somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবী কিভাবে ধ্বংস হবে, কে কিভাবে ইহা ব্যাখ্যা করছেন?

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একটা স্বাভাবিক লজিক হলো, পৃথিবী যে প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে, তার বিপরিত প্রক্রিয়ায় উহা ধ্বংস হবে! কোন প্রক্রিয়ায় পৃথিবী নামক গ্রহটি সৃষ্টি হয়েছে বলে আপনার ধারণা? এই গ্রহের সৃষ্টি সম্পর্কে আপনার যেই ধারণা, উহার ধ্বংস নিয়ে আপনার ধারণা অনেকটা সেই রকম, বা কাছাকাছি হবে।

পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে কোন ব্যাখ্যাটি আপনি সহজে বুঝেন ও আপনার কাছে গ্রহনযোগ্য? বিশ্বের সব মানুষ, সব জাতি জ্ঞানের দিক থেকে একই লেভেলে নন, কেহ স্যাটেলাইট বানাচ্ছেন, কেহ উহা কিনছেন, অনেকের কাছে স্যাটেলাইট কেনার পয়সা নেই; সবাই কিন্ত একই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না, বা একই ব্যাখ্যা বুঝবেনও না; আসলে, এই ব্যাপারে, সবার বুঝার ক্ষমতা একই লেভেলে নেই!

পৃথিবীর সৃষ্টি কিভাবে হয়েছে, কোন জাতি দেখেননি; ইহার ধ্বংস কিভাবে হবে, কেহ দেখবেন না; মানব সমাজের শুরু থেকেই নিশ্চয়ই, পৃথিবীর সৃষ্টি ও ধ্বংস নিয়ে মানুষ নিজের লব্ধজ্ঞান থেকে ব্যাখ্যা দিয়ে আসছেন; সেসব ব্যাখ্যা মানুষের জ্ঞানের পরিসর বৃদ্ধির সাথে, সময়ের সাথে রিফাইন হয়ে আসছে; সামনের দিন গুলোতে এই ব্যাখ্যা আরো রিফাইন হবে, এতে আরো ভাবনা যোগ হবে। তবে, মানুষ যখন মানুষ চাঁদে যেতে সক্ষম হয়েছেন ও অন্য গ্রহে নিজেদের নির্মিত যান পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন, এই সময়ের ব্যাখ্যাগুলো প্রায় পরিপুর্ণতা পেয়েছে বলে ধরে নেয়া সম্ভব।

পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে সুর্য নামক তারকাটির দেহ থেকে; উহা ৪.৫ বিলিয়ন বছরের বিবর্তনের মাঝ দিয়ে গিয়ে, আজকের এই অবস্হায় আছে; এই অবস্হা থাকবে না আরো ২/১ বিলিয়ন বছর পর, তখন অনেক বদলে যাবে। সুর্য নামক তারকাটির সৃষ্টি হয়েছে ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে, উহার সেন্টারে হাইড্রোজেন গ্যাস জ্বলছে, সেখান থেকে আলো ও তাপ উৎপাদন হওয়ায়, পৃথিবীতে জীবনের সৃষ্টি হয়েছে।

কারা কিভাবে এসব হিসেবে করে বের করছে? যাঁরা রেল-ইন্জিন বানায়েছেন, যাঁরা গাড়ী বানায়েছেন, যাঁরা উড়োজাহাজ বানায়েছেন, যাঁরা ১২০ তলা বাড়ী বানায়েছেন, যাঁরা রেডিও টেলিভিশন বানায়েছেন, যাঁরা কম্প্যুটার বানায়েছেন, যাঁরা এসব অংক জানেন, যাঁরা এসব জ্ঞানের অধিকারী তাঁরাই এসব হিসেব করছেন। আমরা আকাশে স্যাটেলাইট পাঠায়েছি; কিন্তু উহা আমরা বানাইনি; কারণ, আমরা সেইসব অংক, সেইসব পদার্থ বিজ্ঞান জানি না। আমরা সেইসব অংক জানি না বলে, আমাদের স্যাটেলাইট কি মিথ্যা হয়ে গেছে, আকাশে উড়ছে না?

সুর্যের সেন্টারে হাইড্রজেন জ্বলে, উহা ভয়ংকর ভয়ংকর উত্তপ্ত হিলিয়াম গ্যাসে পরিণত হচ্ছে ও সুর্ষের চারিদিকে জমা হচ্ছে, এ্তে সুর্যের আয়তন ও আকর্ষণ ক্ষমতা বাড়ছে; একই সাথে সুর্যের প্রখরতা বাড়ছে প্রতি বিলিয়ন বছরে শতকরা ১০ ভাগ; এতে একদিন সুর্য তার কাছাকাছি গ্রহগুলোকে নিজের বুকে টেনে নিতে পারে। অথবা সুর্য নিজেই জ্বালানীর অভাবে নিবে যাওয়ার অবস্হার দিকে গেলে সৌরজগতের গ্রহগুলো কক্ষচ্যুত হয়ে মহাশুন্যে ভাসতে গিয়ে ধ্বংস হবে। এই মহাবিশ্বের অন্য কোন তারকার ধ্বংসের সময়, উহার কোন গ্রহ, উপগ্রহ কক্ষচ্যুত হয়ে আমাদের সৌরজগতে ঢুকে আমাদের সৌরজগতের ভারসাম্য নষ্ট করলে, বা আমাদের গ্রহের সাথে ধাক্কা খেলে, আমাদের গ্রহের পতন হতে পারে।

মানব জাতি আমাদের গ্রহের ধ্বংস দেখার সম্ভবনা নেই বললেই চলে; কারণ, সৌরজগতে পরিবর্তন ঘটছে মিলিয়ন, বিলিয়ন বছর পরে; মানুষ মাত্র ৩/৪ লাখ বছর এই গ্রহে আছেন, হয়তো আরো আরো আধা মিলিয়ন বছর টিকে থাকতে পারেন; এই সময়ের মাঝে আনবিক বিস্ফোরণ, জেনেটিক সমস্যা, পরিবেশ দুষণের কারণে, বায়ুমন্ডলের পরিবর্তনের ফলে মানব জাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০৯
৪৫টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শীত শুরু হয়েছে, দেখা যাক, কে টিকে থাকে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:০৩



**** কেহ ১ জন আমার পোষ্টটাকে রিফ্রেশ করছে; এসব লোকজন কেন যে ব্লগে আসে কে জানে! ****

সেপ্টেম্বর মাসে একটি টিমের সাথে ফুটবল খেলেছি; এই মাসের শেষেদিকে হয়তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস বুঝে ছুইটেন !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:৪১

ছবি নেট।

হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেনঃ "মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপদজনক! " 

আসলেই তাই! খবরে দেখলাম ইকবাল নামের একজন ব্যক্তি পবিত্র কুরআন মুর্তির কাছে রেখে চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ভবঘুরে ইকবাল হোসেন জন্য সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৩৫



গত বুধবার ভোরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিন কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন দেখা যায়। ব্যস আর যায় কোথায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ও আমার পৃথিবী......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৫১

আমি ও আমার পৃথিবী......

আজও খুব ভোরে উঠেছি প্রতিদিনের মতো। আকাশে তখনও আলগোছে লেগে রয়েছে রাত্রির মিহি প্রলেপ। আমার চেনা পাখিরা জেগে ওঠেনি তখনও। মনটা কেমন যেন একটু বিস্বাদে ভরে আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেডাগোজিকাল ট্রানজিশন- শিশু শিক্ষনে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায়

লিখেছেন শায়মা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:৪৪


করোনাকালীন চার দেওয়ালে বন্দী জীবন ও অনলাইনের ক্লাসরুমের মাঝে গত বছর নভেম্বরে BEN Virtual Discussion "শিশুদের নিয়ে সব কথা" একটি টক শো প্রোগ্রাম থেকে ইনভিটেশন এলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×