
নিজেদের সবগুলো ছাতা হারায়েছি; তারপর, প্রতিবেশীদের দেয়া ছাতাও হারিয়েছি, এটার শেষ নেই; তাই দীর্ঘদিন ছাতা কিনছি না; হালকা, বা মাঝারি ধরণের বৃষ্টি হলে, আমি দৌড়ািয়ে চলে যাই, অনেকে মনে করেন যে, আমি জগিং করছি। সমস্যা হলো স্ত্রীকে নিয়ে, ছাতা ব্যতিত বের হবেন না; গতকাল সারাদিন বৃষ্টি হচ্ছিল; আমাদের বের হওয়ার দরকার; ছাতা না কিনে উপায় নেই; বৃষ্টির মাঝে দৌড়ে নিটবর্তী দোকানে গেলাম; যেসব ছাতা ৩/৪ ডলারে বিক্রয় হতো, সবগুলো ৬/৭ ডলার হয়ে গেছে বৃষ্টির সৌজন্যে!
মানুষজন কেহ নেই, ক্যাশের মেয়েকে বললাম,
-বাহিরে কেমন বৃষ্টি হচ্ছে, দেখছ?
-সুন্দর, সে বললো!
-তুমি ছাতার দাম বাড়িয়ে দিয়েছ?
-চাহিদা ও কোয়ালিটির উপর নির্ভর করে দাম বাড়ে কমে।
-তোমাদের রিফান্ড পলিসি কি রকম? আমি প্রশ্ন করলাম।
-ছাতার বেলায় কোন রিফান্ড নেই, মেয়েটি বললো!
-এই দেশে সবকিছুতে বদলানো, কিংবা রিফান্ড পলিসি আছে!
-আমি মালিক নই, আমি কাজ করি; আমাদের দোকানে কোন রিফান্ড পলিসি নেই।
আমি দেখছি, বৃষ্টির কারণে দাম দ্বিগুণ করে দিয়েছে, একটা গন্ডগোল করার দরকার; আমি উপায় নিয়ে ভাবছি। একটা স্কুলের বাচ্চা অসময়ে ভিজে ভিজে স্কুলের দিকে যাচ্ছিল; বৃষ্টি বেড়ে যাওয়াতে সে দোকানের দরজায় দাঁড়ালো।
-তোমার ছাতা নেই? বাচ্চাটিকে জিজ্ঞাসা করলাম!
-না, ছাতা নেই, ছেলেটি মাথা নেড়ে বললো।
আমি ১ ডলার দামের ১টি সস্তা ছাতা ছেলেটিকে দিয়ে বললাম,
-নাও, এবার স্কুলে চলে যাও!
-ফ্রি? সে খুবই খুশী হলো! সে ছাতা নিয়ে ঝমঝম বৃষ্টির মাঝে চলে গেলো।
ক্যাশিয়ার মেয়ে বললো,
-ছাতার দাম দাও!
-কোন ছাতার দাম?
-যেটা তুমি বাচ্চাটাকে দিলে, সেটার দাম!
-আমি কি বাচ্চা থেকে পয়সা নিয়েছি নাকি? ওটা তো দান করা হয়েছে!
-তুমি কার ছাতা দান করছে?
-তোমাদের ছাতা!
-আমাদের ছাতা তুমি দান করছো? দাঁড়াও, আমি মালিককে ডাকছি!
-মালিক কোথায়?
-সে বেইসমেন্টে, মালপত্র গুচাচ্ছে!
মেয়ে দোকানের বাইরে গিয়ে, মালিককে ডেকে গজগজ করতে করতে ফিরে এলো; একটু পরে এক বয়স্ক মরাধরা কোরিয়ান বেইসমেন্ট থেকে বেরিয়ে এলো; মেয়ে কোরিয়ানকে ছাতার ঘটনা বললো; আমি ধৈয্য ধরে শুনলাম; কোরিয়ান আমাকে বললো,
-আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, তুমি কিভাবে আমাদের ছাতা কোন এক বাচ্চাকে দান করেছ?
-এটা খুবই সহজ, বাচ্চা ভিজে ভিজে স্কুলে যাচ্ছে; ওর ছাতা দরকার, এটা তো বুঝ?
-আমি তোমার কথার আগামাথা বুঝতে পারছি না, ছাতা আমাদের, তুনি বাচ্চাকে দিয়ে দিয়েছ; এখন তোমাকে দাম দিতে হবে!
-আমি কেন দাম দেবো? বাচ্চা কি আমাকে পয়সা দিয়েছে? তাকে দান করা হয়েছে, ফ্রি, এবার বুঝেছ?
-তোমার মাথা খারাপ আছে, আমার দোকান থেকে বের হও! সে রেগে মেগে হতাশ হয়ে গেলো।
-এই বৃষ্টির মাঝে আমি কোথায়ও যাচ্ছি না।
-আমি পুলিশ ডাকছি এখনি!
-ঠিক আছে, ডাকো!
এবার মেয়ে বললো,
-আমি জীবনে এই ধরণের কান্ড কখনো দেখিনি!
-তোমার জীবন সবে মাত্র শুরু হয়েছে, দেখার সুযোগ পাবে; ব্যাপারটা নিয়ে আমি মালিকের সাথে কথা বলছি, তুমি চুপ থাকলে ভালো হবে, তুমি চাকুরী কর মাত্র। দান একটি বড় বিষয়, এটা তোমার মাথায় ঢুকবে না।
কোরিয়ান বুঝতে পারছিলো না কি করবে! সে মনে হয় ভাবছিল, আমি আসলেই গন্ডগোল টাইপের লোক, কিংবা মাথায় গন্ডগোল আছে! সে হতাশ হয়ে, সেলফোনে কাকে বারবার কল করছে; মনে হলো ওপাশে কেহ ফোন ধরছে না। আমি ১২ ডলারের মাঝে ২টি ছাতা নিয়ে মেয়েকে ২০ ডলারের একটা নোট দিয়ে বললাম,
-বাচ্চার ছাতার দামও রাখ এই টাকা থেকে!
-তুমি যদি মুল্য দিবে, এতক্ষণ গন্ডগোল করেছ কেন?
-আমি ছাতা কিনলে, ছাতা হারিয়ে যায়; তাই, ছাতা কিনতে আসলে আমার টাকাগুলোর জন্য মন খারাপ হয়ে যায়, এখন বুঝেছ!
কোরিয়ান চুপ করে তাকিয়ে আছে! মেয়ে বললো,
-অকারণে গন্ডগোল কম করিও!
-শোন, তোমরা ছাতার দাম বাড়ায়ে দিয়েছে; তদুপরি, তুমি কয়টা ছাতা হারায়েছ?
-আমি ছাতা হারাই না কখনো!
-সেই কারণেই তুমি আমাকে বুঝতেছ না।
-বৃষ্টি সময় তুমি বাসায় থেকো, বের হয়ো না; তোমার সমস্যা কমে আসবে, মেয়ে বললো।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



