
১৯৬৩ ও ১৯৭০ সালে ততকালীন পুর্ব পাকিস্তানে ভয়ংকর সামুদ্রিক সাইক্লোনে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানী ঘটেছিলো; ততকালীন পাকিস্তান সরকার কিংবা বিশ্ব পুর্ব পাকিস্তানের সামুদ্রিক ঝড়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে অগ্রিম কোন ধারণা দিতে পারেনি; আজকে বিশ্ব ও বাংলাদেশ সেইসব টেকনোলোজী পেয়েছে, এখন বাংলাদেশে সামুদ্রিক সাইক্লোনে প্রাণহানী কমে এসেছে; ইহা সায়েন্স, টেকনোলোজী ও মানুষের দক্ষতার সমন্ময়ে একটি প্রয়োজনীয় ও বিশুদ্ধ প্রেডিকশান সিষ্টেম।
অষ্ট্রেলিয়া আরো ৫ বছর আগের থেকেই নিজেদের খরা সম্পর্কে জানতো, আসলে তারা ২০৩০ অবধি জলবায়ু সম্পর্কে বেশ পরিস্কার ধারণা রাখে; কিন্তু ধারণা অনুযায়ী অষ্ট্রেলিয়া প্রস্তুতি নেয়নি; সেটা গত দাবানলে বুঝা গেছে।
করোনা সম্পর্কে আমেরিকার প্রেডিকশান ভুল ছিলো; আমেরিকা চীনাদের দেয়া ডাটা ও ওয়ার্ল্ড স্বাস্হ্য সংস্হার প্রেডিশানের উপর নির্ভর করেছে; ট্রাম্প আসার পর, আমেরিকার 'সিডিসি'তে ট্রাম্পের পলিটিক্যাল এপোয়েন্টিগুলো ছিলো অদক্ষ, এবং সিডিসি'র চীন শাখায় সঠিক জনবল ছিলো না; সর্বোপরি আমেরিকান দুতাবাস কিংবা গোয়েন্দারা সঠিক ডাটা সরবরাহ করেনি। এরপর, সবচেয়ে ভয়ংকর ছিলো ট্রাম্পের নিজের মনোভাব, সে আমেরিকাকে ধারণা দিয়েছিলো যে, ইহা আরেকটি ফ্লু, আসবে, চলে যাবে। আমেরিকার প্রেডিকশান ও পদক্ষেপে ভয়ংকর ভুল ছিলো।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ গ্রহন আমেরিকার জন্য ছিলো আত্মঘাতী; আমেরিকার ধারণা ছিলো যে, ভিয়েতনাম চীনের মতো সোস্যালিষ্ট দেশে পরিণত হচ্ছে, ইহাকে সোস্যালিজম থেকে রক্ষা করা আমেরিকার ইমানী দায়িত্ব; বিপুল প্রানহানী ও ভয়ংকর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মাঝে পড়ে আমেরিকা। আফগানিস্তানে যুদ্ধের দরকার ছিলো; কিন্তু ওখানে অবস্হান নেয়া ছিলো ভুল সিদ্ধান্ত।
ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, করোনা, চীনের বিশ্বব্যাপী ব্যবসা কি আমেরিকাকে পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? না, আমেরিকা নিজের যায়গায় আছে, এবং আরো ভালো করার সম্ভাবনা আছে; কারণ, আমেরিকা খুবই কমপ্লেক্স, কিন্তু সবল সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্হায় আছে; তাদের অর্থনীতির তত্ব ক্যাপিটেলিজম, এবং এই সিষ্টেমের ভিকটিম হচ্ছে তারা, এই সিষ্টেমে অভ্যস্ত তারা; গলাকাটা ক্যাপিটেলিজমের জন্য এরা চড়া মুল্য দিচ্ছে জাতি হিসেবে, আবার তারা উহাকে রিপেয়ার করতেও জানে।
আমেরিকার অর্থনীতি, ফাইন্যান্স, রাজনীতি, সমাজ ও প্রশাসন বেশ কমপ্লেক্স; ইহা বুঝতে বেশ বিদ্যা, অভিজ্ঞার দরকার হয়; আমেরিকা খারাপ সময় ও ভালো সময়ের মাঝে দিয়ে যায়; কিন্তু ইয়েমেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানের লোকেরা এই দেশের ভবিষ্যত নিয়ে সহজে প্রেডিকশান করতে পারবে না; কারণ, এসব দেশের মানুষ নিজেদের দেশ সম্পর্কে পুরোপুরি বুঝেন না, কমপ্লেক্স অর্থনীতি, সমাজ নীতি, রাজনীতি ও ফাইন্যান্স বুঝেন না; বাংলাদেশের যত মানুষ আমেরিকার ভিয়েতনামে পরাজয় ও আফগানিস্তানে নাকানি চুবানী সম্পর্কে জানেন, তাঁদের সবাই কিন্তু জানেন না যে, তাঁদের কতজন প্রতিবেশী মুক্তিযু্দ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন, কেন তাজুদ্দিন সাহেবকে জেলের ভেতরে খুন করা হয়েছিলো।
প্রেডিকশান একটি কঠিন বিদ্যা, ইহা আজকাল কঠিন সায়েন্স, ক্ম্প্যুটিং ও টেকনোলোজীর অংশ হয়ে গেছে; ইহা যীশু ফেরত আসবেন, ইমাম মেহেদী এসে আরবদের সংগঠিত করে নতুন সাম্রাজ্য গঠন করবেন, বা সুর্য কছে এসে মাথার সাথে লাগবে, ঠিক সেই স্তরে নেই এখন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

