
না, তিনি আজীবনের জন্য প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য কোন ধরণের প্ল্যান করেননি; এটি "বাকশাল" বিরোধীদের একটি প্রচারণা ছিল, যা শেখ বিরোধীরা আজো চালিয়ে আসছে। যারা এই প্রচারণা চালিয়ে ছিলো, তারা নিজেরা ঠিক এটা আবিস্কার করেনি, গুজবটা আওয়ামী লীগের ভুলের জন্যই বাজারে এসেছিলো; আওয়ামী লীগের যারা শেখ সাহেবকে নানা অপ্রয়োজনীয় খেতাব, মেতাব দিচ্ছিলো, তারাই উনাকে আজীবনের প্রেসিডেন্ট ইত্যাদি বানানোর কথা বলছিলো, শ্লোগান দিয়েছিলো।
উনার মৃত্যুর পর, উনার বিপক্ষে এই অপপ্রচার বেশী চালানো হয়েছিলো জাসদ থেকে; জাসদ ছিলো ছাত্রলীগের জোরালো অংশ। শেখ সাহেবের সবচেয়ে সফল সৃষ্টি ছিলো ছাত্রলীগ, শেখ সাহবের প্রাণঘাতী সৃষ্টি ছিলো ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ সৃষ্টি করে শেখ সাহেব আওয়ামী লীগের নেতাদের নজরে আসেন, আওয়ামী লীগে স্হান পান; এই ছাত্রলীগ শক্তিশালী হয়ে, যথাসময়ে জাসদ গঠন করে, শেখ সাহেব বিরোধী কার্যক্রম চালায়; জাসদের গণবাহিনী দেশে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড চালিয়ে শেখ সাহবের সরকারকে অস্হির করে তুলেছিলো।
যাক, জাসদ থেকে পরে এই অপপ্রচার অন্যান্য শেখ বিরোধীরা মুখস্হ করে নেয়, এবং আজকেও সুযোগ পেলে চালিয়ে দেয়।
আরেকটা কথা: আজকে যা ঘটছে, জেনারেল জিয়া, এরশাদ, বেগম জিয়া মিলে যেভাবে দেশ চালায়েছে, সবগুলোকে যোগ করে দেখেন, শেখ সাহেব আজীবনের জন্য প্রেসিডেন্ট হলে কি খারাপ হতো? আজকের আপাকে নিয়ে জনতার বিশাল অংশ খুশী নন, জেনারেল জিয়ার হত্যাকান্ড ও বাংলাদেশ-বিরোধীদের নিয়ে সাইনবোর্ড মার্কা দল বিএনপি গঠন করা, এরশাদের মতো শিয়ালের পুরো জাতিকে দুর্নীতিবাজ করে তোলা, বেগম জিয়ার মতো অপদার্থের কেক খাওয়ার থেকে কি ভালো হতো না?
যাক, '৭০ সালের বাংগালীরা আজকের বাংগালীদের থেকে অনেক বেশী রাজনৈতিক সচেতন ছিলেন ও প্রতিবাদ মুখর ছিলেন; যদি কেহ প্রস্তাব করতো যে, শেখ সাহবেকে আজীবনের জন্য প্রসিডেন্ট করা হবে, সর্বস্তর থেকে প্রতিবাদ হতো। শেখ হত্যার পর, অনেক ধরণের প্রচারণা চালানো হয়েছিলো, তার মধ্যে এটাও ছিলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



