
বেশীরভাগ আমেরিকানরা বুঝতে পেরেছে যে, ট্রাম্প ও গভর্ণরেরা দেরীতে লকডাউনে গেছে, ও ৩ মাসের বেশী সময় হাতে পেয়েও হাসপাতালগুলোতে মহামারীর জন্য কোন ধরণের প্রস্তুতি নেয়নি; চীনের পরিস্হিতি বুঝার মতো কুটনৈতিক ও গোয়েন্দা তথ্য যোগাড়ের প্রচেষ্টা করা হয়নি, সিডিসি থেকে শুরু করে, হেলথকেয়ারে পলিটিক্যাল এপোয়েন্টিরা অদক্ষ। ট্রাম্প আমেরিকাকে জাতি হিসেবে কম মুল্যায়ন করে ব্যবসায়িক সমিতি হিসেবে মুল্যায়ন করেছে। যেই পরিমাণ প্রানহানী হয়েছে, যেই পরিমাণ অব্যবস্হা, বিশৃংখলা হয়েছে, ভোটে ট্রাম্প পরাজিত হলে, উহার বিচার হবে।
ট্রাম্প নিজেও সেটা বুঝতে পেরেছে, গত সপ্তাহ থেকে তার মাঝে ভাবান্তরের উদয় হয়েছে; ট্রাম্পের করোনা প্রেস কনফারেন্সে, প্রশ্নোত্তর সেশনে, এনবিসি'র এক রিপোর্টার ট্রাম্পকে প্রশ্ন করার আগে, অনেকটা ষ্টেইটমেন্টের মতো করে বলেন, "প্রেসিডেন্ট, আপনি দেরীতে লকডাউন করেছেন, আপনাকে ইহার দায়িত্ব নিতে হবে"। ট্রাম্প রেগেমেে গলে গেছে, শুধু এফ-ওয়ার্ড ব্যবহার করার বাকী ছিলো।
বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্হায়, ট্রাম্প যে রেসকিউ প্যাকেজ দিচ্ছে তা মাত্র ৫০ ভাগ মানুষের দরকার ছিলো; কিন্তু সে ইহাকে ভোট কেনার জন্য ব্যবহার করছে, কমপক্ষে বিনা কারণে শতকরা ৪০ জন ভালো আয়ের মানুষকেও দেয়া হচ্ছে; ইহার ফলে, পরে ক্যাশের যে সমস্যা দেখা দিবে, তখন ইমারজেন্সী খাতের প্রোগ্রাম কেটেও আমেরিকা রক্ষা পারে না, আমেরিকা অকারণে ডিপ্রেশনে চলে যাবার সম্ভাবনা খুবই বড়।
ট্রাম্পের সৌভাগ্য, গত ৪ বছরে ডেমোক্রেটরা ভালো করেনি; ওরা ট্রাম্পের বড় বড় অন্যায়গুলোকে মানুষের সামনে আনতে পারেনি; এবং শক্ত কারণ না থাকার পরও ট্রাম্পকে ইমপিচ করে, কিন্তু সরাতে ব্যর্থ হয়। তদুপরি, তাদের ভালো কোন কেন্ডিডেটও নেই; বাইডেন ভালো মানুষ, কিন্তু চমক সৃষ্টি করার মতো কেহ নন; আবার, প্রাইমারীতে নিজ দলের লোকেরা তার দুর্বল দিকগুলো বেশী সামনে নিয়ে এসেছে। বাইডেনের আরেক বড় সমস্যা হয়ে গেছে, উহার ছেলে, ইউক্রেনে আইনজীবি হিসেবে গড় আমেরিকান আইনজীবিদের চেয়ে অনেক বেশী আয় করেছে।
আজ অবধি ২ কোটী ৫০ লাখের চাকুরী গেছে; ট্রাম্প ও তার পক্ষের দুষ্টরা ভাবছে যে, লকডাউন যদি বেশী থাকে, অর্থনীতি আরো খারাপ হবে, আরো মানুষের চাকুরী যাবে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমবে; তাই সে চাচ্ছে, কিছু কিছু রাজ্যে লকডাউন তুলে নিতে। এতে বুঝা যাচ্ছে যে, সে কিছুটা ভয় পাচ্ছে, ভোটে হেরে গেলে তার বিচার হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

