
মোটামুটি বেশ নীরবতার মাঝে, বেগম জিয়ার নতুন করে আরো ৭ বছরের জেল হয়েছে, এবার সশ্রম কারাদন্ড, উনাকে কাজকর্মও করতে হবে জেলের ভেতর; উনি নিজে এখন হাসপাতালে; চারিদিক নীরব, আইনজীবিরা রায়ের সময় থাকেনি, মির্জা সাহেব হয়তো কামাল সাহেবের সাথে ভোট নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত; তবে, ফাতেমা আছে উনার সাথে সারাক্ষণ।
১৯৭৫ সালের হত্যাকান্ডের পর, দেশ এই ধরণের সমস্যার ভেতর প্রবেশ করার কথা ছিল; এত বড় হত্যাকান্ড কেহ রুমাল দিয়ে চাপা দিয়ে রাখার ক্ষমতা রাখে না; যারা দেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৭০ সালের ভোটে জয়ী বাংগালী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তাকে হত্যা করেছিল, কিংবা হত্যাকে কাজ লাগিয়ে ক্ষমতায় দখল করে থাকতে চেয়েছিল, তারা আসলে, বেকুবের স্বর্গে বাস করছিলো। জেনারেল জিয়া ১৯৭৫ সালের হত্যাকে দখল করে দেশের সামরিক প্রধান হয়ে, নিজকে প্রানদন্ড দিয়েছিলেন আসলে।
ততকালীন মিলিটারী অফিসারদের বউদের মুল কোশালীফিকেশন ছিল দৈহিক সৌন্দয্য; বাংলাদেশ, পাকিস্তানে মিলিটারী অফিসারেরা এলিট গ্রুপের লোকজন; তারা ক্লাবে ম্লাবে যান স্ত্রীদের নিয়ে, তাই তাদের বউগুলো একটু চোখে পড়ার মতো হওয়ার দরকার ছিল; বেগম জিয়াও সেই শ্রেণীর একজন।
১৯৮৩ সালে, মিলিটারীর একাংশ ও বিএনপি'র ডা: বদরুদ্দোজা সাহেব বেগম জিয়াকে এক লাফে বিএনপি'র সভাপতি করে দেন; রাজনীতি কি জিনিষ তা বুঝতেন বলে মনে হয় না; সরকার কিভাবে চলে, সেখানে টাকশালে এত টাকা কোথা থেকে আসে, আবার কোথায় যায়, এসব ব্যাপারে উনার ধারণা থাকার কথা নয়।
দেশের অস্হিরতার এক সুযোগে উনি দেশের প্রাইম মিনিষ্টারও হয়ে যান; এরপর তাঁকে নিয়ে খেলতে থাকে দেশের আমলাগণ; আমাদের আমলারা ও প্রশাসন মানুষকে ফেরেশতা বানান, দরকার মতো মানুষকে জর্জমিয়া বানান; বেগম জিয়া ওদের হাতে পড়ে ৩৬ বছরে অনেক প্রকার নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন।
৩৬ বছর পর, এখন সামান্য হিসেব নিকেশ শুরু হয়েছে, আমলা, প্রশাসন, মিলিটারী কেহই আজকে উনার পাশে নেই; বিএনপি আছে কিনা সেটা বুঝা যাবে মাস তিনেক পরে; এখন, আপাতত: যেই মানুষটি উনাকে সামান্য শাত্বনা ও সেবা দিচ্ছেন, সেজন বেগম জিয়াদের সৃষ্ট অসহায়, আমাদের সমাজের সাধারণ মানুষদের একজন, ফাতেমা, যার ঘর-সংসার, স্বামী কিছুই নেই; আছেন একমাত্র বেগম জিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


