somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগে কমেন্ট করা খুবই কঠিন হয়ে গেছে!

০২ রা মে, ২০২০ বিকাল ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ব্লগার নেওয়াজ আলী, পদাতিক চৌধুরী, বিদ্রোহী ভৃগু, মা হাসান প্রমুখের সৌভাগ্যে আমার বড় ইর্ষা হচ্ছে আজকাল; উনারা একটা করে কমেন্ট করছেন, ১টা করে ধন্যবাদ পেয়ে যাচ্ছেন; আমি কমেন্ট করে কেবল হুশিয়ারী পাচ্ছি; আমি কমেন্ট করার কিছুক্ষণ পরে একটি খারাপ মেসেজ পেলাম: যাঁর পোষ্টে কেমন্ট করেছি, উনি জানালেন যে, সামুর কাছে আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছেন; গত কয়দিন সামু আমাকে কমেন্ট ব্যান করে রেখেছিলো, গতকাল উহা ফেরত পেলাম, এখনো ধন্যবাদও জানাইনি, সকালে রিপোর্টের মেসেজ পেলাম, করোনা-ভাগ্য আমার! রিপোর্ট-করা ব্লগার গল্প লিখেছিলেন, প্লটটা আমার কাছে দুর্বল মনে হয়েছিলো।

কিছুদিন আগের কথা, এক ব্লগার সৌর জগতের উপর সায়েন্টিফিক পোষ্ট দিয়েছেন, পৃথিবী সুর্যের চারিদিকে ঘুরে; শুনে ভালোই লাগলো, পৃথিবী নিজের থেকে নিজের গরজে ঘুরছে, আমাকে তো এরজন্য কিছু করতে হচ্ছে না, ঘুরছে , ঘুরুক; আমি পৃথিবীর উপরে, ঘরের সোফায় বসে আছি; যেহেতু, আমি পৃথিবীর উপরে আছি, আমিও নিশ্চয় ঘুরছি পৃথিবীর সাথে; ভালো হয়েছে, ঘরে বসে আছি, কিন্তু ব্যায়ামটা হয়ে যাচ্ছে আপনা থেকেই। কিন্তু সমস্যা হলো চাঁদকে নিয়ে; ব্লগার লিখেছেন, চাঁদ আমাদের পৃথিবী থেকে ৩৮৪৪০০ 'বর্গ' কিলোমিটার দুরে অবস্হান করছে! প্রথমত: ব্লগে চাঁদ শব্দটা কোথায়ও দেখলে আমার মাথা ঘুরতে থাকে, বুঝতেছেন আমার নিক হচ্ছে 'চাঁদগাজী'; ব্লগে চাঁদ জাতীয় শব্দ, যেমন চাঁদাবাজী শব্দটাকে আমি প্রতিবারেই ভুলে চাঁদগাজী পড়ে ফেলি, এবং কাঁপতে থাকি, পোষ্টে আমার নাম কেন, রিপোর্ট টিপোর্ট হচ্ছে নাকি? যাক, এই পোষ্টে রিপোর্টের ঝামেলা ছিলো না; আমার মনে হলো 'বর্গ কিলোমিটার' তো এরিয়ার একক, উহা তো দুরত্বের একক নয়; আমি কমেন্ট করে জানালাম যে, ব্লগার ভুল করেছেন; ব্লগার গেলেন ক্ষেপে, কোথায় ধন্যবাদ, উনি আমাকে কমেন্ট ব্যান করে দিলেন। আমি ব্যতিত আরো ১৮ জন কমেন্ট করে ধন্যবাদ নিয়ে চলে গেছেন, আমি কমেন্ট ব্যানের ডাব্বা পেলাম! কিছুদিন পরে উনার আরেক পোষ্ট পড়লাম, উহা পদ্মাসেতু নিয়ে; সেখানে লেখা, সেতুর 'আয়তন' ৬.১ বর্গ কিলোমিটার; যাক, আমার কমেন্ট করা লাগেনি, উনি আগেই সুন্নতটা সেরে রেখেছিলেন, আমি উনার কমেন্ট ব্যানে ছিলাম। উনার 'বর্গ' সমস্যা হয়তো এখনো আছে; আর যাদের ধন্যবাদ পাবার রেশনকার্ড আছে, উনারা ধন্যবাদ পেয়েই যাচ্ছেন।

১২/১৩ বছর আগের কথা, কাজ করতে গেছি ফ্লোরিডার বোকারাতেন শহরে; প্রথমবার গেলাম ঐদিকে; উঠতে হলো হোটেলে, এলাকার নাম ডিয়ারপার্ক; নামের সাথে মিল আছে, হোটেলের পেছনে লেইকের পাশে দিনের বেলায় অনেক হরিণ ঘাস খাচ্ছে। রাতের ১০টার দিকে খেতে বের হওয়ার সময় রিসেপশানের মেয়ে জানতে চাইলো, আমি কোথায় যাচ্ছি! আমি বললাম খেতে যাচ্ছি বাহিরে; সে এবার জানতে চাইলো আমার গাড়ী কোথায়? গাড়ী হোটেলের পেছনের পার্কিং লটে। সে আমাকে লবিতে বসতে বললো, আমার গাড়ীর ছাবিটা ওকে দিতে বললো। আমি কারণ জানতে চাইলাম, সে জানালো যে, আমি যেহেতু এলাকায় নতুন, সে নিজেই গাড়ীটা হোটেলের সামনে নিয়ে আসবে। তাই হলো; এবং বললো, ফিরে আসার পর, গাড়ী যেন সামনের পার্কিং লটে রাখি। খেয়ে আসার পর, আমি জানতে চাইলাম, ব্যাপার কি? সে জানালো যে, পেছনের লেইকে সম্প্রতি ক্রোক দেখা গেছে! ক্রোক আবার কি? সে বুঝায়ে দিলো, কুমীর।

আগের দিনে, ফ্লোরিডা ও লুজিয়ানার অনেক এলাকায় মানুষ রাতে বের হতে অনেক হুশিয়ার থাকতো; রাস্তাঘাটে, ডোবায়, নালায়, খালে বিলে কুমীর ছিলো প্রচুর। এখন ফ্লোরিডায় নতুন সমস্যা অজগর সাপ। এখন ফ্লোরিডা হলো ঘন বসবাসের রাজ্য, এখন এভারগ্লেইড এলাকা ব্যতিত অন্য এলাকায় কুমির খুবই কম। তারপরও বছরে ১ বার ৭০০০ মানুষকে কুমীর শিকারের লাইসেন্স দেয়; মাথাপিছু যথাসম্ভব ২টা কুমীর মারার নিয়ম। মানুষ প্রথম দিনেই ২টা মেরে ফেলে; "বেইট" মেইট দিতে হয় না। আগের দিনে লাইসেন্সের দরকার হতো না, যার সাহস আছে, গিয়ে মেরে নিয়ে আসগে; পারলে ছামড়া বিক্রয় করো, খাও, যা ইচ্ছে তাই করো।

সেই ফ্লোরিডায় নাকি আগের দিনে কুমীর শিকারের জন্য "কালোদের বাচ্চাকে বেইট হিসেবে ব্যবহার করা হতো"; এসব রূপকথা পড়লে আমি তো নিশ্চয় ২/১টা কমেন্ট করবো। সেটাই করলাম ব্লগে, অমনি লেখক আমাকে নিয়ে লেগে গেছেন। যাক, উনি আমাকে ব্যান করেনি, রাজাকার ফাজাকার ডেকেছেন; উনার কিছু ভক্ত পাঠকও ক্ষেপে গেছে আমার উপর।

আমেরিকা দুনিয়ার বড় রূপকথার দেশ, রূপকথা দিয়ে এরা বিলিয়ন ডলার আয় করে; আজকে আমেরিকায় সবচেয়ে বড় রূপকথা হলো "বিগফুট" (বন্য মানুষ) আর এলিয়েন; কোটী ভিডিও বিক্রয় হয়েছে, টেলিভিশনে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রোগ্রাম হচ্ছে, বিগফুট ও এলিয়েনের সাইট ট্যুরের'এর ব্যবস্হা আছে, যাদুঘর আছে; হুলস্হুল কাজ কারবার, বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা; আসলে পুরোটা হাউকাউ। কেহ চাইলে লিখে ব্লগ ভরায়ে ফেলতে পারবেন। কিন্তু উহাকে ব্লগে ফ্যাক্ট হিসেবে লিখতে গেলে, কেহ না কেহ ইহার বিপক্ষে কমেন্ট করবেন নিশ্চয়ই; আমি তো অবশ্যই এসব রূপকথার বিপক্ষে কমেন্ট করবো; শুরু হবে কমেন্ট ব্যান, প্যানপ্যান, গ্যানগ্যান।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২০ রাত ১০:৪১
৮৯টি মন্তব্য ৮৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×