
রাত ৪টায় ঘুম থেকে উঠেছি, গাড়ীতে কিছু ময়দা আছে, নিয়ে আসা দরকার; ভোর ৫ টার দিকে বের হলাম, দৌঁড়ে গেলাম, ৪ ব্লক, রাস্তা ফাঁকা, ভাবছি কারো সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফিরতে, প্রথমেই দেখা হলো ১ জন অপরিচিত বাংগালীর সাথে, কুইনসে থাকেন, উনার বোন থাকেন আমাদের এলাকায়, বোনকে দেখতে এসেছেন। আমার কাছে বাংলাদেশের খবর জানতে চাইলেন; আমি জানি, কুইনসে বাংগালীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন; ঐ এলাকায় সবচেয়ে বাজে হাসপাতালটা অবস্হিত।
এরপর, দেখা হলো আমাদের এলাকার এক বাংগালীর সাথে, উনার মুদি দোকানদার, সকালে ডেলিভারী গ্রহন করতে হবে; উনারও একই বিষয়, দেশের অবস্হা কি?
দেশে বিদেশে মিলে, বাংগালীদের মাঝে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিউইয়র্কের বাংগালীরা; শহরের যেই অংশে বাংগালীদের মুল বসতিগুলো, সেসব এলাকার হাসপাতালগুলো ভালো নয়, এটা একটা বড় কারণ; তবে, এটাই এক মাত্র কারণ নয়; এ'ছাড়া আরো কারণ আছে; আমি সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চাই না।
নিউইয়র্কের এই অবস্হার মাঝেও আমি টেলোফোন কল পাচ্ছি, অনেকেই কল করেন ভালো আছে কিনা জানতে। আমি ধরে প্রথমেই জানিয়ে দিই যে, আমরা ভালো আছি। আমার ভয়ংকর সমস্যা হলো, আমি টেলিফোন মোটামুটি ব্যবহার করি না, কেহ কল করলে সব সময় ১ মিনিটের কম সময়ে কথা শেষ করি; এখন মানুষ টেলিফোন রাখতে চাহে না, ২/৩ মিনিট কথা বলবেনই বলবেন।
আমার পরিচিতদের অনেকেই জানেন যে আমি রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে আলাপ শুনতে ভালোবাসি; আজকাল, দেশ নিয়ে কোন কিছু বলার থাকলে, মনে হয়, অনেকেই আমাকে জানাতে আগ্রহী, আমি বরাবরই মানুষের বক্তব্য শুনতে উৎসাহী ছিলাম; ফলে, নিউইয়র্কের অনেকই আমাকে শ্রোতা হিসেবে দাওয়াত দেন। গত ২ মাস সেসব আড্ডা বন্ধ, কিন্তু সেইসব মানুষেরা আছেন; এরা ঘরে থাকলেও কথা বলতে চান। একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম, এঁরা এখন রাজনৈতিক কথা কম বলছেন, বেশীর ভাগই বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তিত, বাংলাদেশের অবস্হা বুঝার চেষ্টা করছেন।
বাংগালীদের মাঝে একটা বড় পরিবর্তন এসেছে, এই ভয়ংকর অবস্হার মাঝে সাহায্য করছেন, সাহায্য করার প্রস্তাব দেন; বাজার ও খাবার লাগবে কিনা জানতে চাচ্ছেন; এতে আমি অভিভুত; আর, দেশ নিয়ে আমি বাংগালীদের মাঝে বিশাল পরিবর্তন দেখছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

