
১৯৭২ সালে দেশে মানুষ ছিলেন মাত্র সাড়ে ৭ কোটী, দেশে সম্পদের অভাব ছিলো না; কিন্তু মানুষের খাবার ছিলো না, পড়ালেখার সুযোগ ছিলো না, মানুষ ছিলেন বেকার, বেশীরভাগ মানুষের থাকার মতো ঘর ছিলো না। তখনও বাজেট হয়েছে, তখনো পত্রিকায় ম্যাঁওপ্যাঁও হয়েছে; আসলে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি, ১৯৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছে। ১৯৭২ সাল, ১৯৭৩ সাল, ১৯৭৪, ১৯৭৫ সালে বেশীরভাগ মানুষ সারাদিন কিছু করেনি, কাজ নেই, খাবারও নেই; কাজের মাঝে একটা কাজ ছিলো, মায়েরা সন্তান প্রসব করেছেন প্রতি বছর; বুকে দুধ ছিলো না সন্তানকে দেয়ার মতো। এমন সব বাজেট করেছে যে,দেশের বেশীরভাগ মানুষ বেকার; মানুষ সারাদিন বাড়ীতে, করার মতো কিছু নেই; শেখ সাহেব টেলিভিশনে সারাক্ষণ কিছু একটা বলছে; উনার ম্যাঁওপ্যাঁও শোনাই জাতির একটা বড় কাজ ছিলো।
এখন দেশের অবস্হা ভালো, বাজেট কোন সমস্যা নয়, চীনারা আমাদের সেতু বানায়, রাস্তা বানায়, ইপিজেড বানায়,ইনফ্রাষ্ট্রাকচার বানিয়ে দিচ্ছে, নকল জিনিষ দিচ্ছে; আমাদের ইন্জিনিয়ারেরা সামুতে কবিতা লেখেন, হাদিস ব্যাখ্যা করেন। ভারতীয়রা আমাদের গার্মেন্টস ও কল-কারখানার ম্যানেজার, ফাইন্যান্স অফিসার; আমাদের ছেলেরা টিউশানী করে, আর কবিতা লিখে সামুর সার্ভারের হার্ড-ড্রাইভ ভরায়ে ফেলে। দেশ ভরে গেছে ক্লিনিক ও হাসপাতালে; প্রেসিডেন্ট কাশি দিলে মাইন্ট এলিজাবেথ চলে যান, বেগম জিয়া যেতেন সৌদী, প্রাইম মিনিষ্টার যেতেন আমেরিকা; যারা খাদ্যে ভেজাল ও কেমিক্যাল মিশায়, তারা কালো টাকায় ভারতে চিকিৎসা করায়।
কিবরিয়া সাহেব, সাইফুর রহমান, মুহিত সাহেব আমাদের বাজেট করেছেন এমনভাবে যে, আমাদের পুরুষেরা চলে গেছেন আরব দেশে, মালয়েশিয়া; কিছু আবার পায়ে হেঁটে চলে গেছেন দ; আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান; কেহ কেহ নৌকায় করে চলে গেছেন ইউরোপে; বৌয়েরা রাতে একলা ঘুমাতে যায়; সাইফুর রহমান ও মুহিত সাহবে বুড়ো বউ নিয়ে আইফেল টাওয়ার দেখতে যান।
বাজেট করতে হলে, টাকা আয় করতে জানতে হয়, টাকা ব্যয় করতে জানতে হয়; মানুষের শ্রম থেকে টাকা আয় হয়, সম্পদ তৈরি হয়; মানুষ বেকার থাকলে সম্পদ কিভাবে হবে? মানুষ আরব চলে গেলে, আরবদের সম্পদ বাড়বে। বউ ফেলে বিদেশে পড়ে থাকলে এটাকে কি জীবন বলে? প্রশাসনের লোকেরা ঢাকায় নিজের বউ ঘরে রেখে, বাইরের মেয়ের সাথেও জিং জিং করে; আর বাংগালী যুবকেরা মরুভুমিতে চিৎ হয়ে শুয়ে আকাশের তারা গোনে!
টাকা দিয়ে টাকা আয় করতে হয়, জ্ঞানীদের মগজের মাঝে টাকার জন্ম হয়। আমাদের বাজেটের মন্ত্রীরা ছিলেন বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনার কাঁচা বাজার করার ছেলেদের মতো, না জানে ভালো জিনিষ কিনতে, না জানে পয়সার হিসেবে রাখতে, দুনিয়ার ভোলা ভুতু হাবাদের খুঁজে বের করেছিলেন বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনা।
এবার আমাদের মন্ত্রী নাকি ৫ লাখ কোটী থাকার বাজেট করছেন; করোনা টাকা প্রসব করছে, মনে হয়! দেশে কাজ হচ্ছে না, ব্যবসা নেই, বাণিজ্য নেই, মানুষ মরলে কেহ কবর দিতে যায় না, উনি ৫ লাখ কোটী খরচ করবেন, দুনিয়ার ভোলা ভু্তু হাবা।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০২০ সকাল ৯:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



