
বাংলাদেশের সবচয়ে বিখ্যাত ও আলোচিত জন্মদিন ছিলো বেগম জিয়ার; ইহা দলীয়ভাবে হলেও, সরকারের লোকজন ইহাতে জড়িত হয়ে গিয়েছিল; বেগম জিয়া বেশী কেক খেয়ে, অবশেষে জেলে চলে গেছেন। একা ঢাকা শহরে ৩/৪ লাখ শিশু রাস্তায় থাকে, ডাষ্টবিনে ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্ট খেয়ে থাকে, স্কুলে যায় না, কেহ কেহ মাদক গ্রহন করে; সরকার এদের জন্য কোন ব্যবস্হা নেয়নি; দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, কমপক্ষে কোটীর বেশী কিশোরীকে "চাকরাণী" করা হয়েছে; আজকেও কয়েক লাখ কিশোরী চাকরাণী হয়ে লাখ লাখ পরিবার চালাচ্ছে; এদের বেশীর ভাগ বস্তিবাসী হয়েছে, ও সামনের বছরগুলোতে বস্তিবাসী হবে।
দেশের এই অর্থনৈতিক অবস্হায়, যেখানে সরকার টোকাইদের দায়িত্ব নেয়নি, কিশোরীকে চাকরাণী পেশা থেকে মুক্ত করেনি, সরকারের উচিত হবে না সরকারীভাবে শেখ সাহেবের জন্মদিন পালন করা। শেখ সাহবের জন্মদিনটি ছুটি ঘোষণা না করে, সেই দিনের কাজের থেকে উৎপাদিত অর্থের কিছু অংশ সরকার অনুদান হিসেবে প্রেসিডেন্টেট ফাণ্ডে দেয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারে; এবং সেই টাকা টোকাইদের স্কুলে পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঢাক, ঢোল বাজিয়ে, বেগম জিয়ার পাগলামীর জন্মদিন এই দেশের মগজহীনরা সমর্থন করতো, বেকুবেরা সেইদিন কেক খেতো; কয়েক কোটী মানুষ বেগম জিয়ার জন্মদিনকে ঘৃণা করতো। বেশীরভাগ মানুষ সরকারীভাবে শেখ সাহেবের জন্মদিন পালনও সমর্থন করার কথা নয়; করণ, শেখ সাহেবের সময় জন্মদিন পালন করা হতো না; এবং আজকে যখন শেখ সাহেবের জন্মদিন পালন হবে, তা্তে সাধারণ মানুষের অংশ গ্রহনের জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। শেখ সাহেবের সময় থেকেই প্রশাসনের লোকেরা শেখ সাহবকে সহায়তা করেনি; আজকের প্রশাসনের কেহ শেখ সাহেবকে বা উনার আদর্শকে অনুসরণ করে বলে মনে হয় না; প্রশাসনের এই লোকেরাই শেখ সাহবের জন্মদিন পালন করতে যাচ্ছে!
শেখ হাসিনার উচিত, শেখ সাহবের জন্মদিন পারিবারিকভাবে পালন করা; এর বাহিরে, শেখ হাসিনার দলের লোকেরা চাইলে জন্মদিন পালন করতে পারে; সরকারীভাবে জন্মদিন পালন করা ঠিক হবে না; আমাদের জাতির শিশুরা ও কিশোরীরা যেখানে বেঁচে থাকার জন্য একা সংগ্রাম করছে, সেখানে মানুষ সরকারের এই ধরণের কাজকে পছন্দ করার কথা নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০২০ ভোর ৬:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



