
এই মহুর্তে বিশ্বে মিলিটারীরা বার্মা, মিশর ও পাকিস্তান চালাচ্ছে। যদিও পাকিস্তানে ইমরান খানের সরকার আছে, উহার কলকব্জা আসলে দেশের মিলিটারীর হাতে। পাকিস্তানের লোকজন বিশ্বাস করে যে, পাকিস্তানে সামনে বা পেছনে মিলিটারী না থাকলে, ভারত থেকে কাশ্মীর পাওয়া যাবে না, ভারত বেশী বেড়ে যাবে, বেলুচিস্তান ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ আলাদা হয়ে যাবে।
বার্মার মিলিটারী সরকারের কারণে বাংলাদেশের মানুষের কপাল পুড়েছে। বার্মার লোকজন কখনো রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতো না, ১৯৬২ সালে মিলিটারী ক্ষমতা দখল করার পর, তারা আর সরেনি; মানুষও কিছু মনে করতো না; আসলে, '৭০ ও '৮০ দশকে মিলিটারী বেশ জনপ্রিয় ছিল বার্মায়। বার্মার মানুষের জীবনযাত্রার যেই মান, উহাতে মিলিটারী ও সিভিল সরকারের মাঝে তেমন পার্থক্য নেই, সবগুলোই মগের বাচ্চা।
রোহিংগারা বাংলাদেশে ঢোকার পর, হয়তো বাংলাদেশের কিছু মানুষ মিলিটারী শাসনকে নতুন করে বুঝার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের মানুষের এক বড় অংশ সব সময় মিলিটারী শাসনের পক্ষে ছিল। পুর্ব পাকিস্তানের সময়, মাঝারী এক শ্রেনীর কাছে আইয়ুব খান খুবই জনপ্রিয় ছিলো; প্রচুর মানুষ উনার ছবি ঘরে ঝুলায়ে রেখে গর্ব অনুভব করতেন। জেনারেল জিয়ার জনপ্রিয়তা এখনো তুংগে; এরশাদ মহিলাদের কাছে এত জনপ্রিয় ছিলো যে, উনি চাইলে সকাল বিকেল বিয়ে করতে পারতেন; উহাকে "পল্লীবন্ধু" উপাধিও দিয়েছিল কিছু ইডিয়ট।
শাসক হিসেবে, মিশরের মিলিটারী হলো দুনিয়ার সবচেয়ে অর্গেনাইজড মিলিটারী; ওদের নিজস্ব কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি আছে; দেশের শতকরা ৪০ ভাগ সম্পদ ওদের দখলে। দেশে কে পড়বে, কে কি ধরণের চাকুরী করবে, সবকিছু মিলিটারী নিয়নত্রণ করে থাকে।
তবে, পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষিতদের মাঝে কিছু পরিবর্তন আসছে; তারা এখন আর মিলিটারীর জয়গান গাচ্ছে না; পেশোয়ারের এক উচ্চ আদালাত জেনারেল পারভেজ মোশারফকে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখলে জন্য মৃত্যুদন্ড দিয়েছে; ইহা পাকিস্তানের জন্য নতুন এক ঘটনা। মোশারফ তার লুটের টাকা নিয়ে দুবাইতে আছে; সে মোটামুটি ভয় পেয়েছে, দেশে ফিরবে বলে মনে হয় না। কিন্তু উহার পক্ষ হয়ে, মিলিটারী বলছে যে, ইহা সঠিক বিচার হয়নি; উচ্চ আদালতের বিচারকদের চেয়ে মিলিটারী বেশী বুঝে? এই বেশী বুঝার দল বাংলাদেশেও অনেক অনেক।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


