
করোনা ভাইরাস নিয়ে এত আতংক কেন? কারণ, এখন মানুষ জীবনমুখী, মানুষ অসুস্হতার কারণ জানে, মানুষ জীবনের মুল্য বুঝে, মানুষের জীবনের মুল্য আছে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে, এই ধরণের, বা এর থেকেও কঠিন ভাইরাসে কোটী মানুষ প্রাণ হারায়েছেন; কিন্তু তখনকার মানুষ এসব ভাইরাস সম্পর্কে জানতো না, প্রতিষেধকও ছিলো না, সরকার ছিলো না, মানুষ ছিলো অসহায়; তখন সাধারণ মানুষের কাছাকাছি জ্ঞানী-মানুষ(?) ছিল উপসনালয়ের পুরোহিতরা: রাবাই, পাদ্রী, মোল্লা, ঠাকুর; এরাও কিছুই জানতেন না; কিন্তু এরা মানুষকে একটা বুঝ দেয়ার জন্য ধর্মীয় গ্রন্হ থেকে কিছু একটা বলতেন, যা কখনো সঠিক থাকার কোন সম্ভাবনা ছিলো না, নিজেও হয়তো বুঝতেন না কি বলছেন।
তবে, ধর্মীয়রা ও অশিক্ষিত মানুষ ভুলক্রমে সব মহামারীকে সৃষ্টিকর্তার দেয়া শাস্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে, যা ছিল সব সময় ভুল; আজকের উন্নত বিশ্ব এসব ভুল ধারণা থেকে মুক্ত হলেও, ধর্মীয়দের সমস্যা রয়ে গেছে; কারণ, তারা অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে পড়ালেখা করে, এবং তাদের পড়ালেখার পরিধি খুবই সীমিত। আমেরিকা ও ইউরোপে থিওলোজীতে 'পিএইচডি'ও দিয়ে থাকে, এদের পরিামাণও অসংখ্য; পৃথিবী সম্পর্কে এদের ধারণা খুবই কম। আমাদের দেশ, ভারত, আফগানিস্তানের ধর্মীয় লোকজন এসব ব্যাপারে এখনো পাথর যুগে আছেন।
এই শতাব্দীর মানুষের জীবনযাত্রার মুলে রয়েছে মানুষের শ্রম ও জ্ঞানের প্রয়োগ; এই শতাব্দীর মানুষ নিজেরাই ক্যাপিটেলিজমকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থনীতি গড়ে তুলেছে, সমাজ গড়ে তুলেছে; ক্যাপিটেলিজমের উৎপাদন ব্যবস্হা একটি চেইনের মতো। কিন্তু ইহা একটি সমস্যার সৃষ্টি করেছে, উন্নত জাতিগুলো মোটামুটি আর স্বনির্ভরশীল নয়, এরা পরস্পরের উপর নির্ভরশীল; ইহার ভালো ও খারাপ দিক আছে; যেমন, করোনাই ইহার উদাহরণ, চীনে উদ্ভব, এখন সারা বিশ্বে চলে গেছে।
পশ্চিমের সমাজ সায়েন্স ও টেকনোলোজীর উপর ভিত্তি করে এগুচ্ছে; এখানকার মানুষ এই ধরণের মহামারীকে থামাবে, এবং জীবন নাশের পরিমাণও হবে ন্যুনতম। ধর্মীয়রা আছেন ৩য় বিশ্বে; সব ব্যাপারের তাদের মতামত আছে, হোক সে মহামারী, হোক সে কম্প্যুটারের মেশিন লার্নিং; এবং সব ব্যাপারে তাদের মতামত একেবারেই অর্থহীন, সময় সময় ক্ষতিকর।
তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশ ক্রমেই জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে যাচ্ছে; কিন্তু তাদেরকে ধর্মীয়দেরকে নিয়েই এগুচ্ছে হচ্ছে; ফলে, ধর্মীয়দের ভুল জীবনেকেও বোঝা হিসেবে টানছে তারা; তিউনিশিয়া, আলজিরিয়া, ভারত এখন এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
স্বয়ং আমেরিকার চার্চেও করোনা থেকে মুক্তি চেয়ে দোয়া করা হচ্ছে, নিউইয়র্কের মসজিদ, মন্দিরে দোয়া হচ্ছে। শুধু হচ্ছে না ইহুদীদের সিনাগগে; তারা এটাকে মেডিক্যাল সমস্যা হিসেবে নিয়েছে ও তাদের রাবাইরা ইহুদী বাইও ফার্মাগুলোকে দিনরাত কাজ করে প্রতিষেধক বের করার চেষ্টা করতে বলেছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


