
আওয়ামী লীগের জাতীয় সন্মেলন; দল একাধারে ৩ বার ক্ষমতায়, বিরোধী দল নেই, বিপক্ষ দল নেই; শেখ হাসিনা যা বলেন তাই ঘটে, অনেকটা আলাদীনের চেরাগের মতোই; আওয়ামী লীগের লাখ লাখ কর্মী মুখে বলে, আপা জানেন কি করতে হবে; যা করতে হয় আপাই করবেন; এবং ১ আপাই সব করছেন, সব চালাচ্ছেন। আসলে, ভেতরে ভেতরে অনেকই এসব নিয়ে সন্তুষ্ট নন; দলে ৯০ ভাগ মোসাহেব হলেও, তারাও ঠিকই অন্যদের মতো নাগরিক, ন্যায়-অন্যায় কিছু একটা করে খায়, পরিবার চালায়, বাকীরা কিভাবে চলছে সেটা দেখছে; বিশ্ব কিভাবে চলছে তারা দেখছে; রাজনীতি নেই, তাই রাজনীতির অভিনয় করছে।
আমি ঠিক ডেলিগেটদের সংখ্যা জানি না; হয়তো, হাজার দ'শেক হবে; তারা সারা দেশের আনাচে কানাচে থেকে জাতীয় সন্মেলনে আসেন, নিজকে দলের একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে ভাবেন, দলে নিজের স্হান বুঝেন, নিজকে ১টি ভোটের মালিক হিসেবে গর্ব অনুভব করেন, নিজের দায়িত্ব নিয়ে নিশ্চয় গর্ব অনুভব করেন। ২ দিন ঢাকায় কাটিয়ে বাড়ী ফিরেন, নিজের দামী ভোটটা দলের সভাপতি কিংবা সেক্রেটারীকে দিতে পারেন না, উহার কোন মুল্য নেই; ১০ হাজার ভোটের থেকে আপার ১ ভোটের মুল্য বেশী; আমার মনে হয়, ইহা অনেক মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে, আপার প্রতি তাদের ভালোবাসা কমছে।
এবার শেখ হাসিনার সভাপতি থাকার কোন কারণ থাকতে পারে না; কেহ একজনকে এই দায়িত্ব ১ বার দিলে, উনি নিজেই একটু নিশ্বাস নিতে পারতেন; কেহ তো আওয়ামী লীগ নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে না। এমন কি, যদি অন্য কেহ উনার ভয়ে, বা সন্মানে উনার সাথে ভোটে কম্পিট না করে থাকে, উনি "হ্যাঁ/না" ভোট দিয়ে নিজের ওজনটা বুঝতে পারতেন।
কি হতো, যদি ড: আবদুর রাজ্জাককে উনার বিপরিতে সভাপতি পদে দিয়ে ভোট করলে? নিজের একটা ওজন ও জনপ্রিয়তা বুঝতে পারতেন। আর ড: আবদুর রাজ্জাক জয়ী হয়ে গেলে, আপনা নিজের ভুল ধারণা থেকে মুক্তি পেতেন, নিজের দলকে বুঝতে পারতেন; ড: রাজ্জাক আওয়ামী লীগ নিয়ে নিশ্চয় পালিয়ে যাবে না কোথায়ও।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


