
অবস্হাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বেগম জিয়া দেশ ছেড়ে চলে যাবেন; উনি এবং বিএনপি'র নেতারা বুঝতে পেরেছেন যে, বেগম জিয়ার অধ্যায়টা পরিপুর্ণ হয়ে গেছে, এখানে নতুন কিছু আর ঘটার সম্ভাবনা নেই। বেগম জিয়ার সাথে বাংলার আকাশ থেকে এক টুকরা কালোমেঘ সরে যাবে ও একটি ভয়ংকর পরিবারের কাহিনীর সমাপ্তি ঘটবে।
স্বামীর মৃত্যুর পর, তাঁদের ২ সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব ছিলো বেগম জিয়ার উপর; তিনি সেটি সঠিকভাবে পুরণ করেননি; তিনি ততকালীন মিলিটারী ও তাদের সিভিল সংগঠন বিএনপি'র ষড়যন্ত্রে তথাকথিত রাজনীতিতে আসেন। তিনি রাজনীতির 'র' তখনো জানতেন না, আজো জানেন না; সেইজন্যই তিনি এখনো বুঝতে পারছেন না, কেন মাত্র ৩ কোটী টাকার মামলায় উনার ১৫ বছর জেল হয়ে গেলো।
তিনি সারা জীবন অনেক কিছুই সঠিকভাবে বুঝেননি; এবং কোন একজন বিজ্ঞ মানুষ থেকে সাধারণ বিষয়ে পরামর্শ চাননি; একটা উদাহরণ হচ্ছে, আগষ্টের ১৫ তারিখে উনার জন্মদিন পালন ও ঘটা করে 'কেক কাটা'; এই কেক কাটা নিয়ে শেখ হাসিনা ক্রমাগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন; বেগম জিয়া বুঝতে পারেননি। বেগম জিয়ার পাশে সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ ছিলেন ড: এমাজুদ্দিন সাহবে; তিনি কমপক্ষে বেগম জিয়াকে এই কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য উপদেশ দিতে পারতেন; দু:খের বিষয়, ড: সাহবে নিজেই প্রতিবার কেক কাটার সময় উপস্হিত ছিলেন। ২০১৬ সালে বেগম জিয়ার ১ দফা আন্দোলনের ভয়ংকর পতনের পরও বেগম জিয়া নিজের অবস্হান টের পাননি।
আওয়ামী লীগ উনাকে হাসিমুখে প্লেনে তুলে দিবে; তারা একটা মরা শিকড় রেখে উহা নিয়ে চিন্তিত হতে চাচ্ছে না; শেখ হাসিনাও হয়তো এখন অতীতকে ভুলে যাবার চেষ্টা করছেন; সবই ভালো। কিন্তু এই দেশের মানুষের মানুষের পাওয়া একমাত্র বিচারটিও অবশেষে বাতাসে মিশে যাবার উপক্রম হয়েছে। এই দেশে যারা খুবই উঁচু পদে থেকে ভয়ংকর দুর্নীতি করেছে, তাদের কারো বিচার হয়নি, হয়েছিলো মাত্র ১ জনের, সেই জনও পরোক্ষভাবে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।
উনার বয়স ও স্বাস্হ্যের কথা ভেবে, উনাকে উনার গুলশানের বাড়ীতে রাখার দরকার ছিলো; উনি সেখানে থেকে সুন্দরভাবে নিজের জীবনটাকে উপভোগ করতে পারতেন; উনার আত্মীয় স্বজনরা উনার দেখাশোনা করতে পারতেন, সরকারী লোকেরা উনার দেখাশোনা করতে পারতেন; কিন্তু শাস্তিটা একটা উদাহরণ হয়ে থাকতো। উনি বিদেশে চলে গেলে, সেটাই হবে উনার শেষ যাওয়া, এবং বিচারটাকে পরোক্ষভাবে এড়িয়ে যাওয়া।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

