
শেখ হাসিনা অনেক কিছু করেছেন, যাতে জাতির সার্বিক অবস্হান কিছুটা ভালো হয়েছে; কিন্তু জাতির সাধারণ মানুষ উনার উন্নয়নের ভাগ পাননি; উনার উন্নয়নের ভাগ সাধারণ মানুষ পেলে, তাঁরা পরিবার ফেলে নৌকায় ভুমধ্যসাগর পাড়ি দিতো না, পায়ে হেঁটে মেক্সিকো হয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করতো না, মৃত্যু অনেকটা নিশ্চিত জেনেও দক্ষিণ আফ্রিকায় যেতো না; ট্রলারে চড়ে চট্টগ্রাম থেকে মালয়েশিয়ায় যেতো না, নিজের বউকে কেহ আরব দেশে চাকরাণীর কাজে পাঠাতো না; শেখ হাসিনা উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্ধ করেন, কিন্তু উন্নয়নের ফসল কার ঘরে উঠে সেটার হিসেব রাখেন না; দেশের স্বল্প সংখ্যাক লোভী মানুষ উনার সব উন্নয়নের ফসল ঘরে তুলেছে; উনি জনপ্রিয়তা হারায়েছেন; উনার রাজনীতির, অর্থনীতির তত্বের ঠিক ঠিকানা নেই, মাথায় যা আসে, তা করে বেড়াচ্ছেন!
উনার দলে ভালো রাজনীতিবিদের অভাব আছে; যাদের উপর মানুষের আস্হা নেই, তারা উনার দলের মুখপাত্র; ড: হাছান মাহমুদ, হানিফ, মায়া, ইনুদের কথা মানুষ কোনভাবে বিশ্বাস করে না; এদের মুখে উন্নয়নের কথা শুনলে, মানুষ সত্য কথাকেও মিথ্যা হিসেবে নেন; শেখ হাসিনা এগুলো কোনভাবে বুঝতে পারছেন না, এটা উনার অদক্ষতা; এত অদক্ষতা নিয়ে এত বিশাল জনসংখ্যার দেশ চালানো সত্যই কঠিন; সবচেয়ে বড় দলের মালিক হলেই যে দেশ চালাতে পারবেন, সেটা সঠিক নয়।
যাক, ঐতিহাসিক কারণে সহজে ক্ষমতা ছাড়তে পারবেন না; কারণ, অন্য কোন দল ক্ষমতায় আসার মতো অবস্হানে নেই; এই অবস্হায়, জাতির ভোগান্তি কমাতে তিনি সংসদীয় এলাকার সবচেয়ে শিক্ষিত, দক্ষ, ও পপুলার লোকজনকে পার্লামেন্টে আনতে পারেন। এটা সঠিক যে, কোন এলাকার দক্ষ কোন লোক কোনভাবেই কোন দলে নেই, তাঁদেরকে যদি তিনি পার্লামেন্টে আনেন, তাঁর সরকারে মানুষের আস্হা আসবে।
দলের বাহিরের মানুষকে পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী করে পার্লামেন্টে আনা, কিংবা কেবিনেটে নেয়া বেশ কঠিন পদ্ধতি হবে; কিন্তু এটা ব্যতিত তিনি উন্নয়নের কথা বলে, শুধুমা্ত্র বসুন্ধরা, খুলনা পাওয়ার, সামিট পাওয়ার, ওরিয়ন, আলম ব্রাদার্স, সালমান রহমান গং পরিবারের ভোট পাবেন। উনার প্রতি জাতির আস্হা ফিরে না এলে, জাতির অস্হিরতা কমবে না; মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে চাইবে, জাতির শ্রমে অন্য জাতিরা গড়ে উঠবে বরাবরের মতো; এবং শেখ হাসিনাও অস্হিরতায় ভুগতে থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




