somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাতা নিয়ে মাথা খারাপ কর্মকান্ড

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নিজেদের সবগুলো ছাতা হারায়েছি; তারপর, প্রতিবেশীদের দেয়া ছাতাও হারিয়েছি, এটার শেষ নেই; তাই দীর্ঘদিন ছাতা কিনছি না; হালকা, বা মাঝারি ধরণের বৃষ্টি হলে, আমি দৌড়ািয়ে চলে যাই, অনেকে মনে করেন যে, আমি জগিং করছি। সমস্যা হলো স্ত্রীকে নিয়ে, ছাতা ব্যতিত বের হবেন না; গতকাল সারাদিন বৃষ্টি হচ্ছিল; আমাদের বের হওয়ার দরকার; ছাতা না কিনে উপায় নেই; বৃষ্টির মাঝে দৌড়ে নিটবর্তী দোকানে গেলাম; যেসব ছাতা ৩/৪ ডলারে বিক্রয় হতো, সবগুলো ৬/৭ ডলার হয়ে গেছে বৃষ্টির সৌজন্যে!

মানুষজন কেহ নেই, ক্যাশের মেয়েকে বললাম,
-বাহিরে কেমন বৃষ্টি হচ্ছে, দেখছ?
-সুন্দর, সে বললো!
-তুমি ছাতার দাম বাড়িয়ে দিয়েছ?
-চাহিদা ও কোয়ালিটির উপর নির্ভর করে দাম বাড়ে কমে।
-তোমাদের রিফান্ড পলিসি কি রকম? আমি প্রশ্ন করলাম।
-ছাতার বেলায় কোন রিফান্ড নেই, মেয়েটি বললো!
-এই দেশে সবকিছুতে বদলানো, কিংবা রিফান্ড পলিসি আছে!
-আমি মালিক নই, আমি কাজ করি; আমাদের দোকানে কোন রিফান্ড পলিসি নেই।

আমি দেখছি, বৃষ্টির কারণে দাম দ্বিগুণ করে দিয়েছে, একটা গন্ডগোল করার দরকার; আমি উপায় নিয়ে ভাবছি। একটা স্কুলের বাচ্চা অসময়ে ভিজে ভিজে স্কুলের দিকে যাচ্ছিল; বৃষ্টি বেড়ে যাওয়াতে সে দোকানের দরজায় দাঁড়ালো।
-তোমার ছাতা নেই? বাচ্চাটিকে জিজ্ঞাসা করলাম!
-না, ছাতা নেই, ছেলেটি মাথা নেড়ে বললো।

আমি ১ ডলার দামের ১টি সস্তা ছাতা ছেলেটিকে দিয়ে বললাম,
-নাও, এবার স্কুলে চলে যাও!
-ফ্রি? সে খুবই খুশী হলো! সে ছাতা নিয়ে ঝমঝম বৃষ্টির মাঝে চলে গেলো।

ক্যাশিয়ার মেয়ে বললো,
-ছাতার দাম দাও!
-কোন ছাতার দাম?
-যেটা তুমি বাচ্চাটাকে দিলে, সেটার দাম!
-আমি কি বাচ্চা থেকে পয়সা নিয়েছি নাকি? ওটা তো দান করা হয়েছে!
-তুমি কার ছাতা দান করছে?
-তোমাদের ছাতা!
-আমাদের ছাতা তুমি দান করছো? দাঁড়াও, আমি মালিককে ডাকছি!
-মালিক কোথায়?
-সে বেইসমেন্টে, মালপত্র গুচাচ্ছে!

মেয়ে দোকানের বাইরে গিয়ে, মালিককে ডেকে গজগজ করতে করতে ফিরে এলো; একটু পরে এক বয়স্ক মরাধরা কোরিয়ান বেইসমেন্ট থেকে বেরিয়ে এলো; মেয়ে কোরিয়ানকে ছাতার ঘটনা বললো; আমি ধৈয্য ধরে শুনলাম; কোরিয়ান আমাকে বললো,
-আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, তুমি কিভাবে আমাদের ছাতা কোন এক বাচ্চাকে দান করেছ?
-এটা খুবই সহজ, বাচ্চা ভিজে ভিজে স্কুলে যাচ্ছে; ওর ছাতা দরকার, এটা তো বুঝ?
-আমি তোমার কথার আগামাথা বুঝতে পারছি না, ছাতা আমাদের, তুনি বাচ্চাকে দিয়ে দিয়েছ; এখন তোমাকে দাম দিতে হবে!
-আমি কেন দাম দেবো? বাচ্চা কি আমাকে পয়সা দিয়েছে? তাকে দান করা হয়েছে, ফ্রি, এবার বুঝেছ?
-তোমার মাথা খারাপ আছে, আমার দোকান থেকে বের হও! সে রেগে মেগে হতাশ হয়ে গেলো।
-এই বৃষ্টির মাঝে আমি কোথায়ও যাচ্ছি না।
-আমি পুলিশ ডাকছি এখনি!
-ঠিক আছে, ডাকো!

এবার মেয়ে বললো,
-আমি জীবনে এই ধরণের কান্ড কখনো দেখিনি!
-তোমার জীবন সবে মাত্র শুরু হয়েছে, দেখার সুযোগ পাবে; ব্যাপারটা নিয়ে আমি মালিকের সাথে কথা বলছি, তুমি চুপ থাকলে ভালো হবে, তুমি চাকুরী কর মাত্র। দান একটি বড় বিষয়, এটা তোমার মাথায় ঢুকবে না।

কোরিয়ান বুঝতে পারছিলো না কি করবে! সে মনে হয় ভাবছিল, আমি আসলেই গন্ডগোল টাইপের লোক, কিংবা মাথায় গন্ডগোল আছে! সে হতাশ হয়ে, সেলফোনে কাকে বারবার কল করছে; মনে হলো ওপাশে কেহ ফোন ধরছে না। আমি ১২ ডলারের মাঝে ২টি ছাতা নিয়ে মেয়েকে ২০ ডলারের একটা নোট দিয়ে বললাম,
-বাচ্চার ছাতার দামও রাখ এই টাকা থেকে!
-তুমি যদি মুল্য দিবে, এতক্ষণ গন্ডগোল করেছ কেন?
-আমি ছাতা কিনলে, ছাতা হারিয়ে যায়; তাই, ছাতা কিনতে আসলে আমার টাকাগুলোর জন্য মন খারাপ হয়ে যায়, এখন বুঝেছ!
কোরিয়ান চুপ করে তাকিয়ে আছে! মেয়ে বললো,
-অকারণে গন্ডগোল কম করিও!
-শোন, তোমরা ছাতার দাম বাড়ায়ে দিয়েছে; তদুপরি, তুমি কয়টা ছাতা হারায়েছ?
-আমি ছাতা হারাই না কখনো!
-সেই কারণেই তুমি আমাকে বুঝতেছ না।
-বৃষ্টি সময় তুমি বাসায় থেকো, বের হয়ো না; তোমার সমস্যা কমে আসবে, মেয়ে বললো।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:১২
৩৯টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাবতে পারি না

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪


আমি ভাবতে পারি না মধ্য রাতের চাঁদ
আমি ভাবতে পারি না স্নিগ্ধ ভোরের স্নান
মধ্য দুপুরের সূর্য তাপ, সন্ধ্যার ক্লান্তি মুখ!
আমাকে ডেকে নিয়ে যায় ঘাসফড়িং কিংবা
জোনাকির ঘরপোড়া দল- শান্তির সংগ্রামে
দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×