
হিন্দুধর্ম হলো বিশ্বের সবচেয়ে পুরাতন ধর্ম; এই ধর্ম থেকে আরো ধর্মের সৃষ্টি হয়েছে, বড় ২টি হলো: বৌদ্ধধর্ম ও শিখধর্ম। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক দখল করার সময়, ভারত ছিলো মুলত মুসলিম সাম্রাজ্য। পরে দেশটি বৃটিশ কলোনিয়েলিজমের আওতায় আসে। বৃটিশ চলে যাওয়ার জন্য যখন প্রস্তুত হচ্ছিল, তখন ভারতের পরিচালয়নায় হিন্দুদের প্রভাব ছিল একচেটিয়া; এই কারণে, হিন্দুদের বড় অংশ ভেবেছিলো যে, এবার ভারত আবার হিন্দুদের হাতে আসছে। কিন্তু গান্ধী ও নেহেরুর সহজ মনোভাবের কারণে, অনেকটা বিনা বাধায় মুসলমানদের জন্য পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছিলো। ভারতের বুকে মুসলমানদের জন্য পাকিস্তানের জন্ম হিন্দুবাদীদের আহত করে; এবং সেই কারণেই মহাত্মাকে হত্যা করা হয়।
বর্তমান ভারত হলো হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খৃষ্টান ও বৌদ্ধদের মাতৃভুমি; ইহাকে শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করা কি আপনি সমর্থন করেন? আপনি কি পকিস্তান, আফগানিস্তান, সৌদী ও ইরানকে শুধুমাত্র মুসলমানদের রাষ্ট্র করার পক্ষপাতি? যারা ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, এদের সংখ্যা এখন বেশ বড়; এবং পকিস্তান, আফগানিস্তান, সৌদী ও ইরানকে শুধুমাত্র মুসলমানদের রাষ্ট্র করার পক্ষও কিন্তু ছোট নয়।
ধর্মীয় মানুষরা কেন নিজের মাতৃভুমিকে শুধুমাত্র নিজধর্মের মানুষদের রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়? কারণ, ধর্মীয়রা অন্য ধর্মের লোকদের চেয়ে, নিজের ধর্মের লোকদের মাঝে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে; নিজ ধর্মের মানুষদের মাঝে স্বাচ্ছন্দ বোধ করার অভ্যাসটা ধর্ম নিজেই জন্ম দেয় মানুষের মনে। যদিও ধর্মীয়রা সব সময় বলেন যে, অন্য ধর্মকে সহ্য করা ধর্মেরই অংশ, বাস্তবতা আসলে তা নয়; যা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবতায় যেটা স্ববিরোধী, সেটা সত্য নয়; এদিক থেকে সব ধর্মই একটা বড় অসত্যকে ধারণ করছে।
ধর্ম যদি এতবড় অসত্যকে ধারণ করে, ইহা কি কোন সুপ্রীম ক্ষমতার সৃষ্টি? অবশ্যই না, ধর্ম যদি কোন সুপ্রীম ক্ষমতার সৃষ্টি হতো, ইহাতে এতবড় অসত্য থাকার কোন সম্ভাবনাই থাকতো না। যারা ভারতে শুধু হিন্দুদের দেখতে চায়, যারা আফগানিস্তান ও সৌদীতে শুধু মুসলিমদের দেখতে চায়, তাদের মতো সাধারণ মানুষই ধর্ম আবিস্কার করেছে।
ভারতে যারা হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে, ঠিক তদেরই একজন হচ্ছে মোদী। মোদী চলে যাবে যথা সময়ে, কিন্তু সে যেই বিষবৃক্ষে পানি ঢেলেছে, উহা বেশ বড় আকর ধারণ করেছে, ইহা মানবতাকে হত্যা করবে কিছু সময় ধরে; কিন্তু সকল কষ্টকে সহ্য করে মানবতাই জয়ী হবে। সময়ের কারণেই মানুষ ধর্ম আবিস্কার করেছিলো, সময়ের প্রয়োজনেই উহার বিলুপ্তি ঘটবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



