; কিন্তু সেটা ঘটেনি, উনি বদরুদ্দোজ্জা, ড: এমাজুদ্দিদের বা ক্যাপটেন অলিদের মতই মানুষ, শুধু উনাদের তুলনায় একটু সামান্য, একটু বেশী কৌশলী; উনি ক্ষমা করতে পারেননি হত্যাকারীদের, পারলে ভালো হতো; অবশ্য সাপকে ক্ষমা যারা করেছে, তারা বেঁচে থাকেনি দীর্ঘদিন।

যাক, ১৯৮১ সালের থেকে ২০১৮ সাল, অনেক লম্বা সময়; উনার জন্য কঠিন সময় ছিলো, বাংগালীদের জন্য কঠিন সময়, উনার বাবার হত্যাকারী ও বেনেফিসিয়ারীদের জন্য একটু সামান্য বেশী কঠিন সময় পার হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৮ রাত ১০:২৯
৫৫টি মন্তব্য ৫৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচার করতে হবে! :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি লুইচ্যা হামিদের সংগে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপিতে যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"কর্পোরেট_ফ্যাক্টসমুহ"

লিখেছেন মামুন রেজওয়ান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"কর্পোরেট_ফ্যাক্ট_২১"



সব সময় ইন্টার্ভিউ দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমরা জানতে পারি অনলাইনে। কিন্তু যারা ইন্টার্ভিউ নেন বিভিন্ন পজিশনের জন্য তাদের অভিজ্ঞতা খুব একটা জানা হয়না আমাদের। তাই আমরাও যারা মোটামুটি এক্সপেরিয়েন্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

×