
১। **** আমেরিকান সময় বুধবার, সন্ধ্যা ৮:০৫ টায় ভোট নেয়া শুরু হয়েছে ( ১ম আর্টিক্যাল) ; ২১৬ ভোটের দরকার, আরো ৭ মিনিট আছে ১৮৪ ভোট পেয়েছে ডেমোক্রেটরা। *****
২। ***** আমেরিকান সময় বুধবার, সন্ধ্যা ৮:২৪ টা, ১ম আর্টিক্যালে "ইমপিচ" হয়ে গেছে ******
৩। **** আমেরিকান সময় বুধবার, সন্ধ্যা ৮:৩৫ টায় ভোট নেয়া শুরু হয়েছে ( ২য় আর্টিক্যাল) ; ২১৬ ভোটের দরকার, আরো ৩ মিনিট আছে ১৯৪ ভোট পেয়েছে ডেমোক্রেটরা। *****
৪। ***** আমেরিকান সময় বুধবার, সন্ধ্যা ৮:৪০ টা, ২য় আর্টিক্যালে "ইমপিচ" হয়ে গেছে ******
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচ করার জন্য আমেরিকান কংগ্রেসের লোয়ার হাউস, হাউজ অব রিপ্রেন্টেটিভস'এর বৈঠক বসছে আজ সকাল ৯টায়। ক্যাপিটেল হিলে, কংগ্রেসের হলে লোকজন জমা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে; আজকের বৈঠকের শুরু করবে জুডিসিয়ারী কমিটি, এরপর দায়িত্ব চলে যাবে স্পীকার নেনসী পলোসীর কাছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিপক্ষে ২ টি আর্টিক্যাল অব ইমপিচমেন্ট(অভিযোগ) আনা হয়েছে। প্রথমে ২ দলের কংগ্রেসম্যানরা(এমপি) "আর্টিক্যাল অব ইমপিচমেন্ট" অনুসারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে ও বিপক্ষে বক্তব্য রাখবেন। ঠিক কতজন বক্তব্য রাখবেন সেটা আমি জানি না; তবে, গতকাল বক্তব্যের বিষয়, সময় ও তর্ক বিতর্ক করার নিয়ম কানুন ঠিক করে দিয়েছে জুডিসিয়ারী কমিটি।
আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্টে ২ টি অভিযোগ থাকছে: (১) প্রেসিডেন্ট নিজের সুবিধার জন্য রাস্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করেছে (ট্রাম্প টেলিফোনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে বলেছে, ডেমোক্রেটদের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্সিয়াল কেন্ডিডেট, আগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইনেডেনের ছেলের কর্মকান্ডের ইনভেস্টিগেশন করার জন্য, ইহা একজন আমেরিকান নাগরিকের বিপক্ষে প্রেসেডেন্টের হস্তক্ষেপ) (২) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের কাজে বাধার সৃষ্টি করেছে (কংগ্রেস যখন ট্রাম্পের কার্যকলাপ সম্পর্কে ইনভেস্টিগেশন করছিলো, ট্রাম্প অসহযোগীতা করেছ)।
হাউজ অব রিপ্রেন্টেটিভস'এ উভয় পক্ষের বক্তব্য, তর্ক বিতর্কের পর ভোট হবে; অভিযোগের পক্ষে/বিপক্ষে ভোট দেবে কংগ্রেসম্যানরা। হাউজ অব রিপ্রেন্টেটিভস'এ বেমোক্রেটদের সংখ্যা হচ্ছে: ২৩৩ জন, আর রিপাবলিকান হচ্ছে, ১৯৭ জন; বুঝা যাচ্ছে যে, ভোটে প্রসেডেন্ট ট্রাম্প ইমপিচ হবে, অভিযুক্ত হবে। তবে, এদের ভোটে প্রেসিডেন্ট পদ হারাবে না।
হাউজ অব রিপ্রেন্টেটিভস'এ প্রেসিডেন্ট ইমপিচ হয়ে গেলে, উহা আগামী সপ্তাহের মাজে "সিনেটে"(আপার হাউজ) যাবে; সেখানে ভোট যদি ট্রাম্পের বিপক্ষে যায়, প্রেসিডেন্ট পদ হারাবে। কিন্তু ওখানে রিপাবলিকানদের সংখ্যা বেশী; সিনেটে রিপাবলিকান হচ্ছে, ৫৩ জন, ও ডেমোক্রেট হচ্ছে ৪৭ জন। বুঝা যাচ্ছে, ট্রাম্পের পদ হারানোর সম্ভাবনা নেই। এই কারণে, এখনো ট্রাম্পের গলা শক্ত; গতকাল স্পীকারকে ভৎসনা করে ১ চিঠি লিখেছে ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে ৬৭ জনের ভোটের দরকার হবে সিনেটে, যা ডেমোক্রেটদের নেই বলেই মনে হয়; অর্থাৎ ক্ষমতাচ্যুত না হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ। ডেমোক্রেটদের আশা, রাজনীতিবিদরা ট্রাম্পের বিপক্ষে এক হবে; কারণ, ট্রাম্প আমেরিকান রাজনীতির বরপুত্র নন, এবং তিনি সেই কারণেই গতবার জয়ী হয়েছেন, মানুষ রাজনীতিবিদদের শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন।
অভিযোগ যাই হোক, ট্রাম্প কিন্তু এখনো শক্তমুখে কথা বলছে; সে গতকালের চিঠিতে স্পীকার ও ডেমোক্রেটদে 'অকাজ' করার জন্য দোষী করেছে।
ডেমোক্রেটরা নিশ্চয় ভেবেচিন্তেই ইমপিচ শুরু করছে; কিন্তু তারপরও মনে হচ্ছে, তারা অকারণ রিস্ক নিচ্ছে, ইমপিচ হলেও, সে ক্ষমতায় থেকে যাবে, বরং এতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেড়ে যেতে পারে। ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে না পারলে, সে সব অভিযোগের বিপক্ষে যুক্তি দাঁড়া করবে, আগামী ভোটের প্রচারণা তার পক্ষে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


