somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুল ধারণার চাষ করার জন্য ব্লগকে ব্যবহার করা।

০৩ রা এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সোভিয়েত নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী সাখারোভ( ১৯২১-১৯৮৯ )১৯৫১ সালের পর, সোভিয়েতের জন্য "হাইড্রোজেন বোমা" বানান; উনাকে বিজ্ঞান একাডেমীর সর্বোচ্চ পদ দেয়া হয়, সর্বোচ্চ পদকগুলো দেয়া হয়, বাকী ছিলো ঈশ্বরের পদটি দেয়া। ৬০ দশকে ক্রমেই সোভিয়েত ও আমেরিকা পরস্পরের বিরোধীতাকে উস্কানী পর্যায়ে (কোল্ড ওয়ার) নিয়ে যায়, ৭০ দশকে একটি এটোমিক যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

১৯৭২ সালে, সোভিয়েত কম্যুনিষ্ট পার্টির কনভেনশনে সাখারভ ছিলেন সবচেয়ে বড় অতিথি; তিনি বক্তব্য রাখার এক পর্যায়ে এমন কিছু বললেন, যাতে ডেলিগেইটরা হতভম্ব হয়ে যান, উনার বক্তব্যের সময় কমিয়ে দেয়া হয়; সেদিন কনভেনশন স্হগিত করা হয়, সাখারভের সাথে, উনার বক্তব্য নিয়ে দলের উঁচুপদের লোকজন কথা বলে, উনাকে নিজ বাড়ীতে যেতে না দিয়ে হোটেলে আটক করে রাখা হয়। কনভেনশন শেষ হওয়ার পর, দল ও কেজিবি ১ মাসের মতো উনার সাথে কথা বলে, শেষে উনাকে গ্বহবন্দী করে রাখে , উনার পদবী মদবী শেষ; সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেংগে যাবার পর, উনি মুক্ত হন; কনভেনশনে উনার বক্তব্য ও নিউক্লিয়ার সায়েন্সে উনার অবদানের জন্য উনাকে ১৯৭৫ সালে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

বিজ্ঞানী সাখারভ কনভেনশনে কি বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন যে, তিনি জাতীকে রক্ষা করার জন্য বোমা বানায়েছেন; এবং "হাইড্রোজেন বোমা" বানানোর প্রসেসে, উনাকে বছরের পর বছর ভাবতে হয়েছে; ভাবনার অনেক ভুল পরিশোধন, ভাবনার অনেক ফিল্টার করার পর, উনার ভাবনা কাজ করেছে, উনার ধারণাকে সাপোর্ট করেছে( হাইড্রোজেন বোমার ডিজাইন), বোমা বানানো সম্ভব হয়েছে; উনি এখন নিজের ভাবনা ও ধারণার উপর খুবই আত্মবিশ্বাসী; তিনি জাতীকে রক্ষা করার জন্য কাজটি করেছেন, এই বোমা নিজ জাতীকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে; তবে, ইহা অন্য কোন জাতির মানুষকে হত্যা করবে নিশ্চয়; ফলে, এই বোমা ব্যবহারের সিন্ধান্ত নেয়ার সময়, উনার ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিকদের অংশ গ্রহন থাকতে হবে।

উনার নামে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর, কম্যুনিষ্ট পার্টি উনাকে "জাতির শত্রু ও পশ্চিমের গোয়েন্দা" হিসেবে ঘোষণা করে; এটা দেশের সব মিডিয়া ও সব প্রতিষ্টান "দেশ বাঁচানোর শ্লোগান" হিসেবে নেয়া হয়; পরবর্তী বছরগুলোতে যখনই আমেরিকা সম্পর্কে কোন কথা হতো মিডিয়ায়, তখন সাখারভের নাম নেয়া হতো ঘৃণা ভরে, এবং মিডিয়ায় কোটী লোকের লেখা প্রকাশ করা হয়, যেখানে বলা হয়েছিলো যে, "সাখারভের বর্তমান ধারণা ও অবস্হান ভুল, এবং জাতীর বিপক্ষে"।

১৯৮১ সালে, বাংলাদেশের অনেক প্রজেক্টে রাশিয়ান স্পেশালিষ্টরা কাজ করতেন; কাজ উপক্ষে তাদের সাথে কথাবার্তা হতো; তাদের টিমলীড থাকতো ২ জন: ১ জন টেকনিক্যাল, অন্যজন পলিটিক্যাল; পলিটিক্যাল লীডদের ২/৪ জনের সাথে আমার পরিচয় হয়, সাখারভ নিয়ে এমনি সামান্য কথাবার্তা হয়; আমি সাখারভের পক্ষে। এতে তারা খুবই অসন্তুষ্ট হতেন, কিন্তু ভদ্রতার অভাব ছিলো না। হয়তো, এই কারণেই সোভিয়েত কনস্যুলেটের ১ অনুষ্টানে আমি দাওয়াত পেলাম; আমার পরিচিত ১ লীডের উৎসাহে, সেখানে আরো কয়েকজন পলিটিক্যাল লোকর সাথে সাখারভের ব্যাপারে আলাপ হলো, তারা সাখারভ সম্পর্কে আমার ভালো ধারণাকে ভুল বললেন। এক পর্যায়ে, কনস্যুলেটের এক অফিসার তার অফিসে নিয়ে আমাকে ১৯৭৬ সালে সংগৃতিত "প্রাভদা" পত্রিকার কপি দেখালেন, যেখানে ৫ম শ্রেনীর বাচ্চারা তাদের ক্লাশে মিটিং করে, সাখারভের অবস্হান, ভাবনা ও ধারণার বিপক্ষে কথা বলছে।

লোকটি আমাকে ইহা দেখায়েছিলেন উদাহরণ হিসেবে, জাতি সাখারভের বিপক্ষে ঐক্যবদ্ধ। আমি উনাকে প্রশ্ন করলাম,
-৫ম শ্রেনীর বচ্চারা ১ জন নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানীর বছরের পর বছর, দিনরাত খাটুনীর কথা, ডিজাইন করার কথা, সেই ডিজাইনকে কার্যকরী করার কথা, কতটুকু বুঝতে পারে ? তাদের ধারণা কি সাখারভের লেভেলে, বা উনার ভাবনাকে এভালুয়েট করার মতো? আপনি এদের ভাবনাকে কেন মুল্য দিচ্ছেন?
লোকটা আমতা আমতা করতে লাগলেন। আমি বললাম,
-আপনারা মিডিয়াকে দখল করে, সাখারভের বিপক্ষে ভুল ধারণা প্রচারে লিপ্ত আছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৭:২১
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×