
জাতীয় স্বার্থের কয়েকটি বিশাল বিষয়ে আমাদের সরকার 'নতজানু পররাষ্ট্র নীতি' অনুসরণ করেন বলে অসংখ্য আক্ষেপ শোনা যায় বিএনপি নেতাদের মুখে, ফেইসবুকে, মিডিয়ায় ও ব্লগে: সীমান্ত হত্যা, গংগার পানির ন্যায্য ভাগ, ফারাক্কার কারণে শুকিয়ে যাওয়া পদ্মা, বিনা-মেঘে বন্যা, তিস্তা চুক্তি, বাণিজ্য ঘাটতি, ৫০০ টন ইলিশ দিয়েও পেঁয়াজ না পাওয়া, রোহিংগা সমস্যা সমাধানে কুটনৈতিক অপরিপক্কতা ইত্যাদি ইত্যাদি। সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না যুগের পর যুগ, জাতি হতাশ; অথচ সরকার বলছে যে, ভারত ও বার্মা আমাদের ভালো বন্ধু; চীন, আমেরিকাও আমাদের বন্ধু।
আমাদের পররাষ্ট্র নীতি হচ্ছে, বিশ্বের সব জাতির সাথে পারস্পরিক সুসম্পর্কের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপুর্ণ ও শান্তিপুর্ণ সহ-অবস্হান, নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার অধিকার, অন্যদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা; জাতি সংঘের সদস্য হিসেবে শান্তিপুর্ণ বিশ্বে আস্হাশীল।
বিশ্বে সবচেয়ে বিতর্কিত পররাষ্ট্র নীতির দেশ হচ্ছে আমেরিকা; বিশ্বের বেশীরভাগ দেশ আমেরিকার সাথে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক রেখে চলতে চায়; কিন্তু বাস্তবে আমেরিকার বন্ধু হিসেবে ৩টি দেশের নাম আছে: ইসরায়েল, কানাডা ও বৃটেন; বাকীরা কি আমেরিকার বন্ধু নয়? আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বন্ধুত্ব খুবই কঠিন বিষয়; বন্ধুত্ব যদি না থাকে, সেখানে পররাষ্ট্র নীতি বেশ কমপ্লেক্স হতে পারে, যেমন ইরান, উ: কোরিয়ার সাথে আমেরিকান সম্পর্ক।
বাংলাদেশের প্রতি ৭টি দেশ বন্ধুত্ব দেখায়ে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে, এরা হলো: জাপান, কানাডা, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, জার্মানী ও ভুটান; আসলে, বাংলাদশের বন্ধুর পরিমাণ আমােরিকার চেয়ে বেশী।
নতজানু শব্দের বিপরিত শব্দটি কি হবে, আমি ঠিক জানি না; যাক, উহা যদি 'অনতজানু' হয়ে থাকে, বলতে হবে, পাকিস্তান এক অনতজানু পররাষ্ট্র নীতির দেশ: ১৯৬৫ সালে, পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময়, জাতি সংঘ পাকিস্তান ও ভারতের যু্দ্ধকে নিন্দা করে একটি প্রস্তাব আনে; প্রস্তাবের কাগজটি ততকালীন পাকিস্তানী পররোষ্ট্র মন্ত্রী, জুলফিকার আলী ভুট্টোর হাতে দেয়ার পর, উনি মিটিং'এর মাঝে দাঁড়িয়ে, সবার সামনে কাগজটিকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে বাতাসে ছুঁড়ে মারেন। এবারও ইমরান জাতি সংঘে সবার সামনে বলেছে যে, কাশ্মীর নিয়ে আনবিক যুদ্ধ হতে পারে, তাতে কারো মংগল হবে না।
'অনতজানু'র আরেক উদাহরণ হচ্ছে, সোভিয়েত ইউনিয়নের কম্যুনিষ্ট পার্টির সেক্রেটারী নিকিতা ক্রুশ্চেভ(১৮৯৪-১৯৭১); তিনি ১৯৬০ সালে জাতি সংঘের মিটিং'এ উপস্হিত অবস্হায় এক আমেরিকান ও ফিলিপাইনের কেহ একজন সোভিয়েত বিরোধী কিছু একটা বলেছিলো; নিকিতা ক্রুশ্চেভ পায়ের জুতা খুলে সবাইকে দেখায়ে বলেছিলো, "দেখেছ বাবাজীরা, এইটা দিয়ে সাইজ করে দেবো"।

একটা দেশ কিভাবে তার আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান করবে, সেটা নির্ভর করে সেই দেশের আনতর্জাতিক 'প্রোফাইল'এর উপর; কেহ যদি আফগানিস্তান দেশটির নাম নেয়, আপনার মানসপটে কি ধরণের একটা দেশের কথা মনে হয়? কেহ যদি জাপানের কথা বলে, আপনার মানসে কি ধরণের একটা দেশের কথা ভেসে উঠে? বাংলাদেশের কথা উঠলে আপনার কি রকম অনুভুতি আসে? আপনার যা অনুভুতি আসে, আমাদের কুটনীতিবিদদের অবস্হাও অনেকটা সেই রকম, বিশ্বের অন্যদের অনুভুতিও সেই রকম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

