
ইহা আমাদের গ্রমের একটি দুস্হ পরিবারের এক মেয়ের এক রাতের কাহিনী। আমার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে কয়েকদিন আগে; বিকেলে গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলেছি; খেয়েদেয়ে কাছারীতে একটু গা এলিয়ে দিতেই ঘুম এসে গিয়েছিলো। কিসের আওয়াজে মাঝরাতে ঘুম ভাংলো; মনে হচ্ছে, কেহ যেন খুব আলতোভাবে টিউব-ওয়েল চেপেছে; এতরাতে টিউবওয়েলে কে! আমি জানালা দিয়ে দেখলাম; পুকুরের ঘাটের কাছেই টিউবওয়েল; টিউবওয়েলে একটি মেয়ে, পাশ থেকে চেনা গেলো না, পানি খাচ্ছে; আমি আস্তে জিজ্ঞাসা করলাম,
-এটা কে?
- আমি হাবাধন। সে আমার থেকে আরো নীচু গলায় উত্তর দিলো।
হাবাধন, আমাদের ৪ বাড়ী দক্ষিণের মেয়ে, ১১/১২ বছর হবে; ওরা খুবই গরীব, বাবা নেই। ওরা এইদিকে তেমন আসে না, ওদের চলাফেরা গ্রামের দক্ষিণ দিক হয়ে। আমি কাছারী থেকে বের হয়ে এলাম,
-তুই এত রাতে এখানে কিভাবে?
-আমি ঘর থেকে পালিয়ে গেছি; মা আমাকে পেলে মেরে ফেলবে!
-কি করেছিস তুই?
- সকালে মা গেছে নানুর বাড়ী, চালডাল পায় কিনা দেখতে; ঘরে কিছু ছিলো না; দুপুরের দিকে আমি মাষ্টারদের বাগান থেকে ৪/৫টা কলা নিয়ে সিদ্ধ করে ভাইবোনদের দিয়েছিলাম; মাষ্টারের বউ টের পেয়ে, দিনের বেলা মাষ্টারসহ লাঠি নিয়ে আমাকে মারতে এসেছিলো; আমি পালিয়ে গেছি। সন্ধ্যায় মা ফিরে এসেছে, লাঠি হাতে আমারে খুঁজতেছে। আমি এই দিকে চলে এসেছি।
-এতক্ষণ কোথায় ছিলি?
-তোমাদের কাছারীর পেছেন; ক্ষুধায় পেট পুড়ে যাচ্ছে, পানি খাইলাম।
-সারাদিন কিছু খাইছিস?
-না।
-কাছারীতে গিয়ে বস, আমি দেখি পাকঘরে কি আছে!
-দরকার নাই, তুমি আবার আমাকে নিয়ে বিপদে পড়বে!
-কিসের বিপদ, তুই কাছারিতে গিয়ে বস।
আমি পা টিপেটিপে পাকঘরে ঢুকে একটা থালিতে পান্তাভাত, মাছ ও বেগুনের তরকারী নিলাম। সে গোগ্রাসে খেলো।
-আমাদের পাকঘরে গিয়ে শুয়ে থাক।
-না, বাড়ী চলে যাবো!
-তোকে মারবে না?
-মা বোধ হয় শুয়ে গেছে; এখন মারবে না, সকাল ধরবে।
-একা যেতে পারবি?
-পারবো।
সে কয়েক পা গিয়ে ফিরে আসলো,
-ডর লাগছে!
-আমি দিয়ে আসবো?
-না, তুমি আমার সাথে গেলে তোমার বদনাম হবে; আমার বদনাম আছে, শুননি?
-না, আমি কিছু শুনিনি।
-তুমি মিথ্যা বলছ, পুরা গ্রামের সবাই বলাবলি করছে, আর তুমি শুননি!
-অসুবিধা নেই, চল।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০২০ ভোর ৫:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



