
সময়ের সাথে একটি বিষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেটা হলো, ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতার বিপক্ষ যুদ্ধ করেছে, স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্হান নিয়েছে, তারা ও তাদের লোকজন ক্রমেই কৌশলেই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইতয়াদি নিয়ে কটুক্তি করছে; মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অসন্মানজনক উক্তি করছে, সুযোগ মতো মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে লিখছে, কথা বলছে; ফেসবুক, ব্লগে, মিডয়ায় কমেন্ট করছে, তথাকথিত কবিতা, ছড়া, নীচুমানের গল্প ইত্যাদি লিখছে।
সময় যাচ্ছে, মানুষ ক্রমেই জাতীয় দিবস ও অনুষ্ঠান গুলো থেকে সরে যাচ্ছে; জাতীয় দিবসগুলো সাধরণ মানুষ পালন না করে, প্রশাসনের লোকেরা দায়সারা অবস্হায় করছে; সরকারী দলের লোকেরা নিজেদের ব্যস্ত রাখার জন্য এগুলোতে আছে, তবে, দরকারী উৎসাহ, উদ্দীপনা এদের মাঝে নেই; সাধরণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা নেই; বরং মনে হচ্ছে, এরা মানুষকে দুরে রাখার চেষ্টা করছে।
১৯৭১ সালের ২৫'শে মার্চ রাতে পাকীরা যখন আাদের জাতীকে আক্রমণ করে গণহত্যা চালায়, এবং পরেরদিন যখন জাতি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তখন মনে হয়েছিলো যে, স্বাধীনতার পক্ষে সবাই আছেন; কিন্তু সেই বছরের ৯ যখন অবধি মুক্তিযুদ্ধ চললো, তখন দেখা গেলো সবাই কিন্তু জাতির সাথে নেই: জাতির একাংশ পাকী বাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে আমাদের বিপক্ষে যুদ্ধ করছে: এরা পাকীদের চেয়েও ভয়ানক জল্লাদ ছিলো; এরা পরিচিত ১টি রাজনৈতিক দলের অধীনে সবকিছু করেছে। যাক, যুদ্ধ করে বিজয় নিয়ে এসেছে এই দেশের সাধারণ মানুষ।
আনুমানিক দেড় কোটী মানুষ আমাদের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলো, এদের থেকে ৫৫ হাজার অস্ত্র ধরেছিলো। এদের অপরাধের সঠিক বিচার হয়নি, অনেকটা অকথিত মাফের মতো পেয়ে গিয়েছিলো এরা; কিন্তু এদের চরিত্র বদলায়নি, নিজেদের অপরাধ এরা অনুধাবন করেনি।
শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিন সাহেবের অদক্ষতার কারণে, স্বাধীনতাকামীরা দেশ গঠনে সুযোগ পাননি; উনাদের ভুলের কারণে, দেশ ৩য় বিশ্বের ভুল পথ ধরে যাত্রা শুরু করেছিলো; এতে উনাদের সরকারের জনপ্রিয়তা হারায়; যারা শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিন সাহেকে যুদ্ধের মাঝেও অনুসরণ করেছিলেন, বিজয়ের পর এঁরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। শেখ নিজের ভুল বুঝতে পেরে দেশের সবাইকে একই প্লাটফরমে আনার জন্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেন; এই পদক্ষেপে হালকা সোস্যালিষ্ট পদক্ষেপের কথাও ছিল। ইহা আমেরিকান জোট সহ্য করেনি, তারা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর থেকে সামান্য কিছু অফিসারকে ভাড়া করে, শেখ সাহেবকে হত্যা করে, দেশের মিলিটারীকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে।
মিলিটারীকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার পর, হঠাৎ দেখা গেলো, দেশে মিলিটারী সমর্থন পাচ্ছে! বাংগালীদের ইতিহাস, ১৬৯৬২ সাল থেকে বাংগালীরা মিলিটারীর বিপক্ষে ক্রমাগতভাবে আন্দোলন করে আইয়ুব খানকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে; এরপর, আইয়ুবের নিযুক্ত জেনারেলকে পরাজিত করে দেশ স্বাধীন করেছিলো। আজকে একটা মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যারা বাংলাদেশে মিলিটারী শাসনকে সমর্থন করেছে, তারাই আমাদের জাতীয় দিবস ইত্যাদি নিয়ে কটুক্তি করছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


