
করোনা ও পরবর্তী সময়ে জাতির স্বাস্হ্য রক্ষার জন্য হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, ফার্মেসী ব্যবসা প্রথমে সরকারের মালিকানায় নিয়ে, পরে সাধারন মানুষের মালিকানায় ছেড়ে দেয়া উচিত; আমদের মতো জাতিতে মানুষের প্রাণ কোনভাবে প্রাইভেট কর্পোরেশনের হাতে দেয়া যেতে পারে না।
আমেরিকা, ইতালী, স্পেন, রাশিয়া, ব্রাজিলে বেশী মৃত্যু হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, স্বাস্হ্য সেবাকে প্রাইভেট কর্পোরেশনের হাতে ছেড়ে দেয়া, হেলথ ইন্স্যুরেন্সকে প্রাইভেট কর্পোরেশনের হাতে তুলে দেয়া; ওরা আসলে মানুষের প্রাণকে প্রাইভেটের হাতে তুলে দিয়েছে।
একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে, বাংলাদেশে হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, ক্লিনিক ও ফার্মেসীর অভাব নেই; বরং, মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান হিসেবে করলে, আমাদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা অনেক বেশী। দেশে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডাক্তারের চেম্বার ও ফার্মেসী যেভাবে ব্যবসা করছে, উহা প্রমাণ করছে জাতির স্বাস্হ্য ভালো নয়।
জাতির স্বাস্হ্য অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে; কিন্তু অসুস্হ হওয়ার জন্য মুলত দায়ী পরিবেশ, খাবার ও ঔষধ; কম পরিসরে এত বেশী জনসংখ্যার দেশে পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য অধিবাসীদের খুবই শিক্ষিত ও জ্ঞানী হওয়ার দরকার; আমাদের জ্ঞানের ঘাটতি আছে। খারাপ, বিষাক্ত খাবার খেয়ে মানুষ সাথে সাথেও মৃত্যুবরণ করতে পারে, কিংবা ক্রমেই অসুস্হ হতে পারে; বাংলাদেশের মানুষ ভেজাল ও বিষাক্ত খাবার খেয়ে ক্রমশ অসুস্হ হয়ে চলেছে।
দেশে এতো হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, ক্লিনিক, ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার, ডাক্তরের চেম্বার, ফার্মেসী থাকা সত্বেও মানুষ চায় ভারত, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, ইউরোপ, আমেরিকা যেতে; যাদের সামর্থ আছে, তারা দেশে চিকিৎসা নেয় না। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তকে দেশের ভেতরেরই চিকিৎসা করাতে হয়।
আমাদের মতো দেশে কোন অবস্হায়ই হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, ক্লিনিক, ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার ও ফার্মেসী প্রাইভেটের হাতে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে না। যদি এসবকে সরকারের বাহিরে ছাড়তে হয়, তা'হলে মানুষের মালিকানায় ছেড়ে দেয়া উচিত, যেখানে মানুষ নিজের চিকিৎসা করাবে মালিক হিসেবে, কিন্তু ইহা যেন লাভজনক বিনিয়োগ না হয়।
হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, ক্লিনিক, ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার ও ফার্মেসীকে কিভাবে সাধারণ মানুষের মালিকানায় ছেড়ে দেয়া যায়? এটি খুবই সহজ, এই ব্যবসাগুলোকে একটি সংস্হায় পরিণত করার জন্য সরকার মানুষের কাছে বন্ড বিক্রয় করবে; প্রতিটি নাগরিককে ও পরিবারকে একটা মিনিমাম পরিমাণ বন্ড কিনতে হবে, এটাই হবে নাগরিক কিংবা পরিবারের স্বাস্হ্য বীমা; যত সময় অবধি সংস্হার মুল্য উঠে না আসে, তত সময় সরকার ইহাতে ঋণ ও কিছু সাবসিডিয়ারী দিতে পারে। মিনিমামের পর, কোন ব্যক্তি কিংবা পরিবার এই বন্ড কিনতে পারে বিনিয়োগ বন্ড হিসেবে। রাষ্ট্রের অন্য বন্ডগুলোর সমান ইন্টারেষ্টে এই বন্ডগুলোতে দিলে, মানুষ ইহাতে বিনিয়োগ করবে।
সংস্হা যদি নিজের মুলধন পেয়ে যায় নাগরিকদের থেকে, ইহার কিছু সীমিত শেয়ার তখন বন্ডের মালিকদের দেয়া যেতে, শেয়ারের টাকা থেকে নতুন নতুন সাবসিডিয়ারী খোলা সম্ভব।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



