
২০ হাজারের বেশী মানুষকে ঢাকায় এনে, প্যান্ডেল ম্যান্ডেল বানায়ে ( আসলে উহা কোথায় হয়েছে, আমি ঠিক জানি না), মাইক ফাইক লাগায়ে, বিরানী মিরানী খাওয়ায়ে ঘোষণা দিলেন যে, আপা সভাপতি আছেন, ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী থাকছে! ইহা ঘোষণা করার জন্য এত আয়োজন, এত প্রচার, এত যাতায়াত ও হোটেল ভাড়া দেয়ার কোন দরকার ছিলো? মিডিয়েতে একটা বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দিলে চলতো না? কেহ কি টু শব্দ করতো?
গত শুক্রবারে, ওবায়দুল কাদেরকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলো, "সেক্রেটারী পদে আপনি থাকছেন কিনা?" উনার উত্তর ছিলো, "আপা ও আল্লাহ জানেন"। আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী কে হবেন, তা আল্লাহ জানেন! এই লোকের মাথায় যদি ২ পয়সার মগজ থাকতো, সে নিজের দলের লোকদের কথা ভাবলে, নিজের দলকে সমীহ করলে, সে বলতো, "সেটা ডেলিগেটদের হাতে"।
ওবায়দুল কাদেরের সময়, আওয়ামী লীগ পুরোপরি পিরামিড ব্যবসার কর্পোরেশনের আকার ধারণ করেছে, নেতারা পাতি নেতা নিয়েছে নিজের অধীনে, সবাই পরস্পরের "কানেকশান" অনুযায়ী দলে পদ পেয়ে আসছে। ওবায়দুল কাদের সেক্রেটারী হিসেবে ভালো করেনি, সেতুমন্ত্রী হিসেবেও ভালো করেনি: বিশ্ব ব্যাংকের ৩ বিলিয়ন ডলারের পদ্মাসেতুতে সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার আপাতত যাচ্ছে, পরে আরো যোগ হবে; এগুলো ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর প্রোজেক্ট। বাংগালীরা করলে ইহাতে কোনভাবেই ৩ বিলিয়নের বেশী খরচ হতো না।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীতে নতুন যুক্ত হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী শাহজাহান খান; এই লোক বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্হার বিশাল মাফিয়া। উহাতে নতুন হিসেবে আরো স্হান পেয়েছে নানক; নানক সম্পর্কে পুরো দেশের মানুষের খারাপ ধারণা আছে; নানক যুব লীগও চালায়েছিলো, যুব লীগের সব নেতাই ছিলো মাফিয়া সর্দার।
শেখ হাসিনা এসব করে দলকে রাজনীতিহীন দলে পরিণত করেছেন, দলে গণতন্ত্রের লেশমাত্র চিহ্নও রাখেননি, উনার নাম ইতিহাসে ভালোভাবে প্রবেশ করবে বলে মনে হয় না। দলের ডেলিগেটদের সমীহ করতে হয়, দলের লোকদের মতামত প্রকাশের পথ বন্ধ করা ভয়ংকর ভুল; এসব ডেলিগেটরা এই ধরণের পদ্ধতি পছন্দ করছেন না, তারা হয়তো মুখে কিছু বলছেন না, কিন্তু অপমান বোধ করছেন নিশ্চয়ই।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


