
ইতালীতে ২৮ হাজার, স্পেনে ২৫ হাজার, আমেরিকায় ৬০+ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়েছেন করোনায; এখনো মানুষ হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সদের ধন্যবাদ দিয়ে যাচ্ছে, রাজনীতিবিদদিগকে তাদের ভুমিকার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছে। আমেরিকান প্রেসিডেট ও গভর্ণররা বলেছিলো যে, ৬০ হাজারের কাছাকাছি মানুষের মৃত্যু হতে পারে; ৬০+ হাজার আজকে (৪/৩০/২০) হয়ে গেছে, আরো ২০/৩০ হাজার যে প্রাণ হারাবে তা স্পষ্ট; এমন কি তার থেকেও খারাপের দিকে যেতে পারে। গতকাল আমেরিকার বিমান বাহিনীর লোকেরা নিউইয়র্ক শহরের উপর দিয়ে যুদ্ধ বিমান উড়ায়ে ডাক্তার, নার্সদের ধন্যবাদ জানায়েছে।
এত কম সময়ে এত মৃত্যুর পরও, ইতালী, স্পেন ও আমেরিকানরা এভাবে কি হাসপাতাল কর্মচারী, ডাক্তার ও নার্সদের ধন্যবাদ দিতেই থাকবে? রাজনীতিবিদদের ধন্যবাদ দিয়ে যাবে সব সময়? মনে হয় না। বর্তমান যুগে, ইতালী, স্পেন ও আমেরিকায় কোন অবস্হায় এত কম সময়ে এত মানুষের মৃত্যু হওয়া স্বাভাবিক কিছু নয়; কোথাও না কোথায় গন্ডগোল আছে, হাসপাতালগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে বলে মনে হয় না; দেশের সরকারের লোকেরা ঠিক সময় ঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি, এটাও পরিস্কার; মনে হচ্ছে, ধন্যবাদ ক্রমেই কমে আসবে, রাগারাগি হবে; কটু কথা বিনিময় হবে সামনের দিনগুলোতে।
আজকে ভোট হলে ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গত ২ মাস, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিদিনই নিউজব্রিফিং দিচ্ছে, কোন কোন সময় ঘন্টারও বেশী সময় আলোচনা করছে, প্রশ্নোত্তর দিয়ে যাচ্ছে; এটা খুবই ভালো দিক, মানুষ সব তথ্য পাচ্ছে। কিন্ত গত কিছুদিন থেকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ধরণ বদলাচ্ছে, তাদের প্রশ্নে ও চেহারায় রাগের উপস্হিতি বুঝা যাচ্ছে; সময় সময় ট্রাম্পও রাগছে; ইহা ক্রমেই আরো খারাপের দিকে যাবে, মনে হচ্ছে।
আমেরিকার মাঝে নিউইয়র্ক রাজ্য ডুবে গেছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। নিউইয়র্কের মানুষ স্পষ্টভাবে বুঝতেছে যে, নিউইয়র্ক শহরে আরো ১ মাস আগেই লকডাউন করার দরকার ছিলো; নিউইয়র্ক খুবই স্পেশাল শহর, ইহা ব্যবসায়ীদের শহর, এই শহরে ও ইহার আশেপাশে মিলে ৬টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট আছে; একদিনে একা নিউইয়র্ক শহর থেকে ১০ হাজার মানুষ বিদেশে যায় ও ফিরে আসে; এই শহরের ৭ মিলিয়ন মানুষ প্রতিদিন গাদাগাদি করে ট্রেন ও বাসে কাজে যায়, আসে; এই শহরে ১ মিলিয়নের বেশী পুর্ব এশিয়ার লোকজন বাস করে, এরা পয়সার মালিক, সব সময় বাহিরে যাওয়া আসা করে; এই শহরের বেলায় গভর্ণরকে ভাবার দরকার ছিলো। গভর্ণর প্রতিদিন নিউজব্রিফিং করে নিজের অনেক কার্যক্রম তুলে ধরছে; কিন্তু সময়ের সাথে মানুষ একটু একটু করে অধৈর্য হয়ে উঠছে, তার কথায় গলছে না; মনে হয়, শীঘ্রই ধন্যবাদ দেয়া বন্ধ হয়ে যাবে, মানুষের মাঝে ক্ষোভের উপস্হিতি বুঝা যাচ্ছে।
আগামী ২/৩ মাসের ভেতর মানুষের ভাষা বদলাবে, মানুষ মনে হয় না, ডাক্তার, নার্দের ও সরকারের লোকদের এত বেশী ধন্যবাদ দেবে; এগুলো ইনভেষ্টিগেশন অবধি গড়াবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

