
মে দিবসে বাংলার শ্রমিকদের দাবী হওয়ার দরকার, "শ্রমিক ও ম্যানেজমেন্ট পার্টনারশীপের মালিকানায় থাকবে কলকারখানা"। বাংলাদেশের ৮০ ভাগ কলকারখানা হচ্ছে ঋণে, মানুষের টাকায়। মানুষের টাকায় কলকারখানা করলে, মানুষই ইহার মালিক হোক, মাঝখানে ফড়িয়া কেন?
স্বাধীনতা যুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবদান অনুসারে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার সর্বোচ্চ হওয়া উচিত; আজকে যারা গার্মেন্টস'এ কাজ করেন, চাকুরী রক্ষার জন্য ট্রাকের পিঠে ড্রামের মাঝে লুকায়ে ঢাকা আসছেন, এদের পিতামাতাই স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন; যারা মালিক পক্ষে আছে, সম্ভবত এরা স্বাধীনতার জন্য কিছু করেনি, এরা স্বাধীনতার পর সুযোগ নিয়ে এরা বাংলার সম্পদ দখল করেছে।
১৯৭৫ সালে মিলিটারী ক্ষমতা দখলের পর, ততকালীন শিক্ষিত পরিবার, প্রশাসনে থাকা পরিবারগুলো, মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকেরা সরকারের সাথে মিলে, সরকারের সহযোগীতায় ক্রমেই বাংলার সম্পদ দখল শুরু করে।
মিলিটারী ক্ষমতায় আসার পরেই বাংলার দরিদ্র মানুষকে আরব দেশে দাস হিসেবে বিক্রয় করা শুরু করে; মিলিটারী প্রশাসন মানুষের জন্য দেশে চাকুরী সৃষ্টি করেনি; ওদের দাস ব্যবসা আজো চলছে, আজো দেশের মানুষ অন্য দেশে কাজ করছে, নিজ দেশে তাদের জন্য চাকুরী সৃষ্টির চেষ্টা আজো হচ্ছে না।
১৯৭১ সালে বাংলার মানুষের মাঝে যেই ২০ ভাগ মোটামুটি মধ্যবিত্ত ছিলো, তারা স্বাধীনতা চায়নি, তারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশও নেয়নি, সেসব পরিবারের কেহ যুদ্ধে যায়নি; কিন্তু যুদ্ধের পর, শেখ সাহেব ও তাজুদ্দিন সাহেবের ভুলের কারণে এরাই দেশের প্রশাসনে চাকুরী পায়, এরাই দেশের সম্পদের মালিক হয়ে যায়; এসব পরিবারের হাতে কিছু টাকা ছিলো, এসব পরিবাবের মানুষ শিক্ষিত ছিলো, এরা প্রশাসনে ছিলো, এরাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শিল্প কারখানা কিনে নিয়েছে, এরাই পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হয়েছে, এরাই কলকারখানা করার লাইসেন্স পেয়েছে।
যারা স্বাধীনতা এনেছিলেন, তাঁদের বড় অংশ জীবনে চাকুরীও পাননি; তাঁদের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখার সুযোগ পাননি; তাঁদের মেয়েরাই আজকে গার্মেন্টস'এর দাসী, তাঁদের ছেলেরা আজকে আরব ও মালয়েশিয়ায় দাস হিসেবে বিক্রয় হচ্ছে।
মে দিবসে বাংলার সাধরণ মানুষের দাবী হওয়ার উচিত, যাঁরা স্বাধীনতা এনেছিলেন, শ্রমিক হিসেবে তাঁরা যেন দেশের কলকারখানার মালিকানায় শেয়ার পান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

