
বাংলাদেশের জন্মের রাজনৈতিক ইতিহাস, বাংলাদেশের গত ৪৭ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের এনালাইসিস, আজকের রাজনৈতিক অবস্হা ও ঘটনাপ্রবাহ এনালাইসিস করা, ও আগামীদিনের রাজনৈতিক প্রেডিকশনের জন্য একটি নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্হার দরকার। সরকারীভাবে এটাকে একটা রিসার্চ ইনষ্টিটিউট হিসেবে শুরু করা সম্ভব; এর ব্যয়ভার সরকার বহন করবে; কিন্তু প্রাথমিকভাবে এটাকে নিরপেক্ষ রাখার জন্য কমপক্ষে ১০ বছর বিদেশী ডিরেক্টটরদের অধীনে পরিচালনা করতে হবে।
অথবা বেসরকারীভাবে এই ধরণের গবেষনা ইনষ্টিটিউ চালু করা সম্ভব, যার ব্যয়ভার চলবে সাধরণ মানুষের 'ক্ষুদ্র অনুদানের' থেকে; এই ধরণের ইনষ্টিটিউট দেশের কর্পোরেশন, ধনী ব্যক্তিত্ব, বা রাজনৈতিক দলের অনুদান, কিংবা বিদেশী অনুদান নিতে পারবে না; এদের রিসার্চ রিপোর্ট দেশের সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি করা হবে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্হিতিতে দ্বিতীয় ধরণের রিসার্চ ইনষ্টিটিউট করাই সঠিক হবে; কারণ, বাংলাদেশের সরকারগুলো সব ধরণের সরকারী ও আধা-সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে ফেলে সহজেই।
বাংলাদেশের সাধরণ মানুষ খুবই উৎসাহের সাথে রাজনীতিতে অংশ গ্রহন করেন, ভোট দেন ও রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন; অত্যন্ত দু:খের বিষয় হলো যে, তাদের ভাবনার সাথে দেশের প্রকৃত রাজনীতির সাথে কোন মিল থাকে না। বেশীরভাগ মানুষ মিডিয়া ও নিজের অনুমানের উপর ভর করেই নিজের মনগড়া একটি রাজনৈতিক ধারণা পোষণ করেন, যা অন্যদের সাথে তেমন মিলে না; এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পদক্ষেপের সাথে মোটেই মিলে না। আবার সরকারের সাথে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ধারণা কোন দিনও মিলে না; কারণ, সরকার কি করে, কোনদিনও সাধরণ মানুষকে জানতে দেয় না।
সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ভাবনা, রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক আদর্শ ও কৌশল, এবং সরকারের রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাঝে একটা বিস্তর ফারাক থাকে। এই ফারাকটাকে সঠিকভাবে কেহ তুলে ধরে না জনসাধরণের কাছে। এখানেই পলিটিক্যাল ইনষ্টিটিউটের জন্য একটা বড় ভুমিকা থাকবে।
মানুষ যদি পলিটিক্যাল রিসার্চ ইনষ্টিটিউটের ভাবনার সাথে নিজেদের, সরকারের ও রাজননৈতিক দলগুলোর ভাবনাচিন্তা মিলিয়ে দেখার সুযোগ পায়, তারা সহজেই দেশের রাজনৈতিক অবস্হা অনুধাবন করতে পারবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৮ ভোর ৪:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



